ঢাকা ১২:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
ভেড়ামারায় এসআরবির অভিযানে এস্কাফসহ গ্রেপ্তার ৩ আশুলিয়ায় ছাত্র-জনতা হত্যা মামলার আসামি ও সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় এনামুল গ্রেফতার নাগরপুরের বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ নাজমুল হক তপনের ইন্তেকাল, দাফন সম্পন্ন আহসানুল হক পাঁচা মোল্লা স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত, চ্যাম্পিয়ন ফার্ম রোড স্পোর্টিং একাদশ মডেল গ্রাম গঠনে তরুণদের উদ্যোগ ‘টিএফসি-ধর্মদহ’ শিক্ষা, সবুজায়ন ও ক্ষুধামুক্তির লক্ষ্যে অনন্য দৃষ্টান্ত ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে শেষ সমাবেশে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি মির্জা ফয়সালের ঝিনাইদহ নলডাঙ্গার ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অফিসে দেরিতে আসার অভিযোগ কুষ্টিয়া দৌলতপুরে ৮০ বছর বয়সেও মেলেনি বয়স্ক ভাতার কার্ড জাপান পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী ভেড়ামারায় ৫ লাখ ৭৬ হাজার টাকার নিষিদ্ধ জাল জব্দ, পুড়িয়ে ধ্বংস

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবে মাটিন্দর ব্রীজ গণকবর বিলুপ্তের পথে

মোহাম্মদ আককাস আলী,নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবে মাটিন্দর ব্রীজ গণকবর বিলুপ্তের পথে। দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এ সকল গণকবর পাক-হানাদার বাহিনীর নির্মমতা আর নিষ্ঠুরতার সাক্ষ্য বহন করে চলেছে। কিছু গণকবর সুরক্ষিত হলেও এখনও অরক্ষিতই রয়ে গেছে অধিকাংশ গণকবর। গণকবরগুলো বিলীন হওয়ায় হারিয়ে যেতে বসেছে মুক্তি সংগ্রামের মহান নিদর্শনগুলো। এমনই একটি বিলুপ্ত প্রায় গণকবর হলো নওগাঁ জেলার পত্নীতলা উপজেলার মাটিন্দর ব্রীজ গণকবর।

পত্নীতলা-পোরশা সীমান্তের মাটিন্দর ব্রীজ সংলগ্ন রাস্তার পাশেই এই গণকবরের অবস্থান। সরেজমিনে মাটিন্দর গণকবরে গিয়ে দেখা গেছে, কনক্রীট দিয়ে ঘিরে রাখা গণকবরের দেওয়াল ভেঙ্গে গেছে। জঙ্গলে ভরে গেছে গণকবরের চারপাশ। স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বললে তারা জানান, ১৯৭১ সালে পাকহানাদার বাহিনী মানুষকে মেরে গণকবরের ফেলে দিয়েছিলো। এখান থেকে নাকি অনেক মানুষের হাড় ও মাথার খুলি উদ্ধার করা হয়।

তবে কি পরিমাণ মানুষকে এই গণকবরে ফেলা হয়েছে তার হিসাব তারা জানেন না। তারা আরো জানান, গণকবরের গায়ে খোদাই করে ৮/১০ জন শহীদের নাম লিখা ছিলো। কিন্তু বর্তমানে গণকবরের বাউন্ডারি ভেঙ্গে পড়ায় শহীদদের নামফলকটি মাটির নীচে চাপা পড়েছে। রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ করার সময় এই গণকবরটি ভেঙ্গে যায়। রাষ্ট্রীয়ভাবে এই গণকবরে কোন কর্মসূচী পালিত হয়না বলেও এলাকাবাসী জানান। এ বিষয়ে মাটিন্দর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সুলতান মাহমুদ জানান, মাটিন্দর ব্রীজ গণকবরটি পত্নীতলা উপজেলার একেবারে শেষ সীমান্তে অবস্থিত।

এর পরই পোরশা উপজেলা শুরু। পোরশা উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের পক্ষ থেকে মাঝে মাঝে গণকবরটির দেওয়ালে রং করা হতো। বর্তমানে গণকবরটির অবস্থা খুব খারাপ। এ বিষয়ে পোরশা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাকিবুল ইসলাম বলেন, ট্রাডিশনালি মাটিন্দর ব্রীজ গণকবরে সরকারিভাবে কর্মসূচী পালিত হয়না। সর্বশেষ উপজেলা পরিষদের সভায় এই গণকবরটি সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যাতে আগামীতে দৃষ্টিনন্দন কিছু করা যায়। পত্নীতলার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শহিদুল ইসলাম এর সাথে কথা বলে জানা গেছে, পত্নীতলা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা অফিস হতে ৮টি বধ্যভূমির তালিকা করা হয়েছে। এগুলো হলো-দিবর, মধইল, আমন্ত, গগণপুর, দূর্গাপুর, হালিমনগর, সৈয়দপুর ও নজিপুর বধ্যভূমি। এর মধ্যে নজিপুর বধ্যভূমি ইতিমধ্যে আত্রাই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অপরাপর অধিকাংশ বধ্যভুমিই অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

ভেড়ামারায় এসআরবির অভিযানে এস্কাফসহ গ্রেপ্তার ৩

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবে মাটিন্দর ব্রীজ গণকবর বিলুপ্তের পথে

আপডেট টাইম : ০৬:৩২:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

মোহাম্মদ আককাস আলী,নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবে মাটিন্দর ব্রীজ গণকবর বিলুপ্তের পথে। দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এ সকল গণকবর পাক-হানাদার বাহিনীর নির্মমতা আর নিষ্ঠুরতার সাক্ষ্য বহন করে চলেছে। কিছু গণকবর সুরক্ষিত হলেও এখনও অরক্ষিতই রয়ে গেছে অধিকাংশ গণকবর। গণকবরগুলো বিলীন হওয়ায় হারিয়ে যেতে বসেছে মুক্তি সংগ্রামের মহান নিদর্শনগুলো। এমনই একটি বিলুপ্ত প্রায় গণকবর হলো নওগাঁ জেলার পত্নীতলা উপজেলার মাটিন্দর ব্রীজ গণকবর।

পত্নীতলা-পোরশা সীমান্তের মাটিন্দর ব্রীজ সংলগ্ন রাস্তার পাশেই এই গণকবরের অবস্থান। সরেজমিনে মাটিন্দর গণকবরে গিয়ে দেখা গেছে, কনক্রীট দিয়ে ঘিরে রাখা গণকবরের দেওয়াল ভেঙ্গে গেছে। জঙ্গলে ভরে গেছে গণকবরের চারপাশ। স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বললে তারা জানান, ১৯৭১ সালে পাকহানাদার বাহিনী মানুষকে মেরে গণকবরের ফেলে দিয়েছিলো। এখান থেকে নাকি অনেক মানুষের হাড় ও মাথার খুলি উদ্ধার করা হয়।

তবে কি পরিমাণ মানুষকে এই গণকবরে ফেলা হয়েছে তার হিসাব তারা জানেন না। তারা আরো জানান, গণকবরের গায়ে খোদাই করে ৮/১০ জন শহীদের নাম লিখা ছিলো। কিন্তু বর্তমানে গণকবরের বাউন্ডারি ভেঙ্গে পড়ায় শহীদদের নামফলকটি মাটির নীচে চাপা পড়েছে। রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ করার সময় এই গণকবরটি ভেঙ্গে যায়। রাষ্ট্রীয়ভাবে এই গণকবরে কোন কর্মসূচী পালিত হয়না বলেও এলাকাবাসী জানান। এ বিষয়ে মাটিন্দর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সুলতান মাহমুদ জানান, মাটিন্দর ব্রীজ গণকবরটি পত্নীতলা উপজেলার একেবারে শেষ সীমান্তে অবস্থিত।

এর পরই পোরশা উপজেলা শুরু। পোরশা উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের পক্ষ থেকে মাঝে মাঝে গণকবরটির দেওয়ালে রং করা হতো। বর্তমানে গণকবরটির অবস্থা খুব খারাপ। এ বিষয়ে পোরশা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাকিবুল ইসলাম বলেন, ট্রাডিশনালি মাটিন্দর ব্রীজ গণকবরে সরকারিভাবে কর্মসূচী পালিত হয়না। সর্বশেষ উপজেলা পরিষদের সভায় এই গণকবরটি সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যাতে আগামীতে দৃষ্টিনন্দন কিছু করা যায়। পত্নীতলার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শহিদুল ইসলাম এর সাথে কথা বলে জানা গেছে, পত্নীতলা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা অফিস হতে ৮টি বধ্যভূমির তালিকা করা হয়েছে। এগুলো হলো-দিবর, মধইল, আমন্ত, গগণপুর, দূর্গাপুর, হালিমনগর, সৈয়দপুর ও নজিপুর বধ্যভূমি। এর মধ্যে নজিপুর বধ্যভূমি ইতিমধ্যে আত্রাই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অপরাপর অধিকাংশ বধ্যভুমিই অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে।