রাজশাহীতে জাল টাকায় কেনা স্বর্ণের চেইন উদ্ধারসহ গ্রেপ্তার ২
রাজশাহী ব্যুরো: গত ২৭ সেপ্টেম্বর নিজেকে সেনা সদস্য পরিচয় দিয়ে রাজশাহী মহানগরীর স্বর্ণকারপট্টির (সাহেব বাজার) “আশা জুয়োলারি স্টোর” থেকে জাল টাকায় কিনেছিলেন ১টি স্বর্ণের চেইন। বিক্রির পর দোকান মালিক বুঝতে পারে টাকাগুলো জাল। কিন্তু দোকান মালিকের বুঝে উঠার আগেই এলাকা থেকে সটকে পড়ের সেই ক্রেতা বা প্রতারক। পরে এঘটনায় নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানায় মামলা করেন স্বর্ণ ব্যাবসায়ী মামলা করেন। বিষয়টি আমলে নিয়ে দ্রুত উদ্ধার অভিযানের নির্দেশ দেন আরএমপি কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল করিম পিপিএম।
এঘটনায় ১৩ অক্টোবর সকালে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ। এ সময় প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া স্বর্ণের চেইন উদ্ধার করা হয়েছে। একই কৌশলে বগুড়ায় সংঘটিত আরেকটি প্রতারণার ঘটনায়ও স্বর্ণের চেইন উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর ১টায় বোয়ালিয়া মডেল থানায় আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান আরএমপির মিডিয়া মুখপাত্র ও উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) গাজিউর রহমান এবং বোয়ালিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুমা মুস্তারি। এ সময় রাজশাহীতে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ জানায়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেল আনুমানিক ৫টা ৪৫ মিনিটে এক ব্যক্তি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য পরিচয়ে রাজশাহী নগরীর সাহেববাজার এলাকার ‘আশা জুয়েলারি স্টোর’-এ যান। সেখানে নিজের মেজর স্যারের মেয়ের বিয়ের জন্য স্বর্ণের গহনা কেনার কথা বলে ৭০০ টাকার একটি নাকফুল কেনেন। পাশাপাশি আট আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন কেনার কথা জানিয়ে পরে টাকা দিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে চলে যান। ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ১০টা ৪৫ মিনিটে ওই ব্যক্তি আবার দোকানে গিয়ে চেইনটি নিতে চান। কিন্তু চেইনটি দোকানে না থাকায় পাশের বিশ্বনাথের দোকান থেকে ২২ ক্যারেটের আট আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন এনে তাঁকে দেওয়া হয়। তৎকালীন বাজারমূল্য অনুযায়ী চেইনটির দাম ছিল প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা। এর বিপরীতে ওই ব্যক্তি ১ লাখ ১৫ হাজার টাকার জাল নোট দেন।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় অভিযোগ পাওয়ার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে। সিসি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে সন্দেহভাজন ব্যক্তির গতিবিধি শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের সহায়তায় গত ১৩ অক্টোবর সকাল আনুমানিক সাড়ে ৯টায় ঢাকার খিলক্ষেত থানাধীন নামাজের মোড় এলাকা থেকে অভিযুক্ত রিয়াজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া স্বর্ণের চেইনটি উদ্ধার করা হয়েছে এবং এই চক্রের আরেক সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, রিয়াজুল ইসলাম একই কৌশলে গত ৬ অক্টোবর বগুড়ার নিউ মার্কেট এলাকার একটি স্বর্ণের দোকান থেকে ১ লাখ ২২ হাজার টাকার জাল নোট দিয়ে আট আনা তিন রতি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন নেওয়ার অভিযোগে জড়িত। ওই ঘটনায় বগুড়ার সদর থানা পুলিশও চেইনটি উদ্ধার করে। এ সময় তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন ও নগদ ১৪ হাজার ৭৯২ টাকা জব্দ করেছে।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার রিয়াজুল ইসলাম দেশের বিভিন্ন স্থানে একই ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। তার বিরুদ্ধে রংপুরের বদরগঞ্জ থানা ও ডিএমপির খিলক্ষেত থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে দুটি মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ডেইলী নিউজ বাংলা ডেস্ক 


















