ঢাকা ১১:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
হৃদরোগ আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন মান্দার প্রতিবন্ধী স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা সোহেল রানা তানোরে বিএনপির আলোচনা সভা ও দোয়া ক্যাম্পাস সংলগ্ন মেসে হাবিপ্রবি শিক্ষার্থীর মৃ‍‍`ত্যু নাইওরি আনতেগেলে বরের ‘গেটে সেলামি’ নিয়ে সংঘর্ষ, উভয় পক্ষের আহত ৪ গৌরনদীতে পিকআপ ও মোটরসাইকেল সংঘর্ষে চালক নিহত দৌলতপুরে ৮ বছরের শিশুকে বলাৎকারের চেষ্টা, অভিযুক্ত আটক সাপাহারে স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে গ্রেফতার ১ বেরোবিতে গুচ্ছের ‘সি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত সিলেটের গোয়াইনঘাটের ভূমি অফিসে মারামারি, স্যোশাল মিডিয়ায় ভিডিও ভাইরাল নওগাঁয় মুক্তিযুদ্ধের তিন ভাস্কর্য ভাঙচুরের দেড় বছরেও হয়নি সংস্কার

নওগাঁয় মুক্তিযুদ্ধের তিন ভাস্কর্য ভাঙচুরের দেড় বছরেও হয়নি সংস্কার

নওগাঁয় মুক্তিযুদ্ধের তিন ভাস্কর্য ভাঙচুরের দেড় বছরেও হয়নি সংস্কার

মোহাম্মদ আককাস আলী,নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: 
চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নওগাঁয় মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে থাকা তিন ভাস্কর্য ভাঙচুরের দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো সংস্কার হয়নি। ভাঙাচোরা অবস্থায় ভাস্কর্যগুলো মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। জেলা প্রশাসন কিংবা গণপূর্ত অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সেগুলো সংস্কারে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর নওগাঁ শহরের ব্রিজের মোড় ও মান্দা উপজেলার প্রসাদপুর বাজারের গোলচত্বরে মুক্তিযোদ্ধা স্তম্ভ এবং পত্নীতলা উপজেলার নজিপুর পৌরসভার জিরো পয়েন্ট এলাকায় মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ ভাঙচুর করা হয়। এখন কোথাও ভাস্কর্যগুলো মাটির সঙ্গে মিশে গেছে, কোথাও ভাস্কর্যের অবশিষ্টাংশ পড়ে আছে।
জেলা প্রশাসন ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের নওগাঁ কার্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার দেড় বছরেও ভেঙে ফেলা ভাস্কর্যগুলো সংস্কারে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। নবনির্বাচিত বিএনপি সরকারও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্নগুলো সংস্কারে এখন পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের নওগাঁর নির্বাহী প্রকৌশলী এ এইচ এম শাহরিয়ার জানান, জেলার যেসব ভাস্কর্য ভাঙচুর করা হয়েছে, সেগুলো সংস্কারে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। নতুন সরকারও এখন পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা দেয়নি। সরকারি নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত এগুলো সংস্কারের ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নিতে তাঁরা পারছেন না।
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নওগাঁ জেলা ইউনিটের আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম জানান, মহান মুক্তিযুদ্ধে নওগাঁর মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। সেসব মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মান জানাতে নওগাঁ শহর, নজিপুর পৌরসভা ও মান্দার প্রসাদপুরে মুক্তিযোদ্ধা ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়েছিল। ৫ আগস্ট সেই ভাস্কর্যগুলো মুহূর্তের মধ্যে ভেঙে ফেলা হয়। এসব স্মৃতিচিহ্ন না থাকলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সঠিক ইতিহাস থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্যগুলো আবার নির্মাণ করা উচিত।
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

হৃদরোগ আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন মান্দার প্রতিবন্ধী স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা সোহেল রানা

নওগাঁয় মুক্তিযুদ্ধের তিন ভাস্কর্য ভাঙচুরের দেড় বছরেও হয়নি সংস্কার

আপডেট টাইম : ০৮:১৩:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

নওগাঁয় মুক্তিযুদ্ধের তিন ভাস্কর্য ভাঙচুরের দেড় বছরেও হয়নি সংস্কার

মোহাম্মদ আককাস আলী,নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: 
চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নওগাঁয় মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে থাকা তিন ভাস্কর্য ভাঙচুরের দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো সংস্কার হয়নি। ভাঙাচোরা অবস্থায় ভাস্কর্যগুলো মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। জেলা প্রশাসন কিংবা গণপূর্ত অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সেগুলো সংস্কারে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর নওগাঁ শহরের ব্রিজের মোড় ও মান্দা উপজেলার প্রসাদপুর বাজারের গোলচত্বরে মুক্তিযোদ্ধা স্তম্ভ এবং পত্নীতলা উপজেলার নজিপুর পৌরসভার জিরো পয়েন্ট এলাকায় মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ ভাঙচুর করা হয়। এখন কোথাও ভাস্কর্যগুলো মাটির সঙ্গে মিশে গেছে, কোথাও ভাস্কর্যের অবশিষ্টাংশ পড়ে আছে।
জেলা প্রশাসন ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের নওগাঁ কার্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার দেড় বছরেও ভেঙে ফেলা ভাস্কর্যগুলো সংস্কারে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। নবনির্বাচিত বিএনপি সরকারও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্নগুলো সংস্কারে এখন পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের নওগাঁর নির্বাহী প্রকৌশলী এ এইচ এম শাহরিয়ার জানান, জেলার যেসব ভাস্কর্য ভাঙচুর করা হয়েছে, সেগুলো সংস্কারে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। নতুন সরকারও এখন পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা দেয়নি। সরকারি নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত এগুলো সংস্কারের ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নিতে তাঁরা পারছেন না।
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নওগাঁ জেলা ইউনিটের আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম জানান, মহান মুক্তিযুদ্ধে নওগাঁর মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। সেসব মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মান জানাতে নওগাঁ শহর, নজিপুর পৌরসভা ও মান্দার প্রসাদপুরে মুক্তিযোদ্ধা ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়েছিল। ৫ আগস্ট সেই ভাস্কর্যগুলো মুহূর্তের মধ্যে ভেঙে ফেলা হয়। এসব স্মৃতিচিহ্ন না থাকলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সঠিক ইতিহাস থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্যগুলো আবার নির্মাণ করা উচিত।