ঢাকা ০৪:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
নাগরপুরে বিজয়া দশমীর মেলার মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার বিসর্জন সম্পন্ন যশোরের লালদীঘিতে ভক্তদের অশ্রুসিক্ত বিদায় আসছে বছরের অপেক্ষা, নৌকায় চড়ে বিদায় নিলেন দেবী দুর্গা জমি লিখে না দেওয়ায় হাসপাতালে নিতে বাধা অসুস্থ বাবাকে সিরাজগঞ্জ আদালতের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ভেড়ামারায় গ্রেপ্তার ৬ ছেলের ঘরেও আশ্রয় হলো না ৮৫ বছর বয়সী জয়নব ভানুর রাজশাহীসহ উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে বড় প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহীতে ৩৮,৯৭০ আঁখ চাষীকে আর্থিক প্রনোদনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশকে শান্তির দেশে পরিণত করতে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনার আহ্বান শ্রমমন্ত্রীর সৌদিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার যুবক নজরুলের মৃ’ত্যু’দ’ণ্ড কার্যকর, বাড়িতে শোকের মাতম প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী আগমন উপলক্ষে ছাত্রদলের স্বাগত মিছিল

নেছারাবাদে জেলেদের চাল বিতরণে চাঁদার অভিযোগ, জনপ্রতি ১০০ টাকা আদায়

পিরোজপুর প্রতিনিধি; পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার জলাবাড়ী ইউনিয়নে জেলেদের জন্য সরকারি বরাদ্দ চাল বিতরণকে ঘিরে জনপ্রতি ১০০ টাকা করে চাঁদা তোলার অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়নের ৩৩৫ জন জেলের কাছ থেকে মোট ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, গোডাউন থেকে চাল আনা, পরিবহন ও শ্রমিক খরচ দেখিয়ে ইউনিয়নের জেলেদের সভাপতি মো. আলম মিয়া এই টাকা সংগ্রহ করেছেন।

জলাবাড়ী ইউনিয়নের জেলে সোহাগ খান অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের চাল দেয়ার কথা বলে জনপ্রতি ১০০ টাকা করে নেয়া হয়েছে। আমার কাজ থাকায় ছেলেকে দিয়ে চাল আনতে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু আমি নিজে না যাওয়ায় আমাকে চাল দেয়া হয়নি, অথচ টাকা নেয়া হয়েছে।”

অপর জেলে মো. রিয়াজ হোসেন বলেন, “গোডাউন থেকে ইউনিয়ন পরিষদে চাল আনতে পরিবহন ভাড়া ও লেবার খরচ লাগে। এছাড়া যারা কষ্ট করে বসে চাল বিতরণ করেন তাদেরও কিছু খাবারের খরচ থাকে। এজন্য জনপ্রতি ১০০ টাকা করে দেয়া হয়েছে।”

এ বিষয়ে জেলেদের সভাপতি মো. আলম মিয়া বলেন, “গোডাউন থেকে পরিষদে চাল আনা পর্যন্ত কিছু খরচ রয়েছে। এছাড়া কিছু আনুষঙ্গিক খরচও আছে, যার সব হিসাব দেয়া সম্ভব নয়। এজন্য জেলে প্রতি ১০০ টাকা করে তুলে পরিষদের সচিবকে দেয়ার জন্য আমাদের সম্পাদক তোফাজ্জেলের কাছে দিয়েছি।”

তবে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. দিদারুল ইসলাম টাকা নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, “আজ ৩৩৫ জন জেলেকে জনপ্রতি ৪০ কেজি করে চাল দেয়া হচ্ছে। আমার জানা মতে গোডাউন থেকে এখানে চাল আনতে টনপ্রতি প্রায় ৪০০ টাকা খরচ হয়। তবে আমি কারও কাছ থেকে টাকা নেইনি।”

চাল বিতরণের দায়িত্বে থাকা ট্যাগ অফিসার বিশ্বজিৎ বলেন, “জেলে প্রতি ১০০ টাকা নেয়া হয়েছে বলে শুনেছি। সাধারণত সব ইউনিয়নেই চাল আনতে জেলেদের পক্ষ থেকে কিছু টাকা তোলা হয়। এখানে ৩৩৫ জন জেলেকে ৪০ কেজি করে চাল দেয়া হচ্ছে। তবে এই টাকার অর্ধেক খরচ হয়েছে। সামনে আবার চাল দেয়া হবে, তখন নতুন করে টাকা নেয়া হবে না।”

এ বিষয়ে নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত দত্ত বলেন, “সরকারি চাল বিতরণে কোনো টাকা নেয়ার বিধান নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।”

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

নাগরপুরে বিজয়া দশমীর মেলার মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার বিসর্জন সম্পন্ন

নেছারাবাদে জেলেদের চাল বিতরণে চাঁদার অভিযোগ, জনপ্রতি ১০০ টাকা আদায়

আপডেট টাইম : ০৬:৩০:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

পিরোজপুর প্রতিনিধি; পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার জলাবাড়ী ইউনিয়নে জেলেদের জন্য সরকারি বরাদ্দ চাল বিতরণকে ঘিরে জনপ্রতি ১০০ টাকা করে চাঁদা তোলার অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়নের ৩৩৫ জন জেলের কাছ থেকে মোট ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, গোডাউন থেকে চাল আনা, পরিবহন ও শ্রমিক খরচ দেখিয়ে ইউনিয়নের জেলেদের সভাপতি মো. আলম মিয়া এই টাকা সংগ্রহ করেছেন।

জলাবাড়ী ইউনিয়নের জেলে সোহাগ খান অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের চাল দেয়ার কথা বলে জনপ্রতি ১০০ টাকা করে নেয়া হয়েছে। আমার কাজ থাকায় ছেলেকে দিয়ে চাল আনতে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু আমি নিজে না যাওয়ায় আমাকে চাল দেয়া হয়নি, অথচ টাকা নেয়া হয়েছে।”

অপর জেলে মো. রিয়াজ হোসেন বলেন, “গোডাউন থেকে ইউনিয়ন পরিষদে চাল আনতে পরিবহন ভাড়া ও লেবার খরচ লাগে। এছাড়া যারা কষ্ট করে বসে চাল বিতরণ করেন তাদেরও কিছু খাবারের খরচ থাকে। এজন্য জনপ্রতি ১০০ টাকা করে দেয়া হয়েছে।”

এ বিষয়ে জেলেদের সভাপতি মো. আলম মিয়া বলেন, “গোডাউন থেকে পরিষদে চাল আনা পর্যন্ত কিছু খরচ রয়েছে। এছাড়া কিছু আনুষঙ্গিক খরচও আছে, যার সব হিসাব দেয়া সম্ভব নয়। এজন্য জেলে প্রতি ১০০ টাকা করে তুলে পরিষদের সচিবকে দেয়ার জন্য আমাদের সম্পাদক তোফাজ্জেলের কাছে দিয়েছি।”

তবে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. দিদারুল ইসলাম টাকা নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, “আজ ৩৩৫ জন জেলেকে জনপ্রতি ৪০ কেজি করে চাল দেয়া হচ্ছে। আমার জানা মতে গোডাউন থেকে এখানে চাল আনতে টনপ্রতি প্রায় ৪০০ টাকা খরচ হয়। তবে আমি কারও কাছ থেকে টাকা নেইনি।”

চাল বিতরণের দায়িত্বে থাকা ট্যাগ অফিসার বিশ্বজিৎ বলেন, “জেলে প্রতি ১০০ টাকা নেয়া হয়েছে বলে শুনেছি। সাধারণত সব ইউনিয়নেই চাল আনতে জেলেদের পক্ষ থেকে কিছু টাকা তোলা হয়। এখানে ৩৩৫ জন জেলেকে ৪০ কেজি করে চাল দেয়া হচ্ছে। তবে এই টাকার অর্ধেক খরচ হয়েছে। সামনে আবার চাল দেয়া হবে, তখন নতুন করে টাকা নেয়া হবে না।”

এ বিষয়ে নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত দত্ত বলেন, “সরকারি চাল বিতরণে কোনো টাকা নেয়ার বিধান নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।”