ঢাকা ১১:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
ভেড়ামারায় এসআরবির অভিযানে এস্কাফসহ গ্রেপ্তার ৩ আশুলিয়ায় ছাত্র-জনতা হত্যা মামলার আসামি ও সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় এনামুল গ্রেফতার নাগরপুরের বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ নাজমুল হক তপনের ইন্তেকাল, দাফন সম্পন্ন আহসানুল হক পাঁচা মোল্লা স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত, চ্যাম্পিয়ন ফার্ম রোড স্পোর্টিং একাদশ মডেল গ্রাম গঠনে তরুণদের উদ্যোগ ‘টিএফসি-ধর্মদহ’ শিক্ষা, সবুজায়ন ও ক্ষুধামুক্তির লক্ষ্যে অনন্য দৃষ্টান্ত ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে শেষ সমাবেশে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি মির্জা ফয়সালের ঝিনাইদহ নলডাঙ্গার ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অফিসে দেরিতে আসার অভিযোগ কুষ্টিয়া দৌলতপুরে ৮০ বছর বয়সেও মেলেনি বয়স্ক ভাতার কার্ড জাপান পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী ভেড়ামারায় ৫ লাখ ৭৬ হাজার টাকার নিষিদ্ধ জাল জব্দ, পুড়িয়ে ধ্বংস

৮০ বছরের এক অসহায় মায়ের জুটেনি সরকারি ঘর

মাসুদ রানা বাউফলঃ প্রধানমন্ত্রীর উপহার মুজিববর্ষের ঘর পেতে চায় বাউফলের বগা ইউনিয়নের সাবুপুরা গ্রামের মানবেতর জীবনযাপন করা গরীব অসহায় একটি পরিবার। সাবুপুরা গ্রামের মৃত আজাহার হাওলাদার এর ছেলে দিনমজুর নাসির হাওলাদারের থাকার মতো কোনো ঘর নেই। থাকেন একটি ঝুপড়ি ঘরে।

স্থানীয়রা জানান, নাসির হাওলাদারের থাকার মতো কোন ঘর নেই। একটি ঝুপড়ি ঘরে কোনমতে থাকেন। একটু বৃষ্টি হলে সন্তান বউ নিয়ে মানুষের ঘরে আশ্রয় নেন। ঘরের চারপাশে নেই কোন টিনের বেড়া। ঘরের কষ্টে বড় অসহায় দিন পাড় করছে পরিবারটি।

নাসিরের ৮০ বছর বয়সী বৃদ্ধা মা মনোয়ারা বেগম বলেন, শেখের মাইয়া হাসিনা হগোল গরীবগো ঘর দেয়, আমারে একখান ঘর দিতে কন। মরার আগে একটা ভালো ঘরে হুইয়া মরতে চাই। হাসিনার লইগ্যা নামাজ পইড়া দোয়া করি। আল্লাহ হাসিনারে ভালো রাখবে।

নুন আনতে পান্তা ফুরানোর মত সংসার দিনমজুর নাসিরের। ছেলে মেয়ে ৫ জন। নাসিরের মা ও স্ত্রীকে নিয়ে আট জনের সংসার চালাতে কখনো খেয়ে বা কখনো না খেয়ে দিন পাড় করতে হয়। পাড়া-প্রতিবেশিদের সহযোগীতায় কোনমতে মানবেতর দিন পাড় করছে এই অসহায় পরিবারটি।

দিনমজুর নাসির কেঁদে কেঁদে বলেন, আটজন মানুষের খাওয়া জোটাতেই তো কষ্টের শেষ নেই। তার উপরে ঘরের চিন্তা তো করতেই পারি না। ঘরের অভাবে রাতে বৃষ্টি হলে ছেলে মেয়ে নিয়ে ঘরের এক কোনে গিয়ে বসে থাকি। কোন কোন দিন তো রাতে ঘুমাতেই পারি না ঘরে। ঘরের চালা নেই, টিনের বেড়া নেই। কোন রকম ছাপড়া দিয়ে বাইচা আছি।

নাসির বলেন, প্রধানমন্ত্রী এত মানুষরে ঘর দেয়, আমারে একটা ঘর দিলে আমি অন্তত ছেলে মেয়ে নিয়ে বাকি জীবনটা ঘরের কষ্ট দূর করে সুখে-শান্তিতে থাকতে পারতাম। ঘরের কষ্টে আমার ছেলেমেয়েদের ঠিকমত ভালো পরিবেশের অভাবে লেখাপড়াও করাতে পারছি না।

সরেজমিনে দেখা যায়, কোন রকম ছাপড়া কুঁড়ে ঘরের চালার নিচে পলিথিন দিয়েই রোদ ও বৃষ্টির পানি ফিরায় নাসির হাওলাদার। জসীম উদ্দীনের আসমানী কবিতার মত – একটুখানি হাওয়া দিলেই ঘর নড়বড় করে। এই অসহায়, গরীব দিনমজুর পরিবারটিকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর আশ্রায়ণ প্রকল্পের একটি ঘর দিয়ে সহায়তা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনুরোধ জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ প্রসঙ্গে বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আল আমিন বলেন, এখন “ক” শ্রেণির ঘরের কাজ চলছে। এটা শুধু ভূমিহীন জনগণ পাবে। সামনে “খ” শ্রেণির ঘরের তালিকার সময়ে উনি আবেদন করলে এবং তার পরিবার সত্যি অসহায় হলে আমরা যাচাই বাচাই শেষে দ্রুত সময়ের ভিতরে ঘর তুলে দেবো।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

ভেড়ামারায় এসআরবির অভিযানে এস্কাফসহ গ্রেপ্তার ৩

৮০ বছরের এক অসহায় মায়ের জুটেনি সরকারি ঘর

আপডেট টাইম : ১২:০১:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুন ২০২২

মাসুদ রানা বাউফলঃ প্রধানমন্ত্রীর উপহার মুজিববর্ষের ঘর পেতে চায় বাউফলের বগা ইউনিয়নের সাবুপুরা গ্রামের মানবেতর জীবনযাপন করা গরীব অসহায় একটি পরিবার। সাবুপুরা গ্রামের মৃত আজাহার হাওলাদার এর ছেলে দিনমজুর নাসির হাওলাদারের থাকার মতো কোনো ঘর নেই। থাকেন একটি ঝুপড়ি ঘরে।

স্থানীয়রা জানান, নাসির হাওলাদারের থাকার মতো কোন ঘর নেই। একটি ঝুপড়ি ঘরে কোনমতে থাকেন। একটু বৃষ্টি হলে সন্তান বউ নিয়ে মানুষের ঘরে আশ্রয় নেন। ঘরের চারপাশে নেই কোন টিনের বেড়া। ঘরের কষ্টে বড় অসহায় দিন পাড় করছে পরিবারটি।

নাসিরের ৮০ বছর বয়সী বৃদ্ধা মা মনোয়ারা বেগম বলেন, শেখের মাইয়া হাসিনা হগোল গরীবগো ঘর দেয়, আমারে একখান ঘর দিতে কন। মরার আগে একটা ভালো ঘরে হুইয়া মরতে চাই। হাসিনার লইগ্যা নামাজ পইড়া দোয়া করি। আল্লাহ হাসিনারে ভালো রাখবে।

নুন আনতে পান্তা ফুরানোর মত সংসার দিনমজুর নাসিরের। ছেলে মেয়ে ৫ জন। নাসিরের মা ও স্ত্রীকে নিয়ে আট জনের সংসার চালাতে কখনো খেয়ে বা কখনো না খেয়ে দিন পাড় করতে হয়। পাড়া-প্রতিবেশিদের সহযোগীতায় কোনমতে মানবেতর দিন পাড় করছে এই অসহায় পরিবারটি।

দিনমজুর নাসির কেঁদে কেঁদে বলেন, আটজন মানুষের খাওয়া জোটাতেই তো কষ্টের শেষ নেই। তার উপরে ঘরের চিন্তা তো করতেই পারি না। ঘরের অভাবে রাতে বৃষ্টি হলে ছেলে মেয়ে নিয়ে ঘরের এক কোনে গিয়ে বসে থাকি। কোন কোন দিন তো রাতে ঘুমাতেই পারি না ঘরে। ঘরের চালা নেই, টিনের বেড়া নেই। কোন রকম ছাপড়া দিয়ে বাইচা আছি।

নাসির বলেন, প্রধানমন্ত্রী এত মানুষরে ঘর দেয়, আমারে একটা ঘর দিলে আমি অন্তত ছেলে মেয়ে নিয়ে বাকি জীবনটা ঘরের কষ্ট দূর করে সুখে-শান্তিতে থাকতে পারতাম। ঘরের কষ্টে আমার ছেলেমেয়েদের ঠিকমত ভালো পরিবেশের অভাবে লেখাপড়াও করাতে পারছি না।

সরেজমিনে দেখা যায়, কোন রকম ছাপড়া কুঁড়ে ঘরের চালার নিচে পলিথিন দিয়েই রোদ ও বৃষ্টির পানি ফিরায় নাসির হাওলাদার। জসীম উদ্দীনের আসমানী কবিতার মত – একটুখানি হাওয়া দিলেই ঘর নড়বড় করে। এই অসহায়, গরীব দিনমজুর পরিবারটিকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর আশ্রায়ণ প্রকল্পের একটি ঘর দিয়ে সহায়তা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনুরোধ জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ প্রসঙ্গে বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আল আমিন বলেন, এখন “ক” শ্রেণির ঘরের কাজ চলছে। এটা শুধু ভূমিহীন জনগণ পাবে। সামনে “খ” শ্রেণির ঘরের তালিকার সময়ে উনি আবেদন করলে এবং তার পরিবার সত্যি অসহায় হলে আমরা যাচাই বাচাই শেষে দ্রুত সময়ের ভিতরে ঘর তুলে দেবো।