ঢাকা ০৫:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
ভেড়ামারায় অবৈধ বিড়ি কারখানায় অভিযানকালে হামলায় দুই কাষ্টমস কর্মকর্তা আহত, গাড়ি ভাংচুর মিরপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে জন্মাষ্টমী উদযাপন নাগরপুরে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পুরুষোত্তম ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমীব্রত পালিত ভেড়ামারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বাল্যবিয়ে বন্ধ: মেয়ের মায়ের মুচলেকা ভেড়ামারায় ৫০ পিস ইয়াবাসহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেফতার ভেড়ামারায় মৎস্য সুরক্ষা অভিযান: ৭০ হাজার টাকার চায়না দুয়ারি জাল জব্দ ও ধ্বংস ভেড়ামারা থানায় কুষ্টিয়ার নবাগত পুলিশ সুপারের আকস্মিক পরিদর্শন গোলাপগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের কমিটি পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত মোহনপুরে মাদরাসা প্রধানের নারীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ ভিডিও ভাইরাল দৌলতপুরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সভায় হাবলু মোল্লার হাসপাতাল নির্মাণের ঘোষণা

ক্যান্সারের সঙ্গে লড়ছেন রুবেল, বাঁচতে হলে প্রয়োজন ৫০ লাখ টাকা

ক্যান্সারের সঙ্গে লড়ছেন রুবেল, বাঁচতে হলে প্রয়োজন ৫০ লাখ টাকা

রাজশাহী ব্যুরো: এক সময় নিজের পান বরজ আর কৃষিকাজের আয়েই চলত রুবেল সরদারের সংসার। অভাব ছিল, কিন্তু ছিল স্বপ্নও। তিন সন্তান ও বাবা মা কে নিয়ে সেই পরিবারে ছিল হাসি-কান্নার মিশ্রিত স্বাভাবিক জীবন। কিন্তু ব্লাড ক্যান্সার নামের এক মরণব্যাধি মুহূর্তেই সবকিছু ওলটপালট করে দিয়েছে রুবেলের পরিবারকে।
কথাগুলো রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার যুগীশো (কেওয়াপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা রুবেল সরদারের। বাবা মফিজ সরদার একজন কৃষক। কৃষিকাজ ও পান বরজই ছিল পরিবারের আয়ের উৎস। রুবেলের পরিবারে তিন সন্তান। বড় মেয়ের বিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু দরিদ্রতার ছেঁড়া জালে সেই সংসার টেকেনি। তালাকের পর মেয়েটি আবার বাবার বাড়িতে ফিরে এসেছে।পারিবারিক দুশ্চিন্তা রুবেলকে আরও দুর্বল করে দিয়েছে।

প্রায় দুই বছর ধরে রুবেল বার বার জ্বর ও শরীরজুড়ে তীব্র ব্যথায় ভুগছিলেন। কখনও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কখনও বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিলেও সঠিক রোগ ধরা পড়ছিল না। কি কারনে এমন হয়? অবশেষে চলতি বছরের ৭ এপ্রিল গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হলে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর হেমাটোলজি বিশেষজ্ঞ ডা. মঈনুদ্দিন আহমেদের তত্ত্বাবধানে বোন ম্যারো পরীক্ষা করা হয়। রিপোর্টে Acute Leukemia (সম্ভাব্য AML-M4) ধরা পড়ে। চিকিৎসকরা জানান, তিনি ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত। এমন খবরে মুহূর্তেই পুরো পরিবার অন্ধকারে ডুবে যায়। খবরটি যেন পুরো পরিবারকে ভেঙে দিল।

দেশে চিকিৎসা করাতে করতেই কয়েক লাখ টাকা ব্যয় হয়ে যায়। কিন্তু আশানুরূপ উন্নতি না হওয়ায় শুভাকাঙ্ক্ষীদের পরামর্শে ভারতে চিকিৎসা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন রুবেলের পরিবার। অবশেষে ভারতের বেঙ্গালুরুর HCG Cancer Centre-এ চিকিৎসার জন্য যান রুবেল। সেখানে হেমাটো-অনকোলজি ও বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট বিশেষজ্ঞ ডা. নটরাজ কে. এস.-এর তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা শুরু হয়। উন্নত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে কেমোথেরাপি ও আধুনিক ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ভারতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে প্রায় ১৯ দিন ব্যয়বহুল চিকিৎসা গ্রহণ করেন। তবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সম্পূর্ণ সুস্থ হতে হলে জরুরি ভিত্তিতে বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট করাতে হবে। আর এজন্য প্রয়োজন প্রায় ৫০ লাখ টাকা। আপাতত তিনি সেই চিকিৎসার ওপর নির্ভর করেই বেঁচে আছেন।
সেই চিকিৎসার খরচ জোগাতে পরিবারের একমাত্র সম্বল, চাষযোগ্য জমি ও পান বরজ বিক্রি করে দেন।
কিন্তু বাঁচার জন্য এত বিপুল অর্থ জোগাড় করা রুবেলের পরিবারের পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব নয়। জমি নেই, সঞ্চয় নেই, আয়ের পথও প্রায় বন্ধ। সংসার চালানোই এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। নিয়মিত ওষুধ কেনার টাকার জন্য বর্তমানে পরিবারকে মানুষের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে।

অন্যদিকে, আর্থিক সংকটে রুবেলের সন্তানদের লেখাপড়াও বন্ধ হওয়ার উপক্রম। তালাকপ্রাপ্ত বড় মেয়েটিও নতুন করে পড়াশোনা শুরু করে নিজের জীবন গড়ে তুলতে চাইলেও কলেজে ভর্তি করানোর সামর্থ্য নেই পরিবারের।
রুবেলের পরিবারের একটাই আকুতি সমাজের বিত্তবান, মানবিক ব্যক্তি, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং দানশীল মানুষের সহযোগিতা পেলে হয়তো আবারও নতুন জীবন ফিরে পেতে পারেন তিনি। সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে এখনও তাকে বাঁচানোর আশা দেখছেন চিকিৎসকরা।
মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিলে হয়তো একটি পরিবার আবারও বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পারবে।
বি:দ্র: যারা রুবেলকে সহযোগিতা বা সহায়তা করতে চান, তাদের জন্য অগ্রনী ব্যাংক পিএলসি- 020026234684।বিকাশ,নগদ,রকেট- 01750636999 (রুবেল সরদারের ব্যক্তিগত)

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

ভেড়ামারায় অবৈধ বিড়ি কারখানায় অভিযানকালে হামলায় দুই কাষ্টমস কর্মকর্তা আহত, গাড়ি ভাংচুর

ক্যান্সারের সঙ্গে লড়ছেন রুবেল, বাঁচতে হলে প্রয়োজন ৫০ লাখ টাকা

আপডেট টাইম : ০৯:২০:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

ক্যান্সারের সঙ্গে লড়ছেন রুবেল, বাঁচতে হলে প্রয়োজন ৫০ লাখ টাকা

রাজশাহী ব্যুরো: এক সময় নিজের পান বরজ আর কৃষিকাজের আয়েই চলত রুবেল সরদারের সংসার। অভাব ছিল, কিন্তু ছিল স্বপ্নও। তিন সন্তান ও বাবা মা কে নিয়ে সেই পরিবারে ছিল হাসি-কান্নার মিশ্রিত স্বাভাবিক জীবন। কিন্তু ব্লাড ক্যান্সার নামের এক মরণব্যাধি মুহূর্তেই সবকিছু ওলটপালট করে দিয়েছে রুবেলের পরিবারকে।
কথাগুলো রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার যুগীশো (কেওয়াপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা রুবেল সরদারের। বাবা মফিজ সরদার একজন কৃষক। কৃষিকাজ ও পান বরজই ছিল পরিবারের আয়ের উৎস। রুবেলের পরিবারে তিন সন্তান। বড় মেয়ের বিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু দরিদ্রতার ছেঁড়া জালে সেই সংসার টেকেনি। তালাকের পর মেয়েটি আবার বাবার বাড়িতে ফিরে এসেছে।পারিবারিক দুশ্চিন্তা রুবেলকে আরও দুর্বল করে দিয়েছে।

প্রায় দুই বছর ধরে রুবেল বার বার জ্বর ও শরীরজুড়ে তীব্র ব্যথায় ভুগছিলেন। কখনও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কখনও বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিলেও সঠিক রোগ ধরা পড়ছিল না। কি কারনে এমন হয়? অবশেষে চলতি বছরের ৭ এপ্রিল গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হলে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর হেমাটোলজি বিশেষজ্ঞ ডা. মঈনুদ্দিন আহমেদের তত্ত্বাবধানে বোন ম্যারো পরীক্ষা করা হয়। রিপোর্টে Acute Leukemia (সম্ভাব্য AML-M4) ধরা পড়ে। চিকিৎসকরা জানান, তিনি ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত। এমন খবরে মুহূর্তেই পুরো পরিবার অন্ধকারে ডুবে যায়। খবরটি যেন পুরো পরিবারকে ভেঙে দিল।

দেশে চিকিৎসা করাতে করতেই কয়েক লাখ টাকা ব্যয় হয়ে যায়। কিন্তু আশানুরূপ উন্নতি না হওয়ায় শুভাকাঙ্ক্ষীদের পরামর্শে ভারতে চিকিৎসা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন রুবেলের পরিবার। অবশেষে ভারতের বেঙ্গালুরুর HCG Cancer Centre-এ চিকিৎসার জন্য যান রুবেল। সেখানে হেমাটো-অনকোলজি ও বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট বিশেষজ্ঞ ডা. নটরাজ কে. এস.-এর তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা শুরু হয়। উন্নত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে কেমোথেরাপি ও আধুনিক ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ভারতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে প্রায় ১৯ দিন ব্যয়বহুল চিকিৎসা গ্রহণ করেন। তবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সম্পূর্ণ সুস্থ হতে হলে জরুরি ভিত্তিতে বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট করাতে হবে। আর এজন্য প্রয়োজন প্রায় ৫০ লাখ টাকা। আপাতত তিনি সেই চিকিৎসার ওপর নির্ভর করেই বেঁচে আছেন।
সেই চিকিৎসার খরচ জোগাতে পরিবারের একমাত্র সম্বল, চাষযোগ্য জমি ও পান বরজ বিক্রি করে দেন।
কিন্তু বাঁচার জন্য এত বিপুল অর্থ জোগাড় করা রুবেলের পরিবারের পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব নয়। জমি নেই, সঞ্চয় নেই, আয়ের পথও প্রায় বন্ধ। সংসার চালানোই এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। নিয়মিত ওষুধ কেনার টাকার জন্য বর্তমানে পরিবারকে মানুষের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে।

অন্যদিকে, আর্থিক সংকটে রুবেলের সন্তানদের লেখাপড়াও বন্ধ হওয়ার উপক্রম। তালাকপ্রাপ্ত বড় মেয়েটিও নতুন করে পড়াশোনা শুরু করে নিজের জীবন গড়ে তুলতে চাইলেও কলেজে ভর্তি করানোর সামর্থ্য নেই পরিবারের।
রুবেলের পরিবারের একটাই আকুতি সমাজের বিত্তবান, মানবিক ব্যক্তি, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং দানশীল মানুষের সহযোগিতা পেলে হয়তো আবারও নতুন জীবন ফিরে পেতে পারেন তিনি। সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে এখনও তাকে বাঁচানোর আশা দেখছেন চিকিৎসকরা।
মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিলে হয়তো একটি পরিবার আবারও বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পারবে।
বি:দ্র: যারা রুবেলকে সহযোগিতা বা সহায়তা করতে চান, তাদের জন্য অগ্রনী ব্যাংক পিএলসি- 020026234684।বিকাশ,নগদ,রকেট- 01750636999 (রুবেল সরদারের ব্যক্তিগত)