ঢাকা ০৫:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
শীতের বাজারে লাল শাকের কদর বেড়েছে: ১০ টাকার শাকে লুকিয়ে আছে সুস্থ থাকার রহস্য হিজরার ঝুলন্ত ম*র*দেহ উদ্ধার পরিবার লা*শ নিতে অস্বীকৃতি, বাঘায় নকল ওষুধের কারখানায় অভিযান, এক লাখ টাকা জরিমানা ইউপি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করতে খলিসাকুন্ডি ইউনিয়ন বিএনপির মতবিনিময় সভা নাগরপুর বাজার বণিক সমিতির নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা ছাতারপাড়াতে প্রধানমন্ত্রী গোল্ডকাপ:টাইব্রেকারের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে নওদাআজমপুরকে হারিয়ে গাছেরদাইড় ফুটবল একাদশের দুর্দান্ত জয়। স্বেচ্ছায় রক্তদান ফাউন্ডেশন কুষ্টিয়ার ১১৭ সদস্যের নতুন কমিটি অনুমোদন শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবির চতুর্থ দিন, অফিস সাধারণ ছুটি, গ্রেফতার হচ্ছে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীরা ভেড়ামারায় নদীভাঙন ও অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৩৫০ পানচাষীকে বিনামূল্যে চাল বিতরণ সবুজকলি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ

দশমিনায় সূর্যমুখীর বাম্পার ফলন

দশমিনা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দশমিনায় সূর্যমুখীর বাম্পার ফলন হয়েছে। গাছে গাছে ফুটেছে ফুল। এ যেন এক ফুলের স্বর্গরাজ্য। সবুজে ঘেরা প্রকৃতির মাঝে হলুদ রঙের সূর্যমুখী দূর থেকে যে কারো মনকেড়ে নেবে। তাই সূর্যমূখী মাঠে দর্শনার্থীদের পদচারণা বেড়েছে। মাঠে কৃষকের স্বপ্ন সূর্যমুখী ফুলে রঙিন হয়েছে। সূর্যমুখীর বাম্পার ফলন গ্রামীণ অর্থনীতিতে সম্ভাবনার হাতছানি দিচ্ছে।

সূর্যমুখী দেখতে রূপময় নয় গুণেও অনন্য। সূর্যমুখীর বীজের তেল স্বাস্থ্যর জন্য অসাধারণ। অন্যান্য তেলবীজে যেসব ক্ষতিকারক উপাদান থাকে সূর্যমুখীতে তা নেই। বরং আরও উপকারী উপাদান ও পুষ্টিগুণ বিদ্যমান। কৃষিতে একের পর এক বিপ¬ব সৃষ্টি করছে বর্তমান সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় কৃষিতে সাফল্যে মুজিববর্ষের অঙ্গীকার হিসাবে সূর্যমুখী চাষে নতুন স্বপ্ন দেখছে কৃষক। আর্থিকভাবে লাভবানের হাতছানি দিয়েছে কৃষকদের কাছে সূর্যমুখী। সূর্যমুখী ফুলের বীজ থেকে সহজে উন্নত মানের তেল ও খৈল উৎপাদন হয়।

পাশাপাশি পুষ্টিকর সবজি হিসেবেও সূর্যমুখী জনপ্রিয়। সেই সাথে জ্বালানির চাহিদা পূরণেও ভূমিকা আছে। উপজেলার কৃষি অফিস সূত্র মতে, উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে ৬০হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় দেড়গুন বেশি। সূর্যমুখী চাষে আগ্রহী কৃষকরা সরকারিভাবে পেয়েছেন বীজ ও সার। এবার যে সকল কৃষক সূর্যমুখী চাষ করেছেন সেই সকল কৃষক আগামী আউশ ও আমন মৌসুমেও সরকারের প্রণোদনার সুযোগ পেতে যাচ্ছেন।

সূর্যমুখী বীজ রোপণের ৪ মাসের মধ্যে কৃষকেরা ফুল থেকে বীজ ঘরে তুলতে পারেন। প্রতি হেক্টরে ১.৮-২ টন বীজ পাওয়া যায়। কৃষক ২৬শ’ টাকা দরে বীজ বিক্রি করতে পারবে। সূর্যমুখীর প্রতিকেজি বীজ আধা লিটার তেল উৎপাদন সম্ভব। কৃষকের সূর্যমুখীর চাষের উপর দেয়া হয়েছে প্রশিক্ষণ। বাজারে তেলের চাহিদা পূরণ করতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে সূর্যমুখীর তেল।

এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। আর দারিদ্র্য বিমোচনে সূর্যমুখী চাষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সরকারিভাবে কৃষি বিভাগের পক্ষে কৃষকদের সূর্যমুখী চাষ প্রণোদনা আওতায় সূর্যমুখী আবাদ স¤প্রসারণ করা হয়েছে। কারণ সূর্যমুখীর ফলও বীজ দুটোই বিক্রিযোগ্য। উপজেলার নিজাবাদ গ্রামের সূর্যমুখী চাষি মোঃ মানিক হাওলাদার জানান, সুর্যমুখী আবাদ এই বারই প্রথম করছেন তিনি।

এটি নতুন স্বপ্ন তার। সূর্যমুখীর যে ফুল এসেছে তা দেখে ভালো ফলনের আশা করছেন এই উদ্যোক্তা। তিনি চান সূর্যমুখী তেলের কারখানা গড়ে উঠুক আর সেখানে এ উপজেলার কৃষকরা সেখানে বীজ বিক্রি করে লাভবান হোক। আরেক কৃষক কাজী কামাল জানান, সূর্যমুখী চাষে কম খরচে বেশি লাভ। ফলন ভালো হলে অন্যান্য আবাদের চেয়ে সূর্যমুখী অনেক লাভজনক।

উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ জাফর আহাম্মেদ বলেন, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর ব্যাপক সূর্যমুখী চাষ হয়েছে। সূর্যমুখী চাষের জন্য আবহাওয়া ও মাটি অত্যান্ত উপযোগী। ফলে চলতি বছরেও সরকারি প্রণোদনায় কৃষকদের মাধ্যমে ব্যাপকভাবে সূর্যমুখী চাষ বাড়ানো হয়। এটি একটি ভালো তেল ফসল।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

শীতের বাজারে লাল শাকের কদর বেড়েছে: ১০ টাকার শাকে লুকিয়ে আছে সুস্থ থাকার রহস্য

দশমিনায় সূর্যমুখীর বাম্পার ফলন

আপডেট টাইম : ০৯:২৩:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ মার্চ ২০২১

দশমিনা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দশমিনায় সূর্যমুখীর বাম্পার ফলন হয়েছে। গাছে গাছে ফুটেছে ফুল। এ যেন এক ফুলের স্বর্গরাজ্য। সবুজে ঘেরা প্রকৃতির মাঝে হলুদ রঙের সূর্যমুখী দূর থেকে যে কারো মনকেড়ে নেবে। তাই সূর্যমূখী মাঠে দর্শনার্থীদের পদচারণা বেড়েছে। মাঠে কৃষকের স্বপ্ন সূর্যমুখী ফুলে রঙিন হয়েছে। সূর্যমুখীর বাম্পার ফলন গ্রামীণ অর্থনীতিতে সম্ভাবনার হাতছানি দিচ্ছে।

সূর্যমুখী দেখতে রূপময় নয় গুণেও অনন্য। সূর্যমুখীর বীজের তেল স্বাস্থ্যর জন্য অসাধারণ। অন্যান্য তেলবীজে যেসব ক্ষতিকারক উপাদান থাকে সূর্যমুখীতে তা নেই। বরং আরও উপকারী উপাদান ও পুষ্টিগুণ বিদ্যমান। কৃষিতে একের পর এক বিপ¬ব সৃষ্টি করছে বর্তমান সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় কৃষিতে সাফল্যে মুজিববর্ষের অঙ্গীকার হিসাবে সূর্যমুখী চাষে নতুন স্বপ্ন দেখছে কৃষক। আর্থিকভাবে লাভবানের হাতছানি দিয়েছে কৃষকদের কাছে সূর্যমুখী। সূর্যমুখী ফুলের বীজ থেকে সহজে উন্নত মানের তেল ও খৈল উৎপাদন হয়।

পাশাপাশি পুষ্টিকর সবজি হিসেবেও সূর্যমুখী জনপ্রিয়। সেই সাথে জ্বালানির চাহিদা পূরণেও ভূমিকা আছে। উপজেলার কৃষি অফিস সূত্র মতে, উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে ৬০হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় দেড়গুন বেশি। সূর্যমুখী চাষে আগ্রহী কৃষকরা সরকারিভাবে পেয়েছেন বীজ ও সার। এবার যে সকল কৃষক সূর্যমুখী চাষ করেছেন সেই সকল কৃষক আগামী আউশ ও আমন মৌসুমেও সরকারের প্রণোদনার সুযোগ পেতে যাচ্ছেন।

সূর্যমুখী বীজ রোপণের ৪ মাসের মধ্যে কৃষকেরা ফুল থেকে বীজ ঘরে তুলতে পারেন। প্রতি হেক্টরে ১.৮-২ টন বীজ পাওয়া যায়। কৃষক ২৬শ’ টাকা দরে বীজ বিক্রি করতে পারবে। সূর্যমুখীর প্রতিকেজি বীজ আধা লিটার তেল উৎপাদন সম্ভব। কৃষকের সূর্যমুখীর চাষের উপর দেয়া হয়েছে প্রশিক্ষণ। বাজারে তেলের চাহিদা পূরণ করতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে সূর্যমুখীর তেল।

এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। আর দারিদ্র্য বিমোচনে সূর্যমুখী চাষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সরকারিভাবে কৃষি বিভাগের পক্ষে কৃষকদের সূর্যমুখী চাষ প্রণোদনা আওতায় সূর্যমুখী আবাদ স¤প্রসারণ করা হয়েছে। কারণ সূর্যমুখীর ফলও বীজ দুটোই বিক্রিযোগ্য। উপজেলার নিজাবাদ গ্রামের সূর্যমুখী চাষি মোঃ মানিক হাওলাদার জানান, সুর্যমুখী আবাদ এই বারই প্রথম করছেন তিনি।

এটি নতুন স্বপ্ন তার। সূর্যমুখীর যে ফুল এসেছে তা দেখে ভালো ফলনের আশা করছেন এই উদ্যোক্তা। তিনি চান সূর্যমুখী তেলের কারখানা গড়ে উঠুক আর সেখানে এ উপজেলার কৃষকরা সেখানে বীজ বিক্রি করে লাভবান হোক। আরেক কৃষক কাজী কামাল জানান, সূর্যমুখী চাষে কম খরচে বেশি লাভ। ফলন ভালো হলে অন্যান্য আবাদের চেয়ে সূর্যমুখী অনেক লাভজনক।

উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ জাফর আহাম্মেদ বলেন, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর ব্যাপক সূর্যমুখী চাষ হয়েছে। সূর্যমুখী চাষের জন্য আবহাওয়া ও মাটি অত্যান্ত উপযোগী। ফলে চলতি বছরেও সরকারি প্রণোদনায় কৃষকদের মাধ্যমে ব্যাপকভাবে সূর্যমুখী চাষ বাড়ানো হয়। এটি একটি ভালো তেল ফসল।