ঢাকা ০৭:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
ঢাকায় কিশোর হত্যা, ডিমলায় মাটিচাপা; এআই ভিডিও বানিয়ে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ ভেড়ামারায় জুয়া খেলার সময় ৮ জন গ্রেপ্তার, নগদ টাকা ও তাস উদ্ধার ভেড়ামারায় ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’ উপলক্ষে র‍‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত রাজশাহীতে চাঁদা না দেওয়ায় হামলাসহ বাড়ি ভাঙচুর ও লুটের অভিযোগ গাংনীতে এস,কে,এস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক ও অভিভাবক সমাবেশ হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ভেড়ামারায় অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব: প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ নীলফামারীতে ডিএনএ প্রমাণিত, তবুও সন্তানের পিতৃপরিচয় দিচ্ছে না জয় রাজপথের লড়াকু সৈনিক থেকে সংসদের আসনে এমপি এম এ হান্নান কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের চরাঞ্চলের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে লুটপাটের তাণ্ডব, গ্রেপ্তার এড়াতে এলাকা পুরুষ শূন্য: ভেড়ামারা আড়কান্দিতে পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙন: ২৫ হেক্টর কৃষিজমি ও শতবিঘা পানের বরজ নদীগর্ভে বিলীন

ঢাকায় কিশোর হত্যা, ডিমলায় মাটিচাপা; এআই ভিডিও বানিয়ে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ

আমীর হামজা সোহেল, ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধিঃঢাকায় রাকিব ইসলাম (১৭) নামে এক কিশোরকে হত্যার পর তার মরদেহ কার্টনে করে নীলফামারীর ডিমলায় এনে মাটিচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আব্দুল্লাহ মামুন নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। পরে রাকিব জীবিত রয়েছে—এমন এআই প্রযুক্তিতে তৈরি ভিডিও পরিবারের কাছে পাঠিয়ে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগও পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ডিমলার ছাতনাই বালাপাড়া এলাকা থেকে রাকিবের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহত রাকিব টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হামনগর ইউনিয়নের উদ্যমপুর গ্রামের খাদেমুল ইসলামের ছেলে। অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ মামুন ডিমলার ছাতনাই ইউনিয়নের বালাপাড়া এলাকার আফসার আলীর ছেলে।

রাকিবের ভাই জহুরুল ইসলাম জীবন জানান, রাকিবকে জীবিত ফেরত দেওয়ার কথা বলে পরিবারের কাছে কয়েক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আশায় পরিবার চার লাখ টাকা দেয়। কিন্তু এরপরও রাকিবকে ফেরত দেওয়া হয়নি। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে ঢাকার সংশ্লিষ্ট থানায় জিডি করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তদন্তের একপর্যায়ে গত ৩ অক্টোবর ঢাকায় অভিযান চালিয়ে আব্দুল্লাহ মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৫ অক্টোবর কাফরুল থানায় মামলা করা হয়। মামলাটির নম্বর ০৫, তারিখ ৫ অক্টোবর ২০২৬।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মামুনকে জিজ্ঞাসাবাদে রাকিবের মরদেহ ডিমলার বালাপাড়া ইউনিয়নের ছাতনাই বালাপাড়া এলাকায় মাটিচাপা দেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। পরে মঙ্গলবার আদালতের নির্দেশে দুপুর ১টার দিকে ওই স্থান থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম বলেন, ঢাকার কাফরুল থানায় করা মামলার আসামিকে ডিমলায় এনে মরদেহ উদ্ধারে ডিমলা থানা পুলিশ সহযোগিতা করেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নীলফামারী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশের দাবি, হত্যার কারণ, মুক্তিপণের অর্থ লেনদেন, এআই প্রযুক্তিতে ভিডিও তৈরির বিষয়টি এবং ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না এসব বিষয় তদন্ত করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদে আরও দুজনের নাম এসেছে বলেও জানা গেছে। তবে তাঁদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন।

মামলার তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকায় কিশোর হত্যা, ডিমলায় মাটিচাপা; এআই ভিডিও বানিয়ে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ

ঢাকায় কিশোর হত্যা, ডিমলায় মাটিচাপা; এআই ভিডিও বানিয়ে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ

আপডেট টাইম : ০৭:১০:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

আমীর হামজা সোহেল, ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধিঃঢাকায় রাকিব ইসলাম (১৭) নামে এক কিশোরকে হত্যার পর তার মরদেহ কার্টনে করে নীলফামারীর ডিমলায় এনে মাটিচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আব্দুল্লাহ মামুন নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। পরে রাকিব জীবিত রয়েছে—এমন এআই প্রযুক্তিতে তৈরি ভিডিও পরিবারের কাছে পাঠিয়ে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগও পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ডিমলার ছাতনাই বালাপাড়া এলাকা থেকে রাকিবের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহত রাকিব টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হামনগর ইউনিয়নের উদ্যমপুর গ্রামের খাদেমুল ইসলামের ছেলে। অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ মামুন ডিমলার ছাতনাই ইউনিয়নের বালাপাড়া এলাকার আফসার আলীর ছেলে।

রাকিবের ভাই জহুরুল ইসলাম জীবন জানান, রাকিবকে জীবিত ফেরত দেওয়ার কথা বলে পরিবারের কাছে কয়েক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আশায় পরিবার চার লাখ টাকা দেয়। কিন্তু এরপরও রাকিবকে ফেরত দেওয়া হয়নি। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে ঢাকার সংশ্লিষ্ট থানায় জিডি করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তদন্তের একপর্যায়ে গত ৩ অক্টোবর ঢাকায় অভিযান চালিয়ে আব্দুল্লাহ মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৫ অক্টোবর কাফরুল থানায় মামলা করা হয়। মামলাটির নম্বর ০৫, তারিখ ৫ অক্টোবর ২০২৬।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মামুনকে জিজ্ঞাসাবাদে রাকিবের মরদেহ ডিমলার বালাপাড়া ইউনিয়নের ছাতনাই বালাপাড়া এলাকায় মাটিচাপা দেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। পরে মঙ্গলবার আদালতের নির্দেশে দুপুর ১টার দিকে ওই স্থান থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম বলেন, ঢাকার কাফরুল থানায় করা মামলার আসামিকে ডিমলায় এনে মরদেহ উদ্ধারে ডিমলা থানা পুলিশ সহযোগিতা করেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নীলফামারী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশের দাবি, হত্যার কারণ, মুক্তিপণের অর্থ লেনদেন, এআই প্রযুক্তিতে ভিডিও তৈরির বিষয়টি এবং ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না এসব বিষয় তদন্ত করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদে আরও দুজনের নাম এসেছে বলেও জানা গেছে। তবে তাঁদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন।

মামলার তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।