ঢাকা ০১:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
প্রতিভা মডেল একাডেমিতে উৎসবমুখর পরিবেশে ‘ফল উৎসব ও মা সমাবেশ’ অনুষ্ঠিত। ভেড়ামারায় উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর পাট চাষী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত মোহনপুরে গ্রেফতারের পর জামাই আদরে সাজাপ্রাপ্ত আসামি,অপরাধ দমনেও ব্যর্থ পুলিশ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে নারী  শিক্ষার্থীদের সাথে এসপি তারিকুল ইসলাম এর মত বিনিময়  শীশীঘ্রই চালু হচ্ছে সিলেটে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল তানোরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন ও কমিউনিটি পুলিশিং সভা আয়োজন  দৌলতপুরে সাপের আতঙ্ক: দুই সপ্তাহে ৮ জন আক্রান্ত, শিশুর মৃত্যু অনলাইনে হাজিরা দিতে আমগাছে প্রধান শিক্ষক, ভাইরাল ছবি ঘিরে আলোচনা রাজশাহীতে এজাহার নামীয় আসামী ধরতে ব্যর্থ হচ্ছে বোয়ালিয়া মডেল থানা রাজশাহীতে সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিক তন্ময় দেবনাথের ওপর সন্ত্রাসী হামলা

রাজশাহীতে এজাহার নামীয় আসামী ধরতে ব্যর্থ হচ্ছে বোয়ালিয়া মডেল থানা

রাজশাহীতে এজাহার নামীয় আসামী ধরতে ব্যর্থ হচ্ছে বোয়ালিয়া মডেল থানা

 

রাজশাহী ব্যুরো: দীর্ঘদিন থেকে উপশহর এলাকার এক নারীকে সহযোগিতা আশ্বাস দিয়ে আরেক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা বক্তব্যের ভিডিও ধরনের পর ভাইরাল করার ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায় ও মানহানীর অভিযোগে মামলা দায়ের করা হলেও আসামীরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। আসামীরা হলেন, এহসান হাবিব তারা (৪২), অভিলাস দাস তমাল (৩৫)সহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গত ৪ জুন ভুক্তভোগী ঐ নারী বাদী হয়ে ২০২৬ সালের সাইবার সুরক্ষা আইনের ২৫ ধারাসহ ৩৮৫/৩৮৬/৫০০/৫০৬ ধারায় বোয়ালিয়া থানায় মামলাটি করেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সন্ধ্যায় বোয়ালিয়া মডেল থানাধীন উপশহর এলাকায় তার বাসায় এসে অভিযুক্ত এহসান হাবিব তারা, অভিলাস দাস তমাল এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। লোকলজ্জা ও সামাজিক সম্মানের কথা বিবেচনা করে বাদী নগদ, বিকাশ ও অন্যান্য মাধ্যমে মোট সাড়ে তিন লাখ টাকা প্রদান করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তীতে অভিযুক্তরা বাকি দেড় লাখ টাকার জন্য চাপ ও হুমকি দিতে থাকেন। তিনি ওই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে তার এবং রাজিব আলী রাতুলের ব্যক্তিগত ও সামাজিক সম্মানহানির উদ্দেশ্যে ভিডিওটি ফেসবুকের বিভিন্ন পেজ ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।
মামলায় তিনি আরও উল্লেখ করেন, তার পূর্ব পরিচিত রাজিব আলী রাতুল ও রাতুলের পিতা মাসুদ রানা সরকারের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ধারণ করা একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে তাকে ব্ল্যাকমেইল করে আসছিল।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে এই এহসান হাবিব তারার বিরুদ্ধে গর্ভবতী এক নারীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে কাজ না করা, সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে মাদক ব্যবসায়ী ও জুয়া সিন্ডিকেটের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা গ্রহণ, প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আদায় এবং নিজেই একটি প্রেসক্লাব গঠন করে সভাপতি দাবি করার অভিযোগ রয়েছে। আবার সেই প্রেসক্লাবের সদস্য হিসেবে তার তিন ভাইকে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এহসান হাবিব তারার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত অভিলাস দাস তমালের বিরুদ্ধেও মাদক, জুয়া এবং ব্যাংক ও এনজিওর চেকসংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, তমাল নারী সাপ্লাই, হানি ট্র্যাপ এবং অনলাইন জুয়ার ব্যবসা পরিচালনা করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তাদের দাবি, তার নেতৃত্বে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাং গড়ে উঠেছে, যাদের মাধ্যমে মাদক ব্যবসাও পরিচালিত হয়। এ সময় তারা প্রশ্ন তোলেন, একজন ব্যক্তি কীভাবে অল্প সময়ে নগরীর নিউ মার্কেট এলাকায় চারতলা ভবন নির্মাণ করতে পারেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলেও তারা মন্তব্য করেন।

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো নুরুন্নবী হোসেন জানান, মামলাটির তদন্ত চলছে। এর জন্য যেসব জায়গায় আবেদন করার প্রয়োজন সেগুলো করেছি। এখনও কোনো আসামি আটক হয়নি তবে আসামি ধরার চেষ্টা চালাচ্ছি।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিভা মডেল একাডেমিতে উৎসবমুখর পরিবেশে ‘ফল উৎসব ও মা সমাবেশ’ অনুষ্ঠিত।

রাজশাহীতে এজাহার নামীয় আসামী ধরতে ব্যর্থ হচ্ছে বোয়ালিয়া মডেল থানা

আপডেট টাইম : ০৬:৩২:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

রাজশাহীতে এজাহার নামীয় আসামী ধরতে ব্যর্থ হচ্ছে বোয়ালিয়া মডেল থানা

 

রাজশাহী ব্যুরো: দীর্ঘদিন থেকে উপশহর এলাকার এক নারীকে সহযোগিতা আশ্বাস দিয়ে আরেক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা বক্তব্যের ভিডিও ধরনের পর ভাইরাল করার ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায় ও মানহানীর অভিযোগে মামলা দায়ের করা হলেও আসামীরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। আসামীরা হলেন, এহসান হাবিব তারা (৪২), অভিলাস দাস তমাল (৩৫)সহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গত ৪ জুন ভুক্তভোগী ঐ নারী বাদী হয়ে ২০২৬ সালের সাইবার সুরক্ষা আইনের ২৫ ধারাসহ ৩৮৫/৩৮৬/৫০০/৫০৬ ধারায় বোয়ালিয়া থানায় মামলাটি করেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সন্ধ্যায় বোয়ালিয়া মডেল থানাধীন উপশহর এলাকায় তার বাসায় এসে অভিযুক্ত এহসান হাবিব তারা, অভিলাস দাস তমাল এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। লোকলজ্জা ও সামাজিক সম্মানের কথা বিবেচনা করে বাদী নগদ, বিকাশ ও অন্যান্য মাধ্যমে মোট সাড়ে তিন লাখ টাকা প্রদান করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তীতে অভিযুক্তরা বাকি দেড় লাখ টাকার জন্য চাপ ও হুমকি দিতে থাকেন। তিনি ওই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে তার এবং রাজিব আলী রাতুলের ব্যক্তিগত ও সামাজিক সম্মানহানির উদ্দেশ্যে ভিডিওটি ফেসবুকের বিভিন্ন পেজ ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।
মামলায় তিনি আরও উল্লেখ করেন, তার পূর্ব পরিচিত রাজিব আলী রাতুল ও রাতুলের পিতা মাসুদ রানা সরকারের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ধারণ করা একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে তাকে ব্ল্যাকমেইল করে আসছিল।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে এই এহসান হাবিব তারার বিরুদ্ধে গর্ভবতী এক নারীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে কাজ না করা, সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে মাদক ব্যবসায়ী ও জুয়া সিন্ডিকেটের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা গ্রহণ, প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আদায় এবং নিজেই একটি প্রেসক্লাব গঠন করে সভাপতি দাবি করার অভিযোগ রয়েছে। আবার সেই প্রেসক্লাবের সদস্য হিসেবে তার তিন ভাইকে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এহসান হাবিব তারার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত অভিলাস দাস তমালের বিরুদ্ধেও মাদক, জুয়া এবং ব্যাংক ও এনজিওর চেকসংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, তমাল নারী সাপ্লাই, হানি ট্র্যাপ এবং অনলাইন জুয়ার ব্যবসা পরিচালনা করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তাদের দাবি, তার নেতৃত্বে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাং গড়ে উঠেছে, যাদের মাধ্যমে মাদক ব্যবসাও পরিচালিত হয়। এ সময় তারা প্রশ্ন তোলেন, একজন ব্যক্তি কীভাবে অল্প সময়ে নগরীর নিউ মার্কেট এলাকায় চারতলা ভবন নির্মাণ করতে পারেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলেও তারা মন্তব্য করেন।

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো নুরুন্নবী হোসেন জানান, মামলাটির তদন্ত চলছে। এর জন্য যেসব জায়গায় আবেদন করার প্রয়োজন সেগুলো করেছি। এখনও কোনো আসামি আটক হয়নি তবে আসামি ধরার চেষ্টা চালাচ্ছি।