ঢাকা ১০:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
সিলেট রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ অফিসার মৌলীবাজার মডেলনথানার ওসি সাইফুলের উক্তি ১৯ সালে ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি হলে ও থানার অফিসার ইনচার্জ ভাগ্যে জোটেছে২৫ সালে এক লাখ টাকা বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে কম্বোডিয়ায় মানবপাচারের দম্পতি গ্রেফতার বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারারের যশোর আঞ্চলিক কেন্দ্র পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত সুস্থ সমাজ গঠনে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর রাজশাহীর বিভিন্ন দেওয়ালে জুলাই অভ্যুত্থান দিবস বিরোধী পোষ্টার জৈন্তাপুর সারী ৩ বালু মহালে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের প্রমান মেলেনি, সরেজমিন পরিদর্শন উপজেলা প্রশাসন জুলাই গণঅভ্যুত্থানর দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষ কুষ্টিয়ায় শ্রমিক কল্যাণ ফডারশনর বিশাল গণমিছিল ও সমাবশ অনুষ্ঠিত নাগরপুরে উন্নত শিক্ষার পরিবেশ গড়তে চার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন ভবনের শুভ উদ্বোধন করলেন সংসদ সদস্য মোঃ রবিউল আওয়াল লাভলু দৌলতপুরে চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্কাউট ইউনিট পরিদর্শন

বগুড়ায় স্বামীকে হত্যার দায়ে স্ত্রীর যাবজ্জীবন ও প্রেমিকের মৃত্যুদণ্ড

বগুড়ায় স্বামীকে হত্যার দায়ে স্ত্রীর যাবজ্জীবন ও প্রেমিকের মৃত্যুদণ্ড

(বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার বহুল  আলোচিত জামাল উদ্দিন ওরফে খাজা হত্যা মামলায় তাঁর স্ত্রীর যাবজ্জীবন এবং তাঁর পরকীয়া প্রেমিককে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার দুপুরের দিকে বগুড়ার প্রথম অতিরিক্ত দায়রা জজ হাবিবা মন্ডল এই রায় দেন। দন্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- নিহত জামালের স্ত্রী জেসমিন আকতার এবং তাঁর পরকীয়া প্রেমিক মোজাফফর হোসেন। রায়ে জেসমিন আকতারের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও তা অনাদায়ে ৬ মাসের সশ্রম কারাদন্ড এবং মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামি মোজাফ্ফরেরও একই পরিমাণ জরিমানা করা হয়। রায় ঘোষণার সময় দুই আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন আইনজীবী ফেরদৌসী আকতার রুনা। উল্লেখ্য, গত ২০২২ সালের ২৬ নভেম্বর সকাল ১০টার দিকে শহরের বৃন্দাবন পূর্বপাড়া এলাকায় শোবার ঘর থেকে জামাল উদ্দিন খাজার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত খাজা ওই এলাকার মৃত আমির আলী খলিফার ছেলে। তিনি একটি বেকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। আইনজীবী রুনা জানান, জামালের স্ত্রীর সাথে মোজাফফরের সাথে সম্পর্ক ছিল। খাজার স্ত্রী এই সম্পর্ক থেকে বের হয়ে আসার চেষ্টা করলেও মোজাফফর বারবার তাকে বিয়ের চাপ দিতে থাকে। এদিকে গত ২৫ নভেম্বর খাজার বোন আম্বিয়া মারা গেলে খাজা স্ত্রী ও সন্তানসহ শাজাহানপুর উপজেলার ফুলদিঘী এলাকায় যায়। সেখানে খাজার পরিবারের অন্যান্য লোকজনসহ মোজাফফরও উপস্থিত ছিল। গত শুক্রবার ফুলদিঘী থেকে খাজার স্ত্রী তার ছেলেকে রিমনকে সাথে নিয়ে তার বাবার বাড়ি সদর উপজেলার চাঁদমোহা হরিপুর খেরুয়াপাড়া যায় এবং খাজা সন্ধ্যার আগে নিজ বাড়িতে যায়। খাজার স্ত্রী-সন্তান বাসায় না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে মোজাফফর ওইদিন রাত পৌণে ৯টার দিকে খাজার বাড়িতে যায়। সেখানে যেয়ে খাজাকে উত্তেজিত করার জন্য তার স্ত্রীর এর সম্পর্কে নানা ধরণের অশালীন ও বাজে কথাবার্তা বলতে থাকে। এতে খাজার সাথে মোজাফফরের বাক-বিতন্ডতা শুরু হয়। একপর্যায়ে মোজাফফর ঘরের মধ্যে থাকা লোহার শাবল দিয়ে খাজার মাথায় এলোপাথারী আঘাত করে। এতে খাজা মারা যায়। পরে মেঝেতে লাশ কম্বল দিয়ে ঢেকে রেখে শয়নঘরের দরজা বাহির থেকে বন্ধ করে দেওয়াল ডিঙিয়ে কৌশলে পালিয়ে যায়। পরেদিন শনিবার সকালে খাজার ছেলে জেমস রিমন তার নানা বাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে এসে দরজায় ডাকাডাকি করলেও ভেতর থেকে কোন শব্দ পায় না। পরে ছেলে বাড়ীর প্রাচীর ডিঙিয়ে ভেতরে গিয়ে দরজা খুলে খাজার মরদেহ দেখতে পায়। তিনি আরও জানান পরে এ ঘটনায় জামালের ছেলে জেমস রিমন হত্যা মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় আদালতে সকল সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে আদালত নিহত খাজার স্ত্রীর যাবজ্জীবন এবং তার পরকীয়া প্রেমিক মোজাফফরকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেন।
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

বগুড়ায় স্বামীকে হত্যার দায়ে স্ত্রীর যাবজ্জীবন ও প্রেমিকের মৃত্যুদণ্ড

আপডেট টাইম : ০৫:২০:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৪

বগুড়ায় স্বামীকে হত্যার দায়ে স্ত্রীর যাবজ্জীবন ও প্রেমিকের মৃত্যুদণ্ড

(বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার বহুল  আলোচিত জামাল উদ্দিন ওরফে খাজা হত্যা মামলায় তাঁর স্ত্রীর যাবজ্জীবন এবং তাঁর পরকীয়া প্রেমিককে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার দুপুরের দিকে বগুড়ার প্রথম অতিরিক্ত দায়রা জজ হাবিবা মন্ডল এই রায় দেন। দন্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- নিহত জামালের স্ত্রী জেসমিন আকতার এবং তাঁর পরকীয়া প্রেমিক মোজাফফর হোসেন। রায়ে জেসমিন আকতারের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও তা অনাদায়ে ৬ মাসের সশ্রম কারাদন্ড এবং মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামি মোজাফ্ফরেরও একই পরিমাণ জরিমানা করা হয়। রায় ঘোষণার সময় দুই আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন আইনজীবী ফেরদৌসী আকতার রুনা। উল্লেখ্য, গত ২০২২ সালের ২৬ নভেম্বর সকাল ১০টার দিকে শহরের বৃন্দাবন পূর্বপাড়া এলাকায় শোবার ঘর থেকে জামাল উদ্দিন খাজার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত খাজা ওই এলাকার মৃত আমির আলী খলিফার ছেলে। তিনি একটি বেকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। আইনজীবী রুনা জানান, জামালের স্ত্রীর সাথে মোজাফফরের সাথে সম্পর্ক ছিল। খাজার স্ত্রী এই সম্পর্ক থেকে বের হয়ে আসার চেষ্টা করলেও মোজাফফর বারবার তাকে বিয়ের চাপ দিতে থাকে। এদিকে গত ২৫ নভেম্বর খাজার বোন আম্বিয়া মারা গেলে খাজা স্ত্রী ও সন্তানসহ শাজাহানপুর উপজেলার ফুলদিঘী এলাকায় যায়। সেখানে খাজার পরিবারের অন্যান্য লোকজনসহ মোজাফফরও উপস্থিত ছিল। গত শুক্রবার ফুলদিঘী থেকে খাজার স্ত্রী তার ছেলেকে রিমনকে সাথে নিয়ে তার বাবার বাড়ি সদর উপজেলার চাঁদমোহা হরিপুর খেরুয়াপাড়া যায় এবং খাজা সন্ধ্যার আগে নিজ বাড়িতে যায়। খাজার স্ত্রী-সন্তান বাসায় না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে মোজাফফর ওইদিন রাত পৌণে ৯টার দিকে খাজার বাড়িতে যায়। সেখানে যেয়ে খাজাকে উত্তেজিত করার জন্য তার স্ত্রীর এর সম্পর্কে নানা ধরণের অশালীন ও বাজে কথাবার্তা বলতে থাকে। এতে খাজার সাথে মোজাফফরের বাক-বিতন্ডতা শুরু হয়। একপর্যায়ে মোজাফফর ঘরের মধ্যে থাকা লোহার শাবল দিয়ে খাজার মাথায় এলোপাথারী আঘাত করে। এতে খাজা মারা যায়। পরে মেঝেতে লাশ কম্বল দিয়ে ঢেকে রেখে শয়নঘরের দরজা বাহির থেকে বন্ধ করে দেওয়াল ডিঙিয়ে কৌশলে পালিয়ে যায়। পরেদিন শনিবার সকালে খাজার ছেলে জেমস রিমন তার নানা বাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে এসে দরজায় ডাকাডাকি করলেও ভেতর থেকে কোন শব্দ পায় না। পরে ছেলে বাড়ীর প্রাচীর ডিঙিয়ে ভেতরে গিয়ে দরজা খুলে খাজার মরদেহ দেখতে পায়। তিনি আরও জানান পরে এ ঘটনায় জামালের ছেলে জেমস রিমন হত্যা মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় আদালতে সকল সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে আদালত নিহত খাজার স্ত্রীর যাবজ্জীবন এবং তার পরকীয়া প্রেমিক মোজাফফরকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেন।