ঢাকা ০৭:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বন্ধ মিল থেকে চলছে চাউল সংগ্রহ অভিযান রাজশাহী প্রেসক্লাবের সভাপতির সুস্থতায় দোয়া মাহফিল প্রতিবন্ধীর কষ্ট দেখে বাড়ালেন সাহায্যের হাত: হুইলচেয়ার উপহার দিলেন ছাত্রদল আহ্বায়ক বন্যাকবলিত মানুষের পাশে উপজেলা প্রশাসন, দৌলতপুরে ৭০ পরিবার পেল খাদ্য সহায়তা ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা হাসপাতালে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ভেড়ামারায়  সোনার বাংলা’র উদ্যোগে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে স্কুল ব্যাগ বিতরণ রাজশাহীতে সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিক শাহিনুর রহমান সোনা কে প্রাণনাশের হুমকির ঘোড়াঘাটে বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর, মারপিট ও লুটপাটের অভিযোগে মামলা রাজস্ব বাজেটের আওতায় ভেড়ামারায় ১০টি প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়ে মৎস্য পোনা অবমুক্ত ‎ কুষ্টিয়ায় ভেড়ামারা পৌরসভার মহাপরিকল্পনা প্রণয়নে ৩য় পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত ‎

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বন্ধ মিল থেকে চলছে চাউল সংগ্রহ অভিযান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে, আশিকুর রহমান রনি: ব্রাহ্মণবাড়িয়া দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা একাধিক চাউল মিল কাগজে কলমে সচল দেখিয়ে চাউল সংগ্রহ করে আসছে। এতে আশুগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও সরাইল সরকারি খাদ্য গুদাম বেশি।

অভিযোগ রয়েছে সরকারের নীতিমালা উপেক্ষা করে চাতাল মিল মালিক নেতা ও খাদ্য বিভাগের দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগে এই বন্ধ মিল গুলিকে সচল দেখানো হয়েছে।

আর এই ফাকে একটি চক্র কেজি প্রতি কমিশন দিয়ে বাইরে থেকে নিম্নমানের চাউল খাদ্য গুদামে সংগ্রহ করে আসছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার খাদ্যগুদামের জন্য ৭১ হাজার ৪২৬ মেট্রিক টন চাউল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় । এর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর খাদ্যগুদামের জন্য ১৯ হাজার ৮৯২ মেট্রিক টন, আশুগঞ্জ খাদ্যগুদামের জন্য ৩৯ হাজার ৭৭৫ মেট্রিক টন, ও সরাইল খাদ্যগুদামের জন্য ৯ হাজার ৫৮৯ মেট্রিক টন, চাউল সংগ্রহের জন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত করা হয়েছে । প্রতি কেজি সিদ্ধ চাউলের দাম ধরা হয় ৪৯ টাকা। চুক্তি অনুযায়ী মিল মালিকরা স্থানীয় বাজার থেকে ধান সংগ্রহ করে নিজ চাউলকলে প্রক্রিয়াজাত করে গুদামে উৎকৃষ্ট মানের চাউল সরবরাহ করবেন বলে চুক্তিবদ্ধ হন।

খাদ্য গুদামের চাউল সংগ্রহের জন্য মেসার্স মাহমুদা অটোরাইস মিল, ও মেসার্স গাজী রাইস মিল সরাইল খাদ্য গুদামে চাল সংগ্রহের জন্য, হাফিজ অটোরাইস মিল, হাজী রাইসমিল , রফিক রাইস মিল, সেকেন্দার বয়লার রাইসমিলের ও আই আন অটো রাইস মিল সদর খাদ্য গুদাম , লাল মিয়া অটো রাইস মিল আশুগঞ্জ খাদ্য গুদাম এর সঙ্গে চুক্তি হয়।

তালিকাভুক্ত চাউলকলগুলোর মধ্যে ৮টি চাতালমিলই কয়েক বছর ধরে বন্ধ। অথচ কাগজে-কলমে এসব চাউলকল থেকেই চাউল সরবরাহ দেখানো হচ্ছে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, মাহমুদা আক্তার রাইসমিল , গাজী অটোরাইস মিল , হাজী রাইসমিল, রফিক রাইস মিল, আই আন অটো রাইস মিল , সেকান্দর রাইস মিল, হাফিজ রাইস মিল দীর্ঘদিন ধরে এই চালকলই গুলু বন্ধ রয়েছে । সেখানে দীর্ঘদিন ধরে ধান ভাঙানো, সিদ্ধকরণ বা শুকানোর কোনো কার্যক্রম নেই। অনেক চাউলকলের যন্ত্রপাতিতে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। আর আশুগঞ্জের লাল মিয়া অটো রাইস মিল সিদ্ধ চউল সরবরাহের তালিকায় বরাদ্দ পেলেও তার সিদ্ধ চিমনি নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে এসব মিলগুলো চাউল সরবরাহের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়ে মাহমুদা আক্তার রাইসমিল ৪৯ মে. টন ও গাজী রাইস মিল পানিশ্বর ৫২ মে. টন, হাফিজ রাইস মিল ৪৯ মে. টন, হাজী রাইস মিল ৩৮ মে. টন, রফিক রাইস মিল ৩৯ মে. টন, সেকান্দর রাইস মিল ৪১ মে. টন, আই য়ান অটো রাইস মিল ৫৭ মে. টন, লাল মিয়া অটো রাইস মিল ৪৯ টন বরাদ্দ পেয়েছে।

তবে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায় কয়েক বছর ধরে চালকলগুলো বন্ধ। অভিযোগ রয়েছে এইসব মিল মালিক বাইরে থেকে নিম্নমানের চাল কিনে এনে গুদামে সরবারহ করেছেন । যদিও কাগজে-কলমে নিজস্ব মিল থেকে চাল সরবরাহ দেখানো হয়েছে।

চুক্তিপত্র অনুযায়ী মিলার চালের আর্দ্রতা ১৪ শতাংশ, ভাঙা দানা, লাল ও মরা দানা মুক্ত চাল সংগ্রহ করা হবে। তবে গুদামে গিয়ে দেখা যায় চালের আর্দ্রতা কমবেশি রয়েছে। চালের মধ্যে ভাঙা দানা, মরা দানা ও লাল দানার পরিমাণ অনেক বেশি। এসব চাল দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন গুদাম সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা কানিজ জাহান বিন্দুর ফোনে বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করলে তিনি বক্তব্যদিতে রাজি হননি

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বন্ধ মিল থেকে চলছে চাউল সংগ্রহ অভিযান

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বন্ধ মিল থেকে চলছে চাউল সংগ্রহ অভিযান

আপডেট টাইম : ০৭:০১:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে, আশিকুর রহমান রনি: ব্রাহ্মণবাড়িয়া দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা একাধিক চাউল মিল কাগজে কলমে সচল দেখিয়ে চাউল সংগ্রহ করে আসছে। এতে আশুগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও সরাইল সরকারি খাদ্য গুদাম বেশি।

অভিযোগ রয়েছে সরকারের নীতিমালা উপেক্ষা করে চাতাল মিল মালিক নেতা ও খাদ্য বিভাগের দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগে এই বন্ধ মিল গুলিকে সচল দেখানো হয়েছে।

আর এই ফাকে একটি চক্র কেজি প্রতি কমিশন দিয়ে বাইরে থেকে নিম্নমানের চাউল খাদ্য গুদামে সংগ্রহ করে আসছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার খাদ্যগুদামের জন্য ৭১ হাজার ৪২৬ মেট্রিক টন চাউল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় । এর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর খাদ্যগুদামের জন্য ১৯ হাজার ৮৯২ মেট্রিক টন, আশুগঞ্জ খাদ্যগুদামের জন্য ৩৯ হাজার ৭৭৫ মেট্রিক টন, ও সরাইল খাদ্যগুদামের জন্য ৯ হাজার ৫৮৯ মেট্রিক টন, চাউল সংগ্রহের জন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত করা হয়েছে । প্রতি কেজি সিদ্ধ চাউলের দাম ধরা হয় ৪৯ টাকা। চুক্তি অনুযায়ী মিল মালিকরা স্থানীয় বাজার থেকে ধান সংগ্রহ করে নিজ চাউলকলে প্রক্রিয়াজাত করে গুদামে উৎকৃষ্ট মানের চাউল সরবরাহ করবেন বলে চুক্তিবদ্ধ হন।

খাদ্য গুদামের চাউল সংগ্রহের জন্য মেসার্স মাহমুদা অটোরাইস মিল, ও মেসার্স গাজী রাইস মিল সরাইল খাদ্য গুদামে চাল সংগ্রহের জন্য, হাফিজ অটোরাইস মিল, হাজী রাইসমিল , রফিক রাইস মিল, সেকেন্দার বয়লার রাইসমিলের ও আই আন অটো রাইস মিল সদর খাদ্য গুদাম , লাল মিয়া অটো রাইস মিল আশুগঞ্জ খাদ্য গুদাম এর সঙ্গে চুক্তি হয়।

তালিকাভুক্ত চাউলকলগুলোর মধ্যে ৮টি চাতালমিলই কয়েক বছর ধরে বন্ধ। অথচ কাগজে-কলমে এসব চাউলকল থেকেই চাউল সরবরাহ দেখানো হচ্ছে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, মাহমুদা আক্তার রাইসমিল , গাজী অটোরাইস মিল , হাজী রাইসমিল, রফিক রাইস মিল, আই আন অটো রাইস মিল , সেকান্দর রাইস মিল, হাফিজ রাইস মিল দীর্ঘদিন ধরে এই চালকলই গুলু বন্ধ রয়েছে । সেখানে দীর্ঘদিন ধরে ধান ভাঙানো, সিদ্ধকরণ বা শুকানোর কোনো কার্যক্রম নেই। অনেক চাউলকলের যন্ত্রপাতিতে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। আর আশুগঞ্জের লাল মিয়া অটো রাইস মিল সিদ্ধ চউল সরবরাহের তালিকায় বরাদ্দ পেলেও তার সিদ্ধ চিমনি নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে এসব মিলগুলো চাউল সরবরাহের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়ে মাহমুদা আক্তার রাইসমিল ৪৯ মে. টন ও গাজী রাইস মিল পানিশ্বর ৫২ মে. টন, হাফিজ রাইস মিল ৪৯ মে. টন, হাজী রাইস মিল ৩৮ মে. টন, রফিক রাইস মিল ৩৯ মে. টন, সেকান্দর রাইস মিল ৪১ মে. টন, আই য়ান অটো রাইস মিল ৫৭ মে. টন, লাল মিয়া অটো রাইস মিল ৪৯ টন বরাদ্দ পেয়েছে।

তবে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায় কয়েক বছর ধরে চালকলগুলো বন্ধ। অভিযোগ রয়েছে এইসব মিল মালিক বাইরে থেকে নিম্নমানের চাল কিনে এনে গুদামে সরবারহ করেছেন । যদিও কাগজে-কলমে নিজস্ব মিল থেকে চাল সরবরাহ দেখানো হয়েছে।

চুক্তিপত্র অনুযায়ী মিলার চালের আর্দ্রতা ১৪ শতাংশ, ভাঙা দানা, লাল ও মরা দানা মুক্ত চাল সংগ্রহ করা হবে। তবে গুদামে গিয়ে দেখা যায় চালের আর্দ্রতা কমবেশি রয়েছে। চালের মধ্যে ভাঙা দানা, মরা দানা ও লাল দানার পরিমাণ অনেক বেশি। এসব চাল দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন গুদাম সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা কানিজ জাহান বিন্দুর ফোনে বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করলে তিনি বক্তব্যদিতে রাজি হননি