ঢাকা ০১:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
শীতের বাজারে লাল শাকের কদর বেড়েছে: ১০ টাকার শাকে লুকিয়ে আছে সুস্থ থাকার রহস্য হিজরার ঝুলন্ত ম*র*দেহ উদ্ধার পরিবার লা*শ নিতে অস্বীকৃতি, বাঘায় নকল ওষুধের কারখানায় অভিযান, এক লাখ টাকা জরিমানা ইউপি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করতে খলিসাকুন্ডি ইউনিয়ন বিএনপির মতবিনিময় সভা নাগরপুর বাজার বণিক সমিতির নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা ছাতারপাড়াতে প্রধানমন্ত্রী গোল্ডকাপ:টাইব্রেকারের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে নওদাআজমপুরকে হারিয়ে গাছেরদাইড় ফুটবল একাদশের দুর্দান্ত জয়। স্বেচ্ছায় রক্তদান ফাউন্ডেশন কুষ্টিয়ার ১১৭ সদস্যের নতুন কমিটি অনুমোদন শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবির চতুর্থ দিন, অফিস সাধারণ ছুটি, গ্রেফতার হচ্ছে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীরা ভেড়ামারায় নদীভাঙন ও অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৩৫০ পানচাষীকে বিনামূল্যে চাল বিতরণ সবুজকলি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ

রাজশাহীতে পুলিশের পোশাক পরে টিকটকে ভাইরাল, অনুসন্ধানে বের হলো ভিন্ন কিছু

রাজশাহী ব্যুরো: সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে পুলিশের পোশাক পরে ভিডিও বানিয়ে ভাইরাল এক নারী। ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিও নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন। ভিডিওর সেই নারীকে কখনও পুলিশের ইউনিফর্মে, আবার কখনও সাধারণ পোশাকে টিকটক করতে দেখা গেছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এসব ভিডিও নিয়ে কমেন্টবক্সে চলছে আলোচনা -সমালোচনার ঝড়। ভিডিও এর অনুসন্ধানে গেলে ব্যাপক চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যায়।

বৃহস্পতিবার (০১ জানুয়ারী) দুপুরে সাংবাদিকরা অনুসন্ধানে গেলে টিকটক ভিডিও বানানো সেই নারীকে রাজশাহীর কোর্ট স্টেশন এলাকার জৈনক হাবিবুর রহমানের বাসাবাড়িতে পাওয়া যায়। সেখানে তিনি একজন পুলিশ কনস্টেবলের সঙ্গে সংসার পেতেছেন। সেই পুলিশ কনস্টেবলের নাম সাইফুজ্জামান। তিনি আরএমপি’র কাশিয়াডাঙ্গা থানায় কর্মরত রয়েছেন। তবে টিকটকে সেই নারীর নাম নুসরাত জাহান (Nusrat Jahan) থাকলেও তার প্রকৃত নাম সুমি খাতুন। তিনি কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার কেউপুর এলাকার বাদশা মালিথার মেয়ে। অভিযোগ উঠেছে তারা বিয়ে না করে লিভ টু গেদার রয়েছেন।
এসময় সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে তারা একই বাসার একটি কক্ষে অবস্থান করছিলেন।

তাদের সাথে আলাদাভাবে কথা বললে, তারা দুইজন দুইটা বিয়ের তারিখ উল্লেখ করেছেন। কিন্তু সেই নারী দাবি করেন, তার প্রথম সংসার বিচ্ছেদের পর তিনি এই সাইফুজ্জামানকে বিয়ে করেছেন। শুধু তাই নয়, পারিবারিক সমস্যার কারনে দুইবার বিয়ে রেজিস্ট্রার করেছেন বলে জানান। কোথায় এবং কোন কাজীর মাধ্যমে বিবাহ করেছেন জানতে চাইলে তারা কেউ কাজীর নাম ও ঠিকানা বলতে পারেন নি। তবে সেই নারীর পরিবারের সাথে কথা বললে তার মা ও ছোট ভাই জানান, তাদের মেয়ের আর বিয়ে হয়নি। তাদের এমন জবানবন্দিতে সন্দেহ হলে কাশিয়াডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জকে অবহিত করা হয়। ঘটনার বিবরণ জানার পর ওসি ঘটনাস্থলে ছুসে আসেন এবং উভয়কে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পুলিশ রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সেই বাহিনীর পোশাক ব্যবহার করে যদি কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও তৈরি করে, তবে সেটি কেবল ব্যক্তিগত আচরণ নয় তা সরাসরি আইনের অপব্যবহার ও জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির শামিল। পুলিশের পোশাক ব্যবহার করে নিজেকে পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হিসেবে উপস্থাপন করা ফৌজদারি অপরাধ। বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৭০,৭১ ধারা অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীর ছদ্মবেশ ধারণ করা বা বিনা অনুমতিতে সরকারের কোন পোশাক বা চিহ্ন ব্যবহার করা প্রতারণার সামিল। এটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। পুলিশ আইন ১৮৬১ অনুযায়ী, পুলিশের পোশাক, ব্যাজ বা প্রতীক শুধুমাত্র দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য ছাড়া অন্য কেউ ব্যবহার করতে পারে না।

তাদের মতে, এই ধরনের ভিডিও জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করতে পারে এবং পুলিশের প্রতি মানুষের বিশ্বাসে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এগুলো কি শুধুই টিকটক কনটেন্ট নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো উদ্দেশ্য?

কারণ অনুসন্ধানে জানা গেছে, আলোচিত ওই নারী শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই সীমাবদ্ধ নন। তার কর্মকাণ্ড ঘিরে একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে, যার কিছু তথ্য প্রমান মিডিয়ার কাছে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন পুলিশের পোশাকের অপব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আপনারা বিষয়টি উপর মহলের দৃষ্টিপাত করেন। তাহলে এই ধরনের কর্মকান্ড থেকে সবাই বিরত থাকবে। তবে এই ঘটনার পিছনে অর্থ দাবির অভিযোগ, একাধিক অডিও কথোপকথন ও একটি সংগঠিত নেটওয়ার্কের বিষয়ও সামনে এসেছে, যা সিরিজের পরবর্তী পর্বে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হবে।

এমন অভিযোগের বিষয়ে আরএমপি মিডিয়া মূখ্যপাত্র ও উপ-পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি জানান, এই ধরনের ভিডিও বা ঘটনা তাদের নজরে আসেনি। তিনি বলেন, যেহেতু আপনারা বলেছেন, আমরা অবশ্যই বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নিব। অপরাধ করলে কেউ ছাড় পাবে না।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

শীতের বাজারে লাল শাকের কদর বেড়েছে: ১০ টাকার শাকে লুকিয়ে আছে সুস্থ থাকার রহস্য

রাজশাহীতে পুলিশের পোশাক পরে টিকটকে ভাইরাল, অনুসন্ধানে বের হলো ভিন্ন কিছু

আপডেট টাইম : ০৬:২২:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

রাজশাহী ব্যুরো: সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে পুলিশের পোশাক পরে ভিডিও বানিয়ে ভাইরাল এক নারী। ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিও নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন। ভিডিওর সেই নারীকে কখনও পুলিশের ইউনিফর্মে, আবার কখনও সাধারণ পোশাকে টিকটক করতে দেখা গেছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এসব ভিডিও নিয়ে কমেন্টবক্সে চলছে আলোচনা -সমালোচনার ঝড়। ভিডিও এর অনুসন্ধানে গেলে ব্যাপক চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যায়।

বৃহস্পতিবার (০১ জানুয়ারী) দুপুরে সাংবাদিকরা অনুসন্ধানে গেলে টিকটক ভিডিও বানানো সেই নারীকে রাজশাহীর কোর্ট স্টেশন এলাকার জৈনক হাবিবুর রহমানের বাসাবাড়িতে পাওয়া যায়। সেখানে তিনি একজন পুলিশ কনস্টেবলের সঙ্গে সংসার পেতেছেন। সেই পুলিশ কনস্টেবলের নাম সাইফুজ্জামান। তিনি আরএমপি’র কাশিয়াডাঙ্গা থানায় কর্মরত রয়েছেন। তবে টিকটকে সেই নারীর নাম নুসরাত জাহান (Nusrat Jahan) থাকলেও তার প্রকৃত নাম সুমি খাতুন। তিনি কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার কেউপুর এলাকার বাদশা মালিথার মেয়ে। অভিযোগ উঠেছে তারা বিয়ে না করে লিভ টু গেদার রয়েছেন।
এসময় সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে তারা একই বাসার একটি কক্ষে অবস্থান করছিলেন।

তাদের সাথে আলাদাভাবে কথা বললে, তারা দুইজন দুইটা বিয়ের তারিখ উল্লেখ করেছেন। কিন্তু সেই নারী দাবি করেন, তার প্রথম সংসার বিচ্ছেদের পর তিনি এই সাইফুজ্জামানকে বিয়ে করেছেন। শুধু তাই নয়, পারিবারিক সমস্যার কারনে দুইবার বিয়ে রেজিস্ট্রার করেছেন বলে জানান। কোথায় এবং কোন কাজীর মাধ্যমে বিবাহ করেছেন জানতে চাইলে তারা কেউ কাজীর নাম ও ঠিকানা বলতে পারেন নি। তবে সেই নারীর পরিবারের সাথে কথা বললে তার মা ও ছোট ভাই জানান, তাদের মেয়ের আর বিয়ে হয়নি। তাদের এমন জবানবন্দিতে সন্দেহ হলে কাশিয়াডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জকে অবহিত করা হয়। ঘটনার বিবরণ জানার পর ওসি ঘটনাস্থলে ছুসে আসেন এবং উভয়কে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পুলিশ রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সেই বাহিনীর পোশাক ব্যবহার করে যদি কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও তৈরি করে, তবে সেটি কেবল ব্যক্তিগত আচরণ নয় তা সরাসরি আইনের অপব্যবহার ও জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির শামিল। পুলিশের পোশাক ব্যবহার করে নিজেকে পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হিসেবে উপস্থাপন করা ফৌজদারি অপরাধ। বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৭০,৭১ ধারা অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীর ছদ্মবেশ ধারণ করা বা বিনা অনুমতিতে সরকারের কোন পোশাক বা চিহ্ন ব্যবহার করা প্রতারণার সামিল। এটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। পুলিশ আইন ১৮৬১ অনুযায়ী, পুলিশের পোশাক, ব্যাজ বা প্রতীক শুধুমাত্র দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য ছাড়া অন্য কেউ ব্যবহার করতে পারে না।

তাদের মতে, এই ধরনের ভিডিও জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করতে পারে এবং পুলিশের প্রতি মানুষের বিশ্বাসে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এগুলো কি শুধুই টিকটক কনটেন্ট নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো উদ্দেশ্য?

কারণ অনুসন্ধানে জানা গেছে, আলোচিত ওই নারী শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই সীমাবদ্ধ নন। তার কর্মকাণ্ড ঘিরে একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে, যার কিছু তথ্য প্রমান মিডিয়ার কাছে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন পুলিশের পোশাকের অপব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আপনারা বিষয়টি উপর মহলের দৃষ্টিপাত করেন। তাহলে এই ধরনের কর্মকান্ড থেকে সবাই বিরত থাকবে। তবে এই ঘটনার পিছনে অর্থ দাবির অভিযোগ, একাধিক অডিও কথোপকথন ও একটি সংগঠিত নেটওয়ার্কের বিষয়ও সামনে এসেছে, যা সিরিজের পরবর্তী পর্বে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হবে।

এমন অভিযোগের বিষয়ে আরএমপি মিডিয়া মূখ্যপাত্র ও উপ-পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি জানান, এই ধরনের ভিডিও বা ঘটনা তাদের নজরে আসেনি। তিনি বলেন, যেহেতু আপনারা বলেছেন, আমরা অবশ্যই বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নিব। অপরাধ করলে কেউ ছাড় পাবে না।