ঢাকা ০৬:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. শরীফ উদ্দিন রিমনকে আটক করেছে পুলিশ রাজশাহী প্রেসক্লাবের সভাপতি প্রবীণ সাংবাদিক সাইদুর রহমান আর নেই নওগাঁয় বৈদ্যুতিক পোল অপসারণ না করার কারণে থমকে আছে আঞ্চলিক সড়কের উন্নয়ন কাজ ঘোড়াঘাটে ৩২ বছরের পুরোনো এক্স-রে মেশিনে চলছে চিকিৎসাসেবা, রোগীদের চরম ভোগান্তি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলাম (জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত)-এর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুন (১৯) আত্মহত্যা করেছেন। ভেড়ামারায় তরুণীকে অপহরণ ও ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ, সাবেক স্বামী আটক টাঙ্গাইলে মরহুম ফরিদ সিকদার সৃতি ফুটবল ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬ আয়োজিত বিশেষ অভিযানে ২ মামলার আসামি গ্রেপ্তার, আদালতে পাঠাল পাটকেলঘাটা থানা পুলিশ নাগরপুরে ১২০ পিচ ইয়াবা সহ ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার তানোর-রাজশাহী সড়ক যেন মৃত্যুপুরী; কনক্রিট রাস্তার ফাটল ধরায় বন্ধ রয়েছে নির্মান কাজ

রাজশাহীতে বার বার বাসশ্রমিকদের উসকে দিয়ে জনভোগান্তির চেষ্টা

মাররণ, মামলা মোকদ্দমা! এরপর গত ১৪ জুলাই হঠাৎ শ্রমিকদের দাবি আদায়ের তকমা দিয়ে সকল টিকিট কাউন্টার বন্ধের ঘোষনা এবং শ্রমিকদের মাঝে উত্তেজনা সৃষ্টি। কেন এই অস্তিরতা?

রাজশাহীর পরিবহন খাতে অস্থিরতা দেখা দিলেই আলোচনায় উঠে আসে একটি নাম, মোমিন! কেন বারবার রাজশাহীর মোটর শ্রমিকদের মধ্যে সংঘাত সৃষ্টি হচ্ছে? কেন বাড়ছে মামলা-মোকদ্দমা? আর কে এই মোমিন? মোমিনের পুরো নাম মোমিনুল ইসলাম মোমিন। তিনি রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক।

রাজশাহী মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের এই সাবেক নেতা কীভাবে একজন সাধারণ শ্রমিক থেকে প্রভাবশালী শ্রমিক নেতায় পরিণত হলেন এবং কেন সম্প্রতি পরিবহন সংকটের সঙ্গে তার নাম বারবার আলোচনায় আসছে, এসব প্রশ্ন এখন শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের মধ্যেও ঘুরপাক খাচ্ছে।

শ্রমিকদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে মোমিন ও তার প্যানেলের নেতাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম, আর্থিক দুর্নীতি এবং শ্রমিকদের সঙ্গে অসদাচরণ করতেন। তাদের দাবি, সাধারণ শ্রমিক থেকে আজ তারা বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।

জানা যায়, ২০০১ সালের দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ রুটে চলাচলকারী যাত্রীবাহী বাসে হেলপারের কাজ করতেন মোমিন। পরে তিনি সুপারভাইজার, এরপর চালক হিসেবে কাজ করেন। ২০০৩-০৬ মেয়াদে মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর তিনি দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্ব পান এবং ২০১৭ সাল পর্যন্ত ওই পদে দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৭ সালের ইউনিয়ন নির্বাচনে তৎকালীন নেতৃত্বকে ভোটের মাধ্যমে পরিবর্তনের চেষ্টা হলে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘাত সৃষ্টি হয়। ওই সময় ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, ওই ঘটনার পর মোমিন সাধারণ সম্পাদক এবং কামাল হোসেন রবি সভাপতি হন।

পরে শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে ২০১৯ সালে পুনরায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই নির্বাচন ঘিরেও উত্তেজনা, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। শেষ পর্যন্ত ওই নির্বাচনে নেতৃত্বে পরিবর্তন আসে। জাহাঙ্গীর সভাপতি এবং মাহাতাব কাউন্সিলর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ইউনিয়নের নেতৃত্বেও পরিবর্তন আসে। এরপর দফায় দফায় বাস টার্মিনালে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ চলতি বছরের এপ্রিলে সংঘর্ষ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় বাস টার্মিনাল আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শ্রমিকদের একাংশের দাবি, এসব ঘটনার নেপথ্যে মোমিনের অনুসারীরা সক্রিয় ছিল।

স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগের শীর্ষ কয়েকজন নেতার সঙ্গে মোমিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। বিভিন্ন সময় তাদের সঙ্গে তার তোলা ছবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। কিছু ছবিতে দেখা যাচ্ছে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের হয়ে প্রচার প্রচারণা করছেন।

আবার কিছু ছবি দেখা যাচ্ছে তিনি আওয়ামী বিভিন্ন প্রোগ্রামে সক্রিয় রয়েছেন। সেই রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তিনি দীর্ঘদিন মোটর শ্রমিক ইউনিয়নে প্রভাব বিস্তার করেছেন। অনেকের দাবি, এখনও তিনি সেই প্রভাব ধরে রাখতে চান এবং শ্রমিকদের উসকে দিয়ে পরিবহন খাতে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাধারণ শ্রমিক জীবন থেকে বর্তমানে তিনি একাধিক ড্রাম ট্রাকের মালিক হয়েছেন। এছাড়া বিপুল পরিমাণ জমি ক্রয় এবং বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন বলেও দাবি করা হচ্ছে।

চলতি বছরের এপ্রিলে রাজশাহী বাস টার্মিনালে সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের হওয়া একটি মামলায় মোমিনের নাম রয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে দায়ের হওয়া আরেকটি মামলাতেও তার নাম রয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, এজাহারভুক্ত আসামি হওয়ার পরও তিনি কীভাবে প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন? তাকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতার কারণ কী?

এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোমিনুল ইসলাম মোমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, গত ৫ আগষ্টের পর পাখি জোরপূর্বক সেক্রটারির হয়েছে। বিষয়টি শ্রমিকরা মানতে পারেনি। শ্রমিকরা এর প্রতিবাদ করেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এপ্রিলে একটি মারামারি ও বোমাবাজির ঘটনা ঘটে।

আমি সেখানে ছিলাম না, অথচ আমার বিরুদ্ধে তারা (পাখি গ্রুপ) একটি মিথ্যা মামলা দিয়েছে। আমি গত দুইদিন পূর্বে হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে এসেছি। বর্তমানে জামিনে আছি। আপনি আওয়ামী লীগের ভাইটাল নেতাদের সাথে আতাত করেছেন, এমন কিছু ছবি আমাদের হাতে এসেছে।

এমন কথা উত্তরে তিনি জানান, তখন আমি একটি দ্বায়িত্বে ছিলাম। আমাকে বাধ্য হয়ে তাদের সাথে থাকতে হয়েছে। বর্তমানে আমার পরিবারে তিনটি জুলাই যোদ্ধা রয়েছে। আমি সরকার বিরোধী বা জনভোগান্তিমুলক কিছু করিনি এবং করবোও না। আজ পাখি নব্য বিএনপি সেজেছে।

সে ৫ আগষ্টের আগে আওয়ামী লীগের মিটিং মিছিল থেকে শুরু করে সকল কিছুতে ছিল। তার ডকুমেন্টস আমাদের কাছে আছে। কিন্তু আমি নোংরামি করবো না, করতে চাইনা। এরপর তিনি প্রতিবেদকের সাথে সৌজন্য আলাপ করে ফোন রেখে দেন।

অপরদিকে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম পাখি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃত্বে পরিবর্তন আসে। এরপর আমাদের দৃঢ় অবস্থানের কারণে সংগঠনটি আবারও সক্রিয় হচ্ছে। কিন্তু একটি পক্ষ শ্রমিকদের উসকে দিয়ে ঘোলাপানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে। আওয়ামী লীগের দোসররা আবারও সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। আমরা শ্রমিকদের সঙ্গে নিয়ে তাদের এই অপচেষ্টা ব্যর্থ করব এবং শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে কাজ করে যাব।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. শরীফ উদ্দিন রিমনকে আটক করেছে পুলিশ

রাজশাহীতে বার বার বাসশ্রমিকদের উসকে দিয়ে জনভোগান্তির চেষ্টা

আপডেট টাইম : ০৯:০০:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

মাররণ, মামলা মোকদ্দমা! এরপর গত ১৪ জুলাই হঠাৎ শ্রমিকদের দাবি আদায়ের তকমা দিয়ে সকল টিকিট কাউন্টার বন্ধের ঘোষনা এবং শ্রমিকদের মাঝে উত্তেজনা সৃষ্টি। কেন এই অস্তিরতা?

রাজশাহীর পরিবহন খাতে অস্থিরতা দেখা দিলেই আলোচনায় উঠে আসে একটি নাম, মোমিন! কেন বারবার রাজশাহীর মোটর শ্রমিকদের মধ্যে সংঘাত সৃষ্টি হচ্ছে? কেন বাড়ছে মামলা-মোকদ্দমা? আর কে এই মোমিন? মোমিনের পুরো নাম মোমিনুল ইসলাম মোমিন। তিনি রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক।

রাজশাহী মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের এই সাবেক নেতা কীভাবে একজন সাধারণ শ্রমিক থেকে প্রভাবশালী শ্রমিক নেতায় পরিণত হলেন এবং কেন সম্প্রতি পরিবহন সংকটের সঙ্গে তার নাম বারবার আলোচনায় আসছে, এসব প্রশ্ন এখন শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের মধ্যেও ঘুরপাক খাচ্ছে।

শ্রমিকদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে মোমিন ও তার প্যানেলের নেতাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম, আর্থিক দুর্নীতি এবং শ্রমিকদের সঙ্গে অসদাচরণ করতেন। তাদের দাবি, সাধারণ শ্রমিক থেকে আজ তারা বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।

জানা যায়, ২০০১ সালের দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ রুটে চলাচলকারী যাত্রীবাহী বাসে হেলপারের কাজ করতেন মোমিন। পরে তিনি সুপারভাইজার, এরপর চালক হিসেবে কাজ করেন। ২০০৩-০৬ মেয়াদে মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর তিনি দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্ব পান এবং ২০১৭ সাল পর্যন্ত ওই পদে দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৭ সালের ইউনিয়ন নির্বাচনে তৎকালীন নেতৃত্বকে ভোটের মাধ্যমে পরিবর্তনের চেষ্টা হলে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘাত সৃষ্টি হয়। ওই সময় ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, ওই ঘটনার পর মোমিন সাধারণ সম্পাদক এবং কামাল হোসেন রবি সভাপতি হন।

পরে শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে ২০১৯ সালে পুনরায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই নির্বাচন ঘিরেও উত্তেজনা, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। শেষ পর্যন্ত ওই নির্বাচনে নেতৃত্বে পরিবর্তন আসে। জাহাঙ্গীর সভাপতি এবং মাহাতাব কাউন্সিলর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ইউনিয়নের নেতৃত্বেও পরিবর্তন আসে। এরপর দফায় দফায় বাস টার্মিনালে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ চলতি বছরের এপ্রিলে সংঘর্ষ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় বাস টার্মিনাল আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শ্রমিকদের একাংশের দাবি, এসব ঘটনার নেপথ্যে মোমিনের অনুসারীরা সক্রিয় ছিল।

স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগের শীর্ষ কয়েকজন নেতার সঙ্গে মোমিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। বিভিন্ন সময় তাদের সঙ্গে তার তোলা ছবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। কিছু ছবিতে দেখা যাচ্ছে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের হয়ে প্রচার প্রচারণা করছেন।

আবার কিছু ছবি দেখা যাচ্ছে তিনি আওয়ামী বিভিন্ন প্রোগ্রামে সক্রিয় রয়েছেন। সেই রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তিনি দীর্ঘদিন মোটর শ্রমিক ইউনিয়নে প্রভাব বিস্তার করেছেন। অনেকের দাবি, এখনও তিনি সেই প্রভাব ধরে রাখতে চান এবং শ্রমিকদের উসকে দিয়ে পরিবহন খাতে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাধারণ শ্রমিক জীবন থেকে বর্তমানে তিনি একাধিক ড্রাম ট্রাকের মালিক হয়েছেন। এছাড়া বিপুল পরিমাণ জমি ক্রয় এবং বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন বলেও দাবি করা হচ্ছে।

চলতি বছরের এপ্রিলে রাজশাহী বাস টার্মিনালে সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের হওয়া একটি মামলায় মোমিনের নাম রয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে দায়ের হওয়া আরেকটি মামলাতেও তার নাম রয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, এজাহারভুক্ত আসামি হওয়ার পরও তিনি কীভাবে প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন? তাকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতার কারণ কী?

এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোমিনুল ইসলাম মোমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, গত ৫ আগষ্টের পর পাখি জোরপূর্বক সেক্রটারির হয়েছে। বিষয়টি শ্রমিকরা মানতে পারেনি। শ্রমিকরা এর প্রতিবাদ করেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এপ্রিলে একটি মারামারি ও বোমাবাজির ঘটনা ঘটে।

আমি সেখানে ছিলাম না, অথচ আমার বিরুদ্ধে তারা (পাখি গ্রুপ) একটি মিথ্যা মামলা দিয়েছে। আমি গত দুইদিন পূর্বে হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে এসেছি। বর্তমানে জামিনে আছি। আপনি আওয়ামী লীগের ভাইটাল নেতাদের সাথে আতাত করেছেন, এমন কিছু ছবি আমাদের হাতে এসেছে।

এমন কথা উত্তরে তিনি জানান, তখন আমি একটি দ্বায়িত্বে ছিলাম। আমাকে বাধ্য হয়ে তাদের সাথে থাকতে হয়েছে। বর্তমানে আমার পরিবারে তিনটি জুলাই যোদ্ধা রয়েছে। আমি সরকার বিরোধী বা জনভোগান্তিমুলক কিছু করিনি এবং করবোও না। আজ পাখি নব্য বিএনপি সেজেছে।

সে ৫ আগষ্টের আগে আওয়ামী লীগের মিটিং মিছিল থেকে শুরু করে সকল কিছুতে ছিল। তার ডকুমেন্টস আমাদের কাছে আছে। কিন্তু আমি নোংরামি করবো না, করতে চাইনা। এরপর তিনি প্রতিবেদকের সাথে সৌজন্য আলাপ করে ফোন রেখে দেন।

অপরদিকে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম পাখি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃত্বে পরিবর্তন আসে। এরপর আমাদের দৃঢ় অবস্থানের কারণে সংগঠনটি আবারও সক্রিয় হচ্ছে। কিন্তু একটি পক্ষ শ্রমিকদের উসকে দিয়ে ঘোলাপানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে। আওয়ামী লীগের দোসররা আবারও সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। আমরা শ্রমিকদের সঙ্গে নিয়ে তাদের এই অপচেষ্টা ব্যর্থ করব এবং শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে কাজ করে যাব।