ঢাকা ০৩:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
রাজশাহী প্রেসক্লাবের সভাপতি প্রবীণ সাংবাদিক সাইদুর রহমান আর নেই নওগাঁয় বৈদ্যুতিক পোল অপসারণ না করার কারণে থমকে আছে আঞ্চলিক সড়কের উন্নয়ন কাজ ঘোড়াঘাটে ৩২ বছরের পুরোনো এক্স-রে মেশিনে চলছে চিকিৎসাসেবা, রোগীদের চরম ভোগান্তি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলাম (জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত)-এর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুন (১৯) আত্মহত্যা করেছেন। ভেড়ামারায় তরুণীকে অপহরণ ও ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ, সাবেক স্বামী আটক টাঙ্গাইলে মরহুম ফরিদ সিকদার সৃতি ফুটবল ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬ আয়োজিত বিশেষ অভিযানে ২ মামলার আসামি গ্রেপ্তার, আদালতে পাঠাল পাটকেলঘাটা থানা পুলিশ নাগরপুরে ১২০ পিচ ইয়াবা সহ ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার তানোর-রাজশাহী সড়ক যেন মৃত্যুপুরী; কনক্রিট রাস্তার ফাটল ধরায় বন্ধ রয়েছে নির্মান কাজ দৌলতপুরে বেপরোয়া মোটরসাইকেলের ধাক্কায় বৃদ্ধ নিহত, তিন যুবক আটক

রাজশাহী প্রেসক্লাবের সভাপতি প্রবীণ সাংবাদিক সাইদুর রহমান আর নেই

রাজশাহী প্রেসক্লাবের সভাপতি প্রবীণ সাংবাদিক সাইদুর রহমান আর নেই

রাজশাহী ব্যুরো: রাজশাহী প্রেসক্লাবের সভাপতি ও প্রবীণ সাংবাদিক সাইদুর রহমান ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্নইলাহি রাজিউন)।

রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি কিডনিজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৬২ বছর। সাইদুর রহমান অবিবাহিত ছিলেন। সাত ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন চতুর্থ। তাঁর জন্ম রাজশাহী নগরীর পাঠানপাড়ায়। তিনি সাবেক গভর্নর ও আইনজীবী আতাউর রহমান এবং ভাষাসৈনিক মনোয়ারা রহমানের ছেলে। তার নানা ছিলেন রাজশাহীর প্রখ্যাত আইনজীবী ও শিক্ষানুরাগী মাদার বখশ। আশির দশকে দৈনিক করতোয়ায় কাজের মাধ্যমে সাংবাদিকতা শুরু করেন সাইদুর রহমান। দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তিনি বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাজ করেছেন। সর্বশেষ তিনি দৈনিক ভোরের কাগজে কর্মরত ছিলেন। রাজশাহীর বিভিন্ন সমস্যা, সংকট ও জনস্বার্থের বিষয় নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন লেখালেখি ও সংগ্রাম করেছেন। সাইদুর রহমান রাজশাহী গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি স্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন। পরে রাজশাহী কলেজে পড়াশোনা করেন। উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি রাশিয়ার মস্কো যান এবং সেখানে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। সাইদুর রহমানের ছোট বোন আফরোজী রহমান খেলনা এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, বর্তমানে তার ভাইয়ের মরদেহ বাড়িতে রাখা হয়েছে। সাইদুর রহমানের মৃত্যুতে রাজশাহীর সাংবাদিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সাইদুর রহমান ছিলেন রাজশাহীর একটি ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবারের উত্তরসূরি। তার নানা মাদার বখশ ছিলেন প্রখ্যাত আইনজীবী ও রাজনীতিক। রাজশাহীতে উচ্চশিক্ষার প্রসারে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাতে তিনি ছিলেন অন্যতম। সাইদুর রহমানের বাবা আতাউর রহমানও রাজশাহীর রাজনৈতিক ইতিহাসে আলোচিত ব্যক্তি ছিলেন। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে কারাগারে অন্তরীণ থাকা অবস্থায় তিনি নির্বাচিত হন। তাঁর মা ভাষাসৈনিক মনোয়ারা রহমান সমাজসেবা ও জনকল্যাণমূলক কাজে যুক্ত ছিলেন। পারিবারিক ঐতিহ্যকে শুধু স্মৃতিতে ধরে রাখেননি সাইদুর রহমান। জনকল্যাণের সেই ধারাকে নিজের জীবনেও এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
রাজশাহী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন বলেন, রাজশাহীর সব নৈতিক আন্দোলনে সাইদুর রহমান সক্রিয় ছিলেন। দীর্ঘদিন তিনি রাজশাহীর সমস্যা ও সংকটসহ নানা বিষয়ে লিখেছেন। তার মৃত্যুতে রাজশাহীবাসীর অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।

দুপুর ১২টা থেকে বেলা দেড়টা পর্যন্ত সাইদুর রহমানের মরদেহ রাজশাহী প্রেসক্লাবের সামনে রাখা হয়েছে। সেখানে সাংবাদিক, সহকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। বাদ আসর দরগাপাড়া মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে হেঁতেম খাঁ গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

রাজশাহী প্রেসক্লাবের সভাপতি প্রবীণ সাংবাদিক সাইদুর রহমান আর নেই

রাজশাহী প্রেসক্লাবের সভাপতি প্রবীণ সাংবাদিক সাইদুর রহমান আর নেই

আপডেট টাইম : ০২:৪০:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজশাহী প্রেসক্লাবের সভাপতি প্রবীণ সাংবাদিক সাইদুর রহমান আর নেই

রাজশাহী ব্যুরো: রাজশাহী প্রেসক্লাবের সভাপতি ও প্রবীণ সাংবাদিক সাইদুর রহমান ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্নইলাহি রাজিউন)।

রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি কিডনিজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৬২ বছর। সাইদুর রহমান অবিবাহিত ছিলেন। সাত ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন চতুর্থ। তাঁর জন্ম রাজশাহী নগরীর পাঠানপাড়ায়। তিনি সাবেক গভর্নর ও আইনজীবী আতাউর রহমান এবং ভাষাসৈনিক মনোয়ারা রহমানের ছেলে। তার নানা ছিলেন রাজশাহীর প্রখ্যাত আইনজীবী ও শিক্ষানুরাগী মাদার বখশ। আশির দশকে দৈনিক করতোয়ায় কাজের মাধ্যমে সাংবাদিকতা শুরু করেন সাইদুর রহমান। দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তিনি বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাজ করেছেন। সর্বশেষ তিনি দৈনিক ভোরের কাগজে কর্মরত ছিলেন। রাজশাহীর বিভিন্ন সমস্যা, সংকট ও জনস্বার্থের বিষয় নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন লেখালেখি ও সংগ্রাম করেছেন। সাইদুর রহমান রাজশাহী গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি স্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন। পরে রাজশাহী কলেজে পড়াশোনা করেন। উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি রাশিয়ার মস্কো যান এবং সেখানে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। সাইদুর রহমানের ছোট বোন আফরোজী রহমান খেলনা এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, বর্তমানে তার ভাইয়ের মরদেহ বাড়িতে রাখা হয়েছে। সাইদুর রহমানের মৃত্যুতে রাজশাহীর সাংবাদিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সাইদুর রহমান ছিলেন রাজশাহীর একটি ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবারের উত্তরসূরি। তার নানা মাদার বখশ ছিলেন প্রখ্যাত আইনজীবী ও রাজনীতিক। রাজশাহীতে উচ্চশিক্ষার প্রসারে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাতে তিনি ছিলেন অন্যতম। সাইদুর রহমানের বাবা আতাউর রহমানও রাজশাহীর রাজনৈতিক ইতিহাসে আলোচিত ব্যক্তি ছিলেন। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে কারাগারে অন্তরীণ থাকা অবস্থায় তিনি নির্বাচিত হন। তাঁর মা ভাষাসৈনিক মনোয়ারা রহমান সমাজসেবা ও জনকল্যাণমূলক কাজে যুক্ত ছিলেন। পারিবারিক ঐতিহ্যকে শুধু স্মৃতিতে ধরে রাখেননি সাইদুর রহমান। জনকল্যাণের সেই ধারাকে নিজের জীবনেও এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
রাজশাহী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন বলেন, রাজশাহীর সব নৈতিক আন্দোলনে সাইদুর রহমান সক্রিয় ছিলেন। দীর্ঘদিন তিনি রাজশাহীর সমস্যা ও সংকটসহ নানা বিষয়ে লিখেছেন। তার মৃত্যুতে রাজশাহীবাসীর অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।

দুপুর ১২টা থেকে বেলা দেড়টা পর্যন্ত সাইদুর রহমানের মরদেহ রাজশাহী প্রেসক্লাবের সামনে রাখা হয়েছে। সেখানে সাংবাদিক, সহকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। বাদ আসর দরগাপাড়া মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে হেঁতেম খাঁ গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।