ঢাকা ১২:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
নাগরপুরে সদ্য যোগদানকৃত উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর পরিচিতি ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত নাগরপুর উপজেলা কিন্ডারগার্টেন সমিতির বৃত্তিপ্রাপ্ত মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে এক নারীকে গোপনে বিয়ে এবং অন্য নারীকে বিয়ে করে সংসার করার অভিযোগ। অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, রাজশাহী সার্কেলের ব্যবসায়িক সম্মেলন অনুষ্ঠিত ভেড়ামারায় পদ্মা নদীতে সন্ত্রাসীদের ছোড়া  গুলিতে ১ জন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রাজশাহীর পবায় ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে জামায়াত কর্মী আটক নাসীরুদ্দীনকে বাদ দিয়ে কর্মসূচি করুন, বিএনপি সহযোগিতা করবে : রাশেদ খান জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে তিনটি মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান সম্পূর্ণ ধ্বংস আমি যদি আমার ভাইয়ের সঙ্গেও ছবি দিই, সেখানেও গালি খাই: পরিমনি দৌলতপুরে ভিক্ষুকদের স্বাবলম্বী করতে ছাগল বিতরণ

লালপুরে আমন ধানের বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে আনন্দের হাসি 

লালপুরে আমন ধানের বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে আনন্দের হাসি 

এ জেড সুজন
লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি:
নাটোরের লালপুরে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। আমন ধান দেশের অনেক এলাকার প্রধান ফসল বলা যায়, যার ফলন কার্তিক-অগ্রহায়ণে পাওয়া যায়। উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ও ১ পৌরসভায় মাঠজুড়ে এখন সোনালি ধানের শীষে কৃষকদের স্বপ্ন যেন ঝলমল করছে। অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো বৃষ্টিপাত এবং কৃষি বিভাগের সঠিক পরামর্শ পাওয়ায় এ বছর আমন আবাদ অত্যন্ত সফল হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, উপজেলার অধিকাংশ এলাকার জমিতে আমন ধান হলুদ বর্ন ধারণ করেছে। আমন ধান কাটা পুরোদমে শুরু হয়েছে। এলাকায় শ্রমিক সংকটে ধান কাটা কিছুটা ব্যহত হচ্ছে। আগামী এক দুই সপ্তাহের মধ্যে ধান কাটা শেষ হবে। ভালো ফলন হওয়ায় কৃষকদের মুখে এখন পরিপূর্ণ তৃপ্তির হাসি।
মোহরকয়া গ্রামের লিটন উদ্দিন (৪৫) তার সন্তুষ্টি প্রকাশ করে জানান, এবারের ফসল খুবই ভালো হয়েছে। আগের বছরের তুলনায় ফলন অনেক বেশি। আবহাওয়া ভালো থাকায় কোনো ক্ষতিকর পোকামাকড়ের আক্রমণও হয়নি।
বোয়ালিয়াপাড়া গ্রামের সুমন বলেন, এবারে ফলন খুব ভালো হয়েছে আগের বছরের তুলনায় আমাদের খরচ কম হয়েছে।
হাবিবপুর গ্রামের মোঃ ইসরাইল হোসেন বলেন, প্রতি বছরে তুলনায় আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পোকা মাকড় আক্রমণ কম হওয়ায় আমরা অনেক ভালো ফলন পেয়েছি এতে আমরা খুব খুশি।
কৃষি বিভাগ আরও জানিয়েছে, আমন মৌসুম শেষ হওয়ার পরপরই তারা রবি ফসলের আবাদের প্রস্তুতি শুরু করেছে। এবারের এই বাম্পার ফলন স্থানীয় কৃষকদের আর্থিকভাবে স্বস্তি দেবে এবং এর ইতিবাচক প্রভাব স্থানীয় অর্থনীতিতেও পড়বে বলে কৃষি বিভাগ দৃঢ়ভাবে আশাবাদী।
উপজেলার প্রায় সব ইউনিয়নেই বিচ্ছিন্নভাবে ধান কাটা শুরু হয়েছে এবং আমরা আশা করছি, উৎপাদনের যে লক্ষ্যমাত্রা ছিল, তা এবার ছাড়িয়ে যাবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার হোড় জানান এবার ৯ হাজার ১শ ৮৫ হেক্টর জমিতে আমনে ধানের লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হয়েছে। আবহাওয়া ভালো থাকায় ফলন হয়েছে। পোকামাকড়ের আক্রমণও ছিল খুবই কম। কৃষকরা প্রয়োজনীয় সার ও বীজ পাওয়ায় চাষাবাদে তাদের কোনো বেগ পেতে হয়নি। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আমনের বাম্পার ফলন হবে বলে তিনি জানান।
প্রকৃতি সহায়ক হওয়ায় কৃষক তার আমন ফসল ঘরে নিতে পেরেছে। শুরু হয়েছে হেমন্তের নবান্ন উৎসব। এই উৎসব হলো নতুন আমন ধান কাটার পর সেই ধান থেকে প্রস্তুত চালের প্রথম রান্না উপলক্ষে আয়োজিত উৎসব। নবান্ন শব্দটির সঙ্গে নতুন ধান ওঠার সম্পর্ক রয়েছে। কিষান-কিষানিদের সব হাসি-কান্নার অবসান ঘটিয়ে অগ্রহায়ণের নতুন আমন ধান ঘরে উঠানোর কাজের মাঝে খুঁজে পায় অপার আনন্দ। গ্রাম বাংলায় নতুন এক আবহের সৃষ্টি হয়। নবান্ন উৎসব যেন সব দুঃখ-কষ্ট ভুলিয়ে দেয়। প্রাচীনকাল থেকেই ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে নবান্নকে কেন্দ্র করে বাঙালি জাতি উৎসবে মেতে ওঠে। একে অন্যের মধ্যে তৈরি হয় সামাজিক সুসম্পর্ক, সম্প্রীতি আর ভালোবাসা। এ উৎসবকে ঘিরে সনাতনী সম্প্রদায়ের আছে নানা রকম লৌকিক পার্বণ বিধি। কার্তিক মাসের শুরুতেই কৃষকের ঘরে ঘরে নতুন ধানে পূর্ণ হতে থাকে। কৃষক-কৃষাণিরা ধান কাটা, মাড়াই, শুকানো এবং এরপর সেই ধান ঢেঁকিতে ছেঁটে বহুবিধ পিঠা-পায়েস ইত্যাদি তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে উঠে
Tag :

নাগরপুরে সদ্য যোগদানকৃত উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর পরিচিতি ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত

লালপুরে আমন ধানের বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে আনন্দের হাসি 

আপডেট টাইম : ০৩:২৫:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫

লালপুরে আমন ধানের বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে আনন্দের হাসি 

এ জেড সুজন
লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি:
নাটোরের লালপুরে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। আমন ধান দেশের অনেক এলাকার প্রধান ফসল বলা যায়, যার ফলন কার্তিক-অগ্রহায়ণে পাওয়া যায়। উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ও ১ পৌরসভায় মাঠজুড়ে এখন সোনালি ধানের শীষে কৃষকদের স্বপ্ন যেন ঝলমল করছে। অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো বৃষ্টিপাত এবং কৃষি বিভাগের সঠিক পরামর্শ পাওয়ায় এ বছর আমন আবাদ অত্যন্ত সফল হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, উপজেলার অধিকাংশ এলাকার জমিতে আমন ধান হলুদ বর্ন ধারণ করেছে। আমন ধান কাটা পুরোদমে শুরু হয়েছে। এলাকায় শ্রমিক সংকটে ধান কাটা কিছুটা ব্যহত হচ্ছে। আগামী এক দুই সপ্তাহের মধ্যে ধান কাটা শেষ হবে। ভালো ফলন হওয়ায় কৃষকদের মুখে এখন পরিপূর্ণ তৃপ্তির হাসি।
মোহরকয়া গ্রামের লিটন উদ্দিন (৪৫) তার সন্তুষ্টি প্রকাশ করে জানান, এবারের ফসল খুবই ভালো হয়েছে। আগের বছরের তুলনায় ফলন অনেক বেশি। আবহাওয়া ভালো থাকায় কোনো ক্ষতিকর পোকামাকড়ের আক্রমণও হয়নি।
বোয়ালিয়াপাড়া গ্রামের সুমন বলেন, এবারে ফলন খুব ভালো হয়েছে আগের বছরের তুলনায় আমাদের খরচ কম হয়েছে।
হাবিবপুর গ্রামের মোঃ ইসরাইল হোসেন বলেন, প্রতি বছরে তুলনায় আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পোকা মাকড় আক্রমণ কম হওয়ায় আমরা অনেক ভালো ফলন পেয়েছি এতে আমরা খুব খুশি।
কৃষি বিভাগ আরও জানিয়েছে, আমন মৌসুম শেষ হওয়ার পরপরই তারা রবি ফসলের আবাদের প্রস্তুতি শুরু করেছে। এবারের এই বাম্পার ফলন স্থানীয় কৃষকদের আর্থিকভাবে স্বস্তি দেবে এবং এর ইতিবাচক প্রভাব স্থানীয় অর্থনীতিতেও পড়বে বলে কৃষি বিভাগ দৃঢ়ভাবে আশাবাদী।
উপজেলার প্রায় সব ইউনিয়নেই বিচ্ছিন্নভাবে ধান কাটা শুরু হয়েছে এবং আমরা আশা করছি, উৎপাদনের যে লক্ষ্যমাত্রা ছিল, তা এবার ছাড়িয়ে যাবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার হোড় জানান এবার ৯ হাজার ১শ ৮৫ হেক্টর জমিতে আমনে ধানের লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হয়েছে। আবহাওয়া ভালো থাকায় ফলন হয়েছে। পোকামাকড়ের আক্রমণও ছিল খুবই কম। কৃষকরা প্রয়োজনীয় সার ও বীজ পাওয়ায় চাষাবাদে তাদের কোনো বেগ পেতে হয়নি। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আমনের বাম্পার ফলন হবে বলে তিনি জানান।
প্রকৃতি সহায়ক হওয়ায় কৃষক তার আমন ফসল ঘরে নিতে পেরেছে। শুরু হয়েছে হেমন্তের নবান্ন উৎসব। এই উৎসব হলো নতুন আমন ধান কাটার পর সেই ধান থেকে প্রস্তুত চালের প্রথম রান্না উপলক্ষে আয়োজিত উৎসব। নবান্ন শব্দটির সঙ্গে নতুন ধান ওঠার সম্পর্ক রয়েছে। কিষান-কিষানিদের সব হাসি-কান্নার অবসান ঘটিয়ে অগ্রহায়ণের নতুন আমন ধান ঘরে উঠানোর কাজের মাঝে খুঁজে পায় অপার আনন্দ। গ্রাম বাংলায় নতুন এক আবহের সৃষ্টি হয়। নবান্ন উৎসব যেন সব দুঃখ-কষ্ট ভুলিয়ে দেয়। প্রাচীনকাল থেকেই ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে নবান্নকে কেন্দ্র করে বাঙালি জাতি উৎসবে মেতে ওঠে। একে অন্যের মধ্যে তৈরি হয় সামাজিক সুসম্পর্ক, সম্প্রীতি আর ভালোবাসা। এ উৎসবকে ঘিরে সনাতনী সম্প্রদায়ের আছে নানা রকম লৌকিক পার্বণ বিধি। কার্তিক মাসের শুরুতেই কৃষকের ঘরে ঘরে নতুন ধানে পূর্ণ হতে থাকে। কৃষক-কৃষাণিরা ধান কাটা, মাড়াই, শুকানো এবং এরপর সেই ধান ঢেঁকিতে ছেঁটে বহুবিধ পিঠা-পায়েস ইত্যাদি তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে উঠে