ঢাকা ১২:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
ভেড়ামারায় অবৈধ বিড়ি কারখানায় অভিযানকালে হামলায় দুই কাষ্টমস কর্মকর্তা আহত, গাড়ি ভাংচুর মিরপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে জন্মাষ্টমী উদযাপন নাগরপুরে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পুরুষোত্তম ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমীব্রত পালিত ভেড়ামারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বাল্যবিয়ে বন্ধ: মেয়ের মায়ের মুচলেকা ভেড়ামারায় ৫০ পিস ইয়াবাসহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেফতার ভেড়ামারায় মৎস্য সুরক্ষা অভিযান: ৭০ হাজার টাকার চায়না দুয়ারি জাল জব্দ ও ধ্বংস ভেড়ামারা থানায় কুষ্টিয়ার নবাগত পুলিশ সুপারের আকস্মিক পরিদর্শন গোলাপগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের কমিটি পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত মোহনপুরে মাদরাসা প্রধানের নারীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ ভিডিও ভাইরাল দৌলতপুরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সভায় হাবলু মোল্লার হাসপাতাল নির্মাণের ঘোষণা

দৌলতপুরে কিস্তির টাকা আদায় করতে গিয়ে খুন গ্রামীণ ব্যাংক কর্মকর্তা

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি: কুষ্টিয়া দৌলতপুরে কিস্তির টাকা আদায় করতে গিয়ে দুর্বৃত্তের হাতে প্রাণ হারিয়েছেন গ্রামীণ ব্যাংক কর্মকর্তা নূরুজ্জামান (নান্টু) বৃহস্পতিবার রাত ৮ টার সময় দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর দফাদার পাড়া এলাকার একটি বাড়ি থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নূরুজ্জামান নান্টু উপজেলার খলিশাকুন্ডি ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামের মৃত মতলেব কাজীর ছেলে। পুলিশ জানায়, নূরুজ্জামান নান্টু বৃহস্পতিবার দুপুরে ফিলিপনগর এলাকায় সাপ্তাহিক ঋণের কিস্তির টাকা আদায় করতে যান। কয়েকটি বাড়ি থেকে কিস্তির টাকা আদায়ের পর দফাদার পাড়া এলাকার মমিন দফাদারের কাছে টাকা আদায়ে তার বাড়ি যান নান্টু।

এ সময় মমিন ব্যাংক সুপারভাইজার নান্টুকে বাড়ির ভেতর ডেকে নিয়ে যান। তিনি কিস্তির টাকা না দিয়ে উল্টো লাল্টুর কাছে থাকা টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। এক পর্যায়ে মমিন ধারালো অস্ত্র দিয়ে নান্টুর গলায় উপর্যপুরি কোপ দেন। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। পরে মমিন ব্যাংক কর্মকর্তার মৃতদেহ বাড়ির শৌচাগারে রেখে ঘরে তালা লাগিয়ে বউ-সন্তান নিয়ে পালিয়ে যান।

গ্রামীণ ব্যাংক হোসেনাবাদ শাখার ম্যানেজার সালাউদ্দিন জানান, দুপুর ১টার দিকে তার সঙ্গে নান্টু শেষ কথা হয়। সে সময় নান্টু ৩টি বাড়ি থেকে ঋণের টাকা আদায় করে মমিন দফাদারের বাড়িতে যাচ্ছিলেন। এর কিছুক্ষণ পর থেকে নান্টুকে আর ফোনে পাওয়া যাচ্ছিল না।

তিনি জানান, মমিন দফাদার বেশ কিছুদিন ধরে ঋণের টাকা না দিয়ে ঘুরাচ্ছিলেন। এদিকে, নান্টুর সন্ধান না পেয়ে ব্যাংকের লোকজন ও পরিবারের সদস্যরা তার খোঁজে রাতে ফিলিপনগর গ্রামে যান। এ সময় তারা নান্টুর ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি মমিনের বাড়ির সামনে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তারা ওই বাড়ির শৌচাগারে নান্টুর মৃতদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।

দৌলতপুর থানার ওসি জহুরুল ইসলাম জানান, ঋণের কিস্তি আদায় নিয়ে এ খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে তারা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন। ঘটনার পর থেকে মমিন সপরিবারে পলাতক। তাকে গ্রেপ্তারে ইতোমধ্যে অভিযান শুরু হয়েছে। মমিন দফাদার খারাপ প্রকৃতির ছেলে। তার বিরুদ্ধে এলাকাবাসির নানা অভিযোগ রয়েছে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

ভেড়ামারায় অবৈধ বিড়ি কারখানায় অভিযানকালে হামলায় দুই কাষ্টমস কর্মকর্তা আহত, গাড়ি ভাংচুর

দৌলতপুরে কিস্তির টাকা আদায় করতে গিয়ে খুন গ্রামীণ ব্যাংক কর্মকর্তা

আপডেট টাইম : ১১:৫৭:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২০

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি: কুষ্টিয়া দৌলতপুরে কিস্তির টাকা আদায় করতে গিয়ে দুর্বৃত্তের হাতে প্রাণ হারিয়েছেন গ্রামীণ ব্যাংক কর্মকর্তা নূরুজ্জামান (নান্টু) বৃহস্পতিবার রাত ৮ টার সময় দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর দফাদার পাড়া এলাকার একটি বাড়ি থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নূরুজ্জামান নান্টু উপজেলার খলিশাকুন্ডি ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামের মৃত মতলেব কাজীর ছেলে। পুলিশ জানায়, নূরুজ্জামান নান্টু বৃহস্পতিবার দুপুরে ফিলিপনগর এলাকায় সাপ্তাহিক ঋণের কিস্তির টাকা আদায় করতে যান। কয়েকটি বাড়ি থেকে কিস্তির টাকা আদায়ের পর দফাদার পাড়া এলাকার মমিন দফাদারের কাছে টাকা আদায়ে তার বাড়ি যান নান্টু।

এ সময় মমিন ব্যাংক সুপারভাইজার নান্টুকে বাড়ির ভেতর ডেকে নিয়ে যান। তিনি কিস্তির টাকা না দিয়ে উল্টো লাল্টুর কাছে থাকা টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। এক পর্যায়ে মমিন ধারালো অস্ত্র দিয়ে নান্টুর গলায় উপর্যপুরি কোপ দেন। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। পরে মমিন ব্যাংক কর্মকর্তার মৃতদেহ বাড়ির শৌচাগারে রেখে ঘরে তালা লাগিয়ে বউ-সন্তান নিয়ে পালিয়ে যান।

গ্রামীণ ব্যাংক হোসেনাবাদ শাখার ম্যানেজার সালাউদ্দিন জানান, দুপুর ১টার দিকে তার সঙ্গে নান্টু শেষ কথা হয়। সে সময় নান্টু ৩টি বাড়ি থেকে ঋণের টাকা আদায় করে মমিন দফাদারের বাড়িতে যাচ্ছিলেন। এর কিছুক্ষণ পর থেকে নান্টুকে আর ফোনে পাওয়া যাচ্ছিল না।

তিনি জানান, মমিন দফাদার বেশ কিছুদিন ধরে ঋণের টাকা না দিয়ে ঘুরাচ্ছিলেন। এদিকে, নান্টুর সন্ধান না পেয়ে ব্যাংকের লোকজন ও পরিবারের সদস্যরা তার খোঁজে রাতে ফিলিপনগর গ্রামে যান। এ সময় তারা নান্টুর ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি মমিনের বাড়ির সামনে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তারা ওই বাড়ির শৌচাগারে নান্টুর মৃতদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।

দৌলতপুর থানার ওসি জহুরুল ইসলাম জানান, ঋণের কিস্তি আদায় নিয়ে এ খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে তারা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন। ঘটনার পর থেকে মমিন সপরিবারে পলাতক। তাকে গ্রেপ্তারে ইতোমধ্যে অভিযান শুরু হয়েছে। মমিন দফাদার খারাপ প্রকৃতির ছেলে। তার বিরুদ্ধে এলাকাবাসির নানা অভিযোগ রয়েছে।