ঢাকা ০৬:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
ভেড়ামারায় অবৈধ বিড়ি কারখানায় অভিযানকালে হামলায় দুই কাষ্টমস কর্মকর্তা আহত, গাড়ি ভাংচুর মিরপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে জন্মাষ্টমী উদযাপন নাগরপুরে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পুরুষোত্তম ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমীব্রত পালিত ভেড়ামারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বাল্যবিয়ে বন্ধ: মেয়ের মায়ের মুচলেকা ভেড়ামারায় ৫০ পিস ইয়াবাসহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেফতার ভেড়ামারায় মৎস্য সুরক্ষা অভিযান: ৭০ হাজার টাকার চায়না দুয়ারি জাল জব্দ ও ধ্বংস ভেড়ামারা থানায় কুষ্টিয়ার নবাগত পুলিশ সুপারের আকস্মিক পরিদর্শন গোলাপগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের কমিটি পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত মোহনপুরে মাদরাসা প্রধানের নারীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ ভিডিও ভাইরাল দৌলতপুরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সভায় হাবলু মোল্লার হাসপাতাল নির্মাণের ঘোষণা

টাকাও গেছে,স্বপ্নও গেছে: ন্যায়বিচারের দাবিতে ভুক্তভোগীদের সংবাদ সম্মেলন

হেলাল উদ্দিন,দৌলতপুর(কুষ্টিয়া): কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া, বিদেশে পাঠানোর পর কাজ না দেওয়া ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে আবু তাহের শাহ্ ও তার দুই ছেলে তুহিন ও তপন বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।

বুধবার (১৯ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা বাজারে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা তাঁদের কাছ থেকে নেওয়া টাকা ফেরত, প্রতারণার তদন্ত এবং অভিযুক্ত আবু তাহের শাহ্ ও তার দুই ছেলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, সৌদি আরব দেশে ভালো বেতনে চাকরি দেওয়ার কথা বলে তাঁদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। তাঁদের অভিযোগ, টাকা নেওয়ার পর কাউকে বিদেশে পাঠানো হলেও সেখানে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ দেওয়া হয়নি। আবার কেউ কেউ বিদেশ থেকে ফিরে এলেও তাঁদের দেওয়া বিপুল পরিমাণ টাকাও ফেরত দেওয়া হয়নি।

খবির উদ্দিন এর ছেলে শাকিল আহমেদ, বলেন, তাঁর বোনের স্বামী রুবেল হোসেনকে সৌদি আরব দেশে পাঠানোর কথা বলে আবু তাহের শাহ্ ৫ লাখ টাকা নেয়। রুবেলকে সৌদি আরব দেশে নেওয়ার পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ না দিয়ে নির্যাতন করা হয়। পরে জীবন বাঁচাতে রুবেল সেখান থেকে পালিয়ে অন্য জায়গায় আশ্রয় নেন। বর্তমানে তিনি পলাতক অবস্থায় রয়েছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

শাকিল আহমেদ বলেন, “ভালো কাজ ও নিরাপদ জীবনের আশ্বাস দিয়ে আমাদের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল। বিদেশে যাওয়ার পর আমার বোনের স্বামীকে কাজ না দিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। পরে সে জীবন বাঁচাতে অন্য জায়গায় চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। এখনো সে নিরাপদে ফিরতে পারেনি।” এসব কথা আবু তাহেরকে বলতে গেলেই আমাদের নানাভাবে হুমকি ধামকি সহ মারধর করার চেষ্টা করে এবং আমাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে নানা ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। এর সুষ্ঠু বিচার চাই আমরা।

আরেক ভুক্তভোগী মতিউর রহমান, পিতা মো. বিল্লাল হোসেন, জানান, সৌদি আরব দেশে পাঠানোর কথা বলে তাঁর কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল। তিনি মানিকদিয়য়াড় গ্রামের বাসিন্দা। পরে তিনি সৌদি আরব দেশে থেকে ৯ দিনের মাথায় ফিরে এসেছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান।

মতিউর রহমান বলেন, “বিদেশে পাঠিয়ে ভালো চাকরি দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। সেই আশ্বাসে টাকা দিয়েছিলাম। কিন্তু যে ধরনের কাজ ও সুযোগের কথা বলা হয়েছিল, তা পাইনি। অনেক সমস্যার পর দেশে ফিরে আসতে হয়েছে।” এবং সেখানে আমার উপরেও অমানবিক নির্যাতন করা হয়।

গোপীনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. লুৎফর শাহ, এর ছেলে মো. বিজয় হোসেন, তাঁর অভিযোগ সৌদি আরব দেশে যাওয়ার জন্য আবু তাহের শাহ্ কে ৫ লাখ ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল। তিনিও পরে ঐ দেশ থেকে ফিরে এসেছেন বলে জানান।

বিজয় হোসেন বলেন, “বিদেশে যাওয়ার জন্য পরিবারের জমানো টাকা ও ধার দেনা করে টাকা দিয়েছিলাম। বিদেশে গিয়ে প্রত্যাশিত সুযোগ-সুবিধা পাইনি। এতে আমার পরিবারটি আর্থিকভাবে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে।”

এছাড়াও গোপীনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. লিটন হোসেনের ছেলে কবির হোসেন আবু তাহের শাহ্ ও তার দুই ছেলের প্রতারণা শিকার হয়েছেন বলে তাঁর মা মাবিয়া খাতুন অভিযোগ করেন।

সৌদি আরব দেশে পাঠানোর কথা বলে তাঁর ছেলের কাছ থেকে ৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল। তিনিও পরবর্তীতে দেশে ফিরে এসেছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

ভুক্তভোগীদের দাবি, তাঁদের মতো আরও অনেক জনের কাছ থেকেও সৌদি আরব দেশে পাঠানোর কথা বলে বিপুল পরিমাণ টাকা নেওয়া হয়েছে। তাঁরা বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা আরও অভিযোগ করেন, আবু তাহের শাহ্ এর দুই ছেলে তুহিন ও তপন সৌদি আরবে অবস্থান করেন। তাঁদের দাবি, বিদেশে লোক পাঠানোর কাজটি বিদেশে থাকা দুই ছেলে পরিচালনা করেন এবং বাংলাদেশে তাঁদের বাবা আবু তাহের শাহ্ এর মাধ্যমে টাকা নেওয়া ও অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিদেশে যাওয়ার আশায় জমি-জমা বিক্রি, ধারদেনা ও পরিবারের সঞ্চয়ের টাকা দিয়ে তাঁরা আবু তাহের শাহ্ র কাছে টাকা দিয়ে ছিলেন কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সুবিধা না পাওয়ায় অনেকেই এখন আর্থিক সংকটে পড়েছেন।

প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের দাবি জানান ভুক্তভোগীরা। একই সঙ্গে বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে যাতে আর কোনো ব্যক্তি প্রতারণার শিকার না হন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তাঁরা।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

ভেড়ামারায় অবৈধ বিড়ি কারখানায় অভিযানকালে হামলায় দুই কাষ্টমস কর্মকর্তা আহত, গাড়ি ভাংচুর

টাকাও গেছে,স্বপ্নও গেছে: ন্যায়বিচারের দাবিতে ভুক্তভোগীদের সংবাদ সম্মেলন

আপডেট টাইম : ০৬:৩২:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

হেলাল উদ্দিন,দৌলতপুর(কুষ্টিয়া): কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া, বিদেশে পাঠানোর পর কাজ না দেওয়া ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে আবু তাহের শাহ্ ও তার দুই ছেলে তুহিন ও তপন বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।

বুধবার (১৯ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা বাজারে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা তাঁদের কাছ থেকে নেওয়া টাকা ফেরত, প্রতারণার তদন্ত এবং অভিযুক্ত আবু তাহের শাহ্ ও তার দুই ছেলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, সৌদি আরব দেশে ভালো বেতনে চাকরি দেওয়ার কথা বলে তাঁদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। তাঁদের অভিযোগ, টাকা নেওয়ার পর কাউকে বিদেশে পাঠানো হলেও সেখানে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ দেওয়া হয়নি। আবার কেউ কেউ বিদেশ থেকে ফিরে এলেও তাঁদের দেওয়া বিপুল পরিমাণ টাকাও ফেরত দেওয়া হয়নি।

খবির উদ্দিন এর ছেলে শাকিল আহমেদ, বলেন, তাঁর বোনের স্বামী রুবেল হোসেনকে সৌদি আরব দেশে পাঠানোর কথা বলে আবু তাহের শাহ্ ৫ লাখ টাকা নেয়। রুবেলকে সৌদি আরব দেশে নেওয়ার পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ না দিয়ে নির্যাতন করা হয়। পরে জীবন বাঁচাতে রুবেল সেখান থেকে পালিয়ে অন্য জায়গায় আশ্রয় নেন। বর্তমানে তিনি পলাতক অবস্থায় রয়েছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

শাকিল আহমেদ বলেন, “ভালো কাজ ও নিরাপদ জীবনের আশ্বাস দিয়ে আমাদের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল। বিদেশে যাওয়ার পর আমার বোনের স্বামীকে কাজ না দিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। পরে সে জীবন বাঁচাতে অন্য জায়গায় চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। এখনো সে নিরাপদে ফিরতে পারেনি।” এসব কথা আবু তাহেরকে বলতে গেলেই আমাদের নানাভাবে হুমকি ধামকি সহ মারধর করার চেষ্টা করে এবং আমাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে নানা ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। এর সুষ্ঠু বিচার চাই আমরা।

আরেক ভুক্তভোগী মতিউর রহমান, পিতা মো. বিল্লাল হোসেন, জানান, সৌদি আরব দেশে পাঠানোর কথা বলে তাঁর কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল। তিনি মানিকদিয়য়াড় গ্রামের বাসিন্দা। পরে তিনি সৌদি আরব দেশে থেকে ৯ দিনের মাথায় ফিরে এসেছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান।

মতিউর রহমান বলেন, “বিদেশে পাঠিয়ে ভালো চাকরি দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। সেই আশ্বাসে টাকা দিয়েছিলাম। কিন্তু যে ধরনের কাজ ও সুযোগের কথা বলা হয়েছিল, তা পাইনি। অনেক সমস্যার পর দেশে ফিরে আসতে হয়েছে।” এবং সেখানে আমার উপরেও অমানবিক নির্যাতন করা হয়।

গোপীনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. লুৎফর শাহ, এর ছেলে মো. বিজয় হোসেন, তাঁর অভিযোগ সৌদি আরব দেশে যাওয়ার জন্য আবু তাহের শাহ্ কে ৫ লাখ ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল। তিনিও পরে ঐ দেশ থেকে ফিরে এসেছেন বলে জানান।

বিজয় হোসেন বলেন, “বিদেশে যাওয়ার জন্য পরিবারের জমানো টাকা ও ধার দেনা করে টাকা দিয়েছিলাম। বিদেশে গিয়ে প্রত্যাশিত সুযোগ-সুবিধা পাইনি। এতে আমার পরিবারটি আর্থিকভাবে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে।”

এছাড়াও গোপীনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. লিটন হোসেনের ছেলে কবির হোসেন আবু তাহের শাহ্ ও তার দুই ছেলের প্রতারণা শিকার হয়েছেন বলে তাঁর মা মাবিয়া খাতুন অভিযোগ করেন।

সৌদি আরব দেশে পাঠানোর কথা বলে তাঁর ছেলের কাছ থেকে ৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল। তিনিও পরবর্তীতে দেশে ফিরে এসেছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

ভুক্তভোগীদের দাবি, তাঁদের মতো আরও অনেক জনের কাছ থেকেও সৌদি আরব দেশে পাঠানোর কথা বলে বিপুল পরিমাণ টাকা নেওয়া হয়েছে। তাঁরা বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা আরও অভিযোগ করেন, আবু তাহের শাহ্ এর দুই ছেলে তুহিন ও তপন সৌদি আরবে অবস্থান করেন। তাঁদের দাবি, বিদেশে লোক পাঠানোর কাজটি বিদেশে থাকা দুই ছেলে পরিচালনা করেন এবং বাংলাদেশে তাঁদের বাবা আবু তাহের শাহ্ এর মাধ্যমে টাকা নেওয়া ও অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিদেশে যাওয়ার আশায় জমি-জমা বিক্রি, ধারদেনা ও পরিবারের সঞ্চয়ের টাকা দিয়ে তাঁরা আবু তাহের শাহ্ র কাছে টাকা দিয়ে ছিলেন কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সুবিধা না পাওয়ায় অনেকেই এখন আর্থিক সংকটে পড়েছেন।

প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের দাবি জানান ভুক্তভোগীরা। একই সঙ্গে বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে যাতে আর কোনো ব্যক্তি প্রতারণার শিকার না হন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তাঁরা।