ঢাকা ০২:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
নওগাঁয় বৈদ্যুতিক পোল অপসারণ না করার কারণে থমকে আছে আঞ্চলিক সড়কের উন্নয়ন কাজ ঘোড়াঘাটে ৩২ বছরের পুরোনো এক্স-রে মেশিনে চলছে চিকিৎসাসেবা, রোগীদের চরম ভোগান্তি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলাম (জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত)-এর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুন (১৯) আত্মহত্যা করেছেন। ভেড়ামারায় তরুণীকে অপহরণ ও ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ, সাবেক স্বামী আটক টাঙ্গাইলে মরহুম ফরিদ সিকদার সৃতি ফুটবল ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬ আয়োজিত বিশেষ অভিযানে ২ মামলার আসামি গ্রেপ্তার, আদালতে পাঠাল পাটকেলঘাটা থানা পুলিশ নাগরপুরে ১২০ পিচ ইয়াবা সহ ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার তানোর-রাজশাহী সড়ক যেন মৃত্যুপুরী; কনক্রিট রাস্তার ফাটল ধরায় বন্ধ রয়েছে নির্মান কাজ দৌলতপুরে বেপরোয়া মোটরসাইকেলের ধাক্কায় বৃদ্ধ নিহত, তিন যুবক আটক পাওনা টাকা চাওয়ায় বাবা-ছেলে আহত

ফেভারিট পবাকে কাঁদিয়ে ফাইনালে মোহনপুর, রায়হানকে কাঁধে নিয়ে চ্যাম্পিয়নের উল্লাস

ফেভারিট পবাকে কাঁদিয়ে ফাইনালে মোহনপুর, রায়হানকে কাঁধে নিয়ে চ্যাম্পিয়নের উল্লাস

 

রাজশাহী ব্যুরো: জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে সেমিফাইনালই হয়ে ওঠে ফাইনাল। টানটান উত্তেজনা আর মুহুরমুহু আক্রমনে ফুটবল প্রেমীদের মন জয় করেছে টুর্নামেন্টের প্রথম সেমিফাইনাল। একদিকে গত আসরের চ্যাম্পিয়ন মোহনপুর উপজেলা, অন্যদিকে এবারের আসরের সবচেয়ে ফেভারিট দল পবা উপজেলা। সেমিফাইনালের এই লড়াইকে ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ ছিল তুঙ্গে। শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য ৯০ মিনিটের পর ট্রাইবেকারে পবাকে ৪-২ গোলে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে গতবারের চ্যাম্পিয়ন মোহনপুর।

সোমবার (৩১ আগষ্ট) রাজশাহী মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের সপ্তম ম্যাচ তথা প্রথম সেমিফাইনাল ঘিরে স্টেডিয়ামে ছিল দর্শকদের উপচেপড়া ভিড়। মোহনপুর ও পবা উপজেলা ছাড়াও দূরদূরান্ত থেকে ফুটবলপ্রেমীরা ছুটে আসেন জমজমাট এই লড়াই দেখতে। আয়োজকদের ভাষ্য, বিগত প্রায় ১৫ বছরে এমন দর্শকসমাগম স্টেডিয়ামে দেখা যায়নি। কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় পুরো গ্যালারি।
খেলার শুরু থেকেই ছিল আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের উত্তেজনা। কোনো দলই একে অপরকে বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে রাজি ছিল না। প্রথমার্ধে পবা তুলনামূলকভাবে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও মোহনপুরের রক্ষণভাগ ছিল দৃঢ়। প্রথমার্ধে পবা একটি গোল করলেও সেটি স্থায়ী হয়নি। রেফারির তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে অফসাইডের ফাঁদে ধরা পড়ায় গোলটি বাতিল হয়ে যায়। ফলে গোলশূন্য অবস্থায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।

দ্বিতীয়ার্ধে গোলের জন্য আরও মরিয়া হয়ে ওঠে দুই দল। তবে এবার যেন অন্যরূপে দেখা যায় গতবারের চ্যাম্পিয়ন মোহনপুরকে। মুহুর্মুহু আক্রমণে পবার রক্ষণভাগকে চাপে ফেলে দেয় তারা। একের পর এক আক্রমণে পবার খেলোয়াড়রা অনেকটা কোনঠাসা হয়ে পড়লেও কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি মোহনপুরও।
নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষ হলেও গোলের দেখা পায়নি কোনো দল। ফলে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে আশ্রয় নিতে হয় ট্রাইবেকারের।

ট্রাইবেকারে শুরু হয় আরও এক দফা উত্তেজনা। দুই দলের বিদেশি খেলোয়াড়রাও স্পট কিক থেকে গোল করতে সক্ষম হন। তবে শেষ পর্যন্ত পবা চারটি শটের মধ্যে দুটি গোল করতে সক্ষম হয়। বিপরীতে মোহনপুর চারটি শটের চারটিতেই গোল করে। ফলে ৪-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ফাইনালে উঠে যায় গতবারের চ্যাম্পিয়ন মোহনপুর উপজেলা।

মোহনপুরের জয় নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে ফেটে পড়ে স্টেডিয়ামের গ্যালারি। সমর্থকদের সেই আনন্দে যোগ দেন দলের খেলোয়াড়রাও। মুহূর্তেই উৎসবের রূপ নেয় পুরো মাঠ। জয়ের নায়ক গোলরক্ষক রায়হান আলীকে কাঁধে তুলে গ্যালারির দিকে এগিয়ে যান মোহনপুরের খেলোয়াড়রা। এ সময় উচ্ছ্বসিত সমর্থকরা রায়হানের হাত ধরে চুম্বন করে নিজেদের ভালোবাসা প্রকাশ করেন। মাঠের এমন আবেগঘন দৃশ্যকে অনেকেই জাতীয় পর্যায়ের বড় কোনো টুর্নামেন্টের উদযাপনের সঙ্গে তুলনা করেন। পরে দলের কোচ মামুনাল ইসলাম জেডকেও কাঁধে তুলে নিয়ে আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠেন খেলোয়াড়রা তাদের নাচ-গান আর উচ্ছ্বাসে মনে হচ্ছিল, যেন ফাইনালে ওঠার আগেই চ্যাম্পিয়নের স্বাদ পেয়ে গেছে মোহনপুর।

অন্যদিকে এবারের আসরের অন্যতম শক্তিশালী ও ফেভারিট দল হিসেবে বিবেচিত পবার বিদায়ে হতাশ হন তাদের সমর্থকরা। তবে পুরো ম্যাচে দুই দলের লড়াই, আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ এবং শেষ পর্যন্ত ট্রাইবেকারের নাটকীয়তা সেমিফাইনালকে স্মরণীয় করে রাখে।
গতবারের চ্যাম্পিয়ন মোহনপুরের এই জয় শুধু তাদের ফাইনালে ওঠাই নিশ্চিত করেনি, বরং টুর্নামেন্টে শিরোপা ধরে রাখার প্রত্যয়ও আরও জোরালো করেছে।
এদিকে আরও একটি সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২ সেপ্টেম্বর (বুধবার)। আগামী ম্যাচকে ঘিরেও আয়োজকদের ব্যপক প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন জেলা ক্রিড়া কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

নওগাঁয় বৈদ্যুতিক পোল অপসারণ না করার কারণে থমকে আছে আঞ্চলিক সড়কের উন্নয়ন কাজ

ফেভারিট পবাকে কাঁদিয়ে ফাইনালে মোহনপুর, রায়হানকে কাঁধে নিয়ে চ্যাম্পিয়নের উল্লাস

আপডেট টাইম : ০৭:২২:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

ফেভারিট পবাকে কাঁদিয়ে ফাইনালে মোহনপুর, রায়হানকে কাঁধে নিয়ে চ্যাম্পিয়নের উল্লাস

 

রাজশাহী ব্যুরো: জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে সেমিফাইনালই হয়ে ওঠে ফাইনাল। টানটান উত্তেজনা আর মুহুরমুহু আক্রমনে ফুটবল প্রেমীদের মন জয় করেছে টুর্নামেন্টের প্রথম সেমিফাইনাল। একদিকে গত আসরের চ্যাম্পিয়ন মোহনপুর উপজেলা, অন্যদিকে এবারের আসরের সবচেয়ে ফেভারিট দল পবা উপজেলা। সেমিফাইনালের এই লড়াইকে ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ ছিল তুঙ্গে। শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য ৯০ মিনিটের পর ট্রাইবেকারে পবাকে ৪-২ গোলে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে গতবারের চ্যাম্পিয়ন মোহনপুর।

সোমবার (৩১ আগষ্ট) রাজশাহী মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের সপ্তম ম্যাচ তথা প্রথম সেমিফাইনাল ঘিরে স্টেডিয়ামে ছিল দর্শকদের উপচেপড়া ভিড়। মোহনপুর ও পবা উপজেলা ছাড়াও দূরদূরান্ত থেকে ফুটবলপ্রেমীরা ছুটে আসেন জমজমাট এই লড়াই দেখতে। আয়োজকদের ভাষ্য, বিগত প্রায় ১৫ বছরে এমন দর্শকসমাগম স্টেডিয়ামে দেখা যায়নি। কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় পুরো গ্যালারি।
খেলার শুরু থেকেই ছিল আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের উত্তেজনা। কোনো দলই একে অপরকে বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে রাজি ছিল না। প্রথমার্ধে পবা তুলনামূলকভাবে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও মোহনপুরের রক্ষণভাগ ছিল দৃঢ়। প্রথমার্ধে পবা একটি গোল করলেও সেটি স্থায়ী হয়নি। রেফারির তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে অফসাইডের ফাঁদে ধরা পড়ায় গোলটি বাতিল হয়ে যায়। ফলে গোলশূন্য অবস্থায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।

দ্বিতীয়ার্ধে গোলের জন্য আরও মরিয়া হয়ে ওঠে দুই দল। তবে এবার যেন অন্যরূপে দেখা যায় গতবারের চ্যাম্পিয়ন মোহনপুরকে। মুহুর্মুহু আক্রমণে পবার রক্ষণভাগকে চাপে ফেলে দেয় তারা। একের পর এক আক্রমণে পবার খেলোয়াড়রা অনেকটা কোনঠাসা হয়ে পড়লেও কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি মোহনপুরও।
নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষ হলেও গোলের দেখা পায়নি কোনো দল। ফলে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে আশ্রয় নিতে হয় ট্রাইবেকারের।

ট্রাইবেকারে শুরু হয় আরও এক দফা উত্তেজনা। দুই দলের বিদেশি খেলোয়াড়রাও স্পট কিক থেকে গোল করতে সক্ষম হন। তবে শেষ পর্যন্ত পবা চারটি শটের মধ্যে দুটি গোল করতে সক্ষম হয়। বিপরীতে মোহনপুর চারটি শটের চারটিতেই গোল করে। ফলে ৪-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ফাইনালে উঠে যায় গতবারের চ্যাম্পিয়ন মোহনপুর উপজেলা।

মোহনপুরের জয় নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে ফেটে পড়ে স্টেডিয়ামের গ্যালারি। সমর্থকদের সেই আনন্দে যোগ দেন দলের খেলোয়াড়রাও। মুহূর্তেই উৎসবের রূপ নেয় পুরো মাঠ। জয়ের নায়ক গোলরক্ষক রায়হান আলীকে কাঁধে তুলে গ্যালারির দিকে এগিয়ে যান মোহনপুরের খেলোয়াড়রা। এ সময় উচ্ছ্বসিত সমর্থকরা রায়হানের হাত ধরে চুম্বন করে নিজেদের ভালোবাসা প্রকাশ করেন। মাঠের এমন আবেগঘন দৃশ্যকে অনেকেই জাতীয় পর্যায়ের বড় কোনো টুর্নামেন্টের উদযাপনের সঙ্গে তুলনা করেন। পরে দলের কোচ মামুনাল ইসলাম জেডকেও কাঁধে তুলে নিয়ে আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠেন খেলোয়াড়রা তাদের নাচ-গান আর উচ্ছ্বাসে মনে হচ্ছিল, যেন ফাইনালে ওঠার আগেই চ্যাম্পিয়নের স্বাদ পেয়ে গেছে মোহনপুর।

অন্যদিকে এবারের আসরের অন্যতম শক্তিশালী ও ফেভারিট দল হিসেবে বিবেচিত পবার বিদায়ে হতাশ হন তাদের সমর্থকরা। তবে পুরো ম্যাচে দুই দলের লড়াই, আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ এবং শেষ পর্যন্ত ট্রাইবেকারের নাটকীয়তা সেমিফাইনালকে স্মরণীয় করে রাখে।
গতবারের চ্যাম্পিয়ন মোহনপুরের এই জয় শুধু তাদের ফাইনালে ওঠাই নিশ্চিত করেনি, বরং টুর্নামেন্টে শিরোপা ধরে রাখার প্রত্যয়ও আরও জোরালো করেছে।
এদিকে আরও একটি সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২ সেপ্টেম্বর (বুধবার)। আগামী ম্যাচকে ঘিরেও আয়োজকদের ব্যপক প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন জেলা ক্রিড়া কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন।