ঢাকা ১১:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
রাজশাহী প্রেসক্লাবের সভাপতির সুস্থতায় দোয়া মাহফিল প্রতিবন্ধীর কষ্ট দেখে বাড়ালেন সাহায্যের হাত: হুইলচেয়ার উপহার দিলেন ছাত্রদল আহ্বায়ক বন্যাকবলিত মানুষের পাশে উপজেলা প্রশাসন, দৌলতপুরে ৭০ পরিবার পেল খাদ্য সহায়তা ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা হাসপাতালে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ভেড়ামারায়  সোনার বাংলা’র উদ্যোগে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে স্কুল ব্যাগ বিতরণ রাজশাহীতে সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিক শাহিনুর রহমান সোনা কে প্রাণনাশের হুমকির ঘোড়াঘাটে বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর, মারপিট ও লুটপাটের অভিযোগে মামলা রাজস্ব বাজেটের আওতায় ভেড়ামারায় ১০টি প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়ে মৎস্য পোনা অবমুক্ত ‎ কুষ্টিয়ায় ভেড়ামারা পৌরসভার মহাপরিকল্পনা প্রণয়নে ৩য় পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত ‎ কুষ্টিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনা রোধ ও ট্রাফিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভেড়ামারা থানার বিশেষ কার্যক্রম

প্রতিবন্ধীর কষ্ট দেখে বাড়ালেন সাহায্যের হাত: হুইলচেয়ার উপহার দিলেন ছাত্রদল আহ্বায়ক

হেলাল উদ্দিন,দৌলতপুর(কুষ্টিয়া): একটি সড়ক দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছিল ১০ বছর বয়সী শাকিবের স্বাভাবিক জীবন। শারীরিক ও বাক প্রতিবন্ধকতার কারণে এরপর থেকে ঘরের বাইরে বের হলেই মায়ের কোলে ছিল তার একমাত্র ভরসা। তবে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শাকিবের পাশে দাঁড়িয়েছেন একজন মানবিক মানুষ। উপহার দিয়েছেন নতুন হুইলচেয়ার। আর সেই হুইলচেয়ার পেয়ে ১৩ বছরের শাকিবের চোখে-মুখে এখন বিশ্বজয়ের আনন্দ।

কখনো মায়ের কোলে, কখনো ঘরের চার দেয়ালের মধ্যে—এভাবেই কেটে যাচ্ছিল ১৩ বছরের শাকিবের জীবন।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার বড়গাংদিয়া পশ্চিমপাড়ার সাইদুল ও ইসমতারা দম্পতির ছেলে শাকিব। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় ভালো ছিল সে। নিয়মিত স্কুলেও যেত।

কিন্তু তিন বছর আগে একটি সড়ক দুর্ঘটনা নিমিষেই বদলে দেয় তার জীবন। মাত্র ১০ বছর বয়সেই শারীরিক ও বাক প্রতিবন্ধকতার শিকার হয় শাকিব।

১৩ বছরের একটি ছেলেকে প্রতিনিয়ত মায়ের কোলে করে চলাফেরা করতে দেখে বিষয়টি নজরে আসে স্থানীয় এক গণমাধ্যমকর্মীর। তিনি শাকিবের একটি ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন এবং তার জন্য একটি হুইলচেয়ারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

সেই ভিডিও নজরে আসে দৌলতপুর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদুজ্জামান রুবেলের। শাকিবের চলাফেরার কষ্টের কথা জানতে পেরে আর দেরি করেননি তিনি।

অবশেষে বুধবার দুপুরে শাকিবের বাড়িতে গিয়ে তার হাতে নতুন হুইলচেয়ার তুলে দেন মাসুদুজ্জামান রুবেল।

হুইলচেয়ার পেয়ে যেন বদলে যায় শাকিবের পুরো পৃথিবী। নিজের নতুন বাহনে বসে তার চোখে-মুখে ফুটে ওঠে আনন্দ। পরিবারের কাছেও এটি যেন শুধু একটি হুইলচেয়ার নয়—শাকিবের স্বাভাবিকভাবে চলাফেরার নতুন সুযোগ।

শাকিবের নতুন এই পথচলায় আনন্দিত প্রতিবেশীরাও।

তাদের প্রত্যাশা, সমাজের সামর্থ্যবান ও মানবিক মানুষগুলো যদি এভাবে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান, তাহলে শাকিবের মতো অনেক প্রতিবন্ধী শিশুর জীবন আরও সহজ ও সুন্দর হয়ে উঠবে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

রাজশাহী প্রেসক্লাবের সভাপতির সুস্থতায় দোয়া মাহফিল

প্রতিবন্ধীর কষ্ট দেখে বাড়ালেন সাহায্যের হাত: হুইলচেয়ার উপহার দিলেন ছাত্রদল আহ্বায়ক

আপডেট টাইম : ০৮:২৯:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হেলাল উদ্দিন,দৌলতপুর(কুষ্টিয়া): একটি সড়ক দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছিল ১০ বছর বয়সী শাকিবের স্বাভাবিক জীবন। শারীরিক ও বাক প্রতিবন্ধকতার কারণে এরপর থেকে ঘরের বাইরে বের হলেই মায়ের কোলে ছিল তার একমাত্র ভরসা। তবে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শাকিবের পাশে দাঁড়িয়েছেন একজন মানবিক মানুষ। উপহার দিয়েছেন নতুন হুইলচেয়ার। আর সেই হুইলচেয়ার পেয়ে ১৩ বছরের শাকিবের চোখে-মুখে এখন বিশ্বজয়ের আনন্দ।

কখনো মায়ের কোলে, কখনো ঘরের চার দেয়ালের মধ্যে—এভাবেই কেটে যাচ্ছিল ১৩ বছরের শাকিবের জীবন।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার বড়গাংদিয়া পশ্চিমপাড়ার সাইদুল ও ইসমতারা দম্পতির ছেলে শাকিব। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় ভালো ছিল সে। নিয়মিত স্কুলেও যেত।

কিন্তু তিন বছর আগে একটি সড়ক দুর্ঘটনা নিমিষেই বদলে দেয় তার জীবন। মাত্র ১০ বছর বয়সেই শারীরিক ও বাক প্রতিবন্ধকতার শিকার হয় শাকিব।

১৩ বছরের একটি ছেলেকে প্রতিনিয়ত মায়ের কোলে করে চলাফেরা করতে দেখে বিষয়টি নজরে আসে স্থানীয় এক গণমাধ্যমকর্মীর। তিনি শাকিবের একটি ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন এবং তার জন্য একটি হুইলচেয়ারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

সেই ভিডিও নজরে আসে দৌলতপুর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদুজ্জামান রুবেলের। শাকিবের চলাফেরার কষ্টের কথা জানতে পেরে আর দেরি করেননি তিনি।

অবশেষে বুধবার দুপুরে শাকিবের বাড়িতে গিয়ে তার হাতে নতুন হুইলচেয়ার তুলে দেন মাসুদুজ্জামান রুবেল।

হুইলচেয়ার পেয়ে যেন বদলে যায় শাকিবের পুরো পৃথিবী। নিজের নতুন বাহনে বসে তার চোখে-মুখে ফুটে ওঠে আনন্দ। পরিবারের কাছেও এটি যেন শুধু একটি হুইলচেয়ার নয়—শাকিবের স্বাভাবিকভাবে চলাফেরার নতুন সুযোগ।

শাকিবের নতুন এই পথচলায় আনন্দিত প্রতিবেশীরাও।

তাদের প্রত্যাশা, সমাজের সামর্থ্যবান ও মানবিক মানুষগুলো যদি এভাবে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান, তাহলে শাকিবের মতো অনেক প্রতিবন্ধী শিশুর জীবন আরও সহজ ও সুন্দর হয়ে উঠবে।