ঢাকা ১১:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
নাগরপুরে সদ্য যোগদানকৃত উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর পরিচিতি ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত নাগরপুর উপজেলা কিন্ডারগার্টেন সমিতির বৃত্তিপ্রাপ্ত মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে এক নারীকে গোপনে বিয়ে এবং অন্য নারীকে বিয়ে করে সংসার করার অভিযোগ। অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, রাজশাহী সার্কেলের ব্যবসায়িক সম্মেলন অনুষ্ঠিত ভেড়ামারায় পদ্মা নদীতে সন্ত্রাসীদের ছোড়া  গুলিতে ১ জন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রাজশাহীর পবায় ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে জামায়াত কর্মী আটক নাসীরুদ্দীনকে বাদ দিয়ে কর্মসূচি করুন, বিএনপি সহযোগিতা করবে : রাশেদ খান জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে তিনটি মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান সম্পূর্ণ ধ্বংস আমি যদি আমার ভাইয়ের সঙ্গেও ছবি দিই, সেখানেও গালি খাই: পরিমনি দৌলতপুরে ভিক্ষুকদের স্বাবলম্বী করতে ছাগল বিতরণ

নওগাঁয় মুক্তিযুদ্ধের তিন ভাস্কর্য ভাঙচুরের দেড় বছরেও হয়নি সংস্কার

নওগাঁয় মুক্তিযুদ্ধের তিন ভাস্কর্য ভাঙচুরের দেড় বছরেও হয়নি সংস্কার

মোহাম্মদ আককাস আলী,নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: 
চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নওগাঁয় মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে থাকা তিন ভাস্কর্য ভাঙচুরের দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো সংস্কার হয়নি। ভাঙাচোরা অবস্থায় ভাস্কর্যগুলো মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। জেলা প্রশাসন কিংবা গণপূর্ত অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সেগুলো সংস্কারে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর নওগাঁ শহরের ব্রিজের মোড় ও মান্দা উপজেলার প্রসাদপুর বাজারের গোলচত্বরে মুক্তিযোদ্ধা স্তম্ভ এবং পত্নীতলা উপজেলার নজিপুর পৌরসভার জিরো পয়েন্ট এলাকায় মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ ভাঙচুর করা হয়। এখন কোথাও ভাস্কর্যগুলো মাটির সঙ্গে মিশে গেছে, কোথাও ভাস্কর্যের অবশিষ্টাংশ পড়ে আছে।
জেলা প্রশাসন ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের নওগাঁ কার্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার দেড় বছরেও ভেঙে ফেলা ভাস্কর্যগুলো সংস্কারে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। নবনির্বাচিত বিএনপি সরকারও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্নগুলো সংস্কারে এখন পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের নওগাঁর নির্বাহী প্রকৌশলী এ এইচ এম শাহরিয়ার জানান, জেলার যেসব ভাস্কর্য ভাঙচুর করা হয়েছে, সেগুলো সংস্কারে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। নতুন সরকারও এখন পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা দেয়নি। সরকারি নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত এগুলো সংস্কারের ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নিতে তাঁরা পারছেন না।
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নওগাঁ জেলা ইউনিটের আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম জানান, মহান মুক্তিযুদ্ধে নওগাঁর মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। সেসব মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মান জানাতে নওগাঁ শহর, নজিপুর পৌরসভা ও মান্দার প্রসাদপুরে মুক্তিযোদ্ধা ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়েছিল। ৫ আগস্ট সেই ভাস্কর্যগুলো মুহূর্তের মধ্যে ভেঙে ফেলা হয়। এসব স্মৃতিচিহ্ন না থাকলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সঠিক ইতিহাস থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্যগুলো আবার নির্মাণ করা উচিত।
Tag :

নাগরপুরে সদ্য যোগদানকৃত উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর পরিচিতি ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত

নওগাঁয় মুক্তিযুদ্ধের তিন ভাস্কর্য ভাঙচুরের দেড় বছরেও হয়নি সংস্কার

আপডেট টাইম : ০৮:১৩:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

নওগাঁয় মুক্তিযুদ্ধের তিন ভাস্কর্য ভাঙচুরের দেড় বছরেও হয়নি সংস্কার

মোহাম্মদ আককাস আলী,নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: 
চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নওগাঁয় মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে থাকা তিন ভাস্কর্য ভাঙচুরের দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো সংস্কার হয়নি। ভাঙাচোরা অবস্থায় ভাস্কর্যগুলো মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। জেলা প্রশাসন কিংবা গণপূর্ত অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সেগুলো সংস্কারে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর নওগাঁ শহরের ব্রিজের মোড় ও মান্দা উপজেলার প্রসাদপুর বাজারের গোলচত্বরে মুক্তিযোদ্ধা স্তম্ভ এবং পত্নীতলা উপজেলার নজিপুর পৌরসভার জিরো পয়েন্ট এলাকায় মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ ভাঙচুর করা হয়। এখন কোথাও ভাস্কর্যগুলো মাটির সঙ্গে মিশে গেছে, কোথাও ভাস্কর্যের অবশিষ্টাংশ পড়ে আছে।
জেলা প্রশাসন ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের নওগাঁ কার্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার দেড় বছরেও ভেঙে ফেলা ভাস্কর্যগুলো সংস্কারে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। নবনির্বাচিত বিএনপি সরকারও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্নগুলো সংস্কারে এখন পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের নওগাঁর নির্বাহী প্রকৌশলী এ এইচ এম শাহরিয়ার জানান, জেলার যেসব ভাস্কর্য ভাঙচুর করা হয়েছে, সেগুলো সংস্কারে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। নতুন সরকারও এখন পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা দেয়নি। সরকারি নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত এগুলো সংস্কারের ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নিতে তাঁরা পারছেন না।
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নওগাঁ জেলা ইউনিটের আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম জানান, মহান মুক্তিযুদ্ধে নওগাঁর মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। সেসব মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মান জানাতে নওগাঁ শহর, নজিপুর পৌরসভা ও মান্দার প্রসাদপুরে মুক্তিযোদ্ধা ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়েছিল। ৫ আগস্ট সেই ভাস্কর্যগুলো মুহূর্তের মধ্যে ভেঙে ফেলা হয়। এসব স্মৃতিচিহ্ন না থাকলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সঠিক ইতিহাস থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্যগুলো আবার নির্মাণ করা উচিত।