তানোর-রাজশাহী সড়ক যেন মৃত্যুপুরী; কনক্রিট রাস্তার ফাটল ধরায় বন্ধ রয়েছে নির্মান কাজ
রাজশাহী ব্যুরো: রাজশাহী শহর থেকে তানোরের দুরুত্ব ২৪ কিলোমিটার। কিন্তু রাস্তাটি তিনটি অংশে বিভক্ত। শহর থেকে প্রায় ৬ কিলো (বায়া বাজার পর্যন্ত) রয়েছে হাইওয়ে। এরপর বায়া বাজার থেকে ৯.১ কিলোমিটার পবা উপজেলা এবং বাঁকী অংশ তানোর উপজেলাধীন। তানোরের এই অন্যতম প্রধান সড়কের সমস্যা দীর্ঘদিনের। প্রতিদিন সড়কটি দিয়ে চলাচল করে হাজার হাজার যানবাহন। এর মধ্যে রয়েছে ভারী ট্রাক, বাসসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগ পোয়াচ্ছেন এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষ। আর বর্ষা মৌসুমে তো সিমাহীন দুর্ভোগ। সড়কে বড় বড় খানাখন্দ আর কর্দমাক্ত রাস্তা যেন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।
জনদুর্ভোগ কমাতে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করতে সড়কটি প্রশস্তকরণের একটি প্রকল্প হাতে নেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। শুরু হয় পবা উপজেলার ৯.১ কিলোমিটার রাস্তা। প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও দুর্ভোগ কমছে না এই রাস্তায় চলাচলকারিদের। কাজটি বায়া বাজার থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ঠিকাদার কাজ শুরু করেছে নওহাটা পৌরসভার বাগসারা মোড় থেকে। সেখানে ৫০৮ মিটার কনক্রিটের ঢালাই দেওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু ঠিকাদার ১০০ মিটার রাস্তার একপাশ করতেই দেখা দিয়েছে নতুন সংকট। মাত্র দেড় মাসের মাথায় রাস্তার সেই কনক্রিট ঢালাইয়ের অসংখ্য ফাটল ধরতে শুরু করেছে। রাস্তার আরও একপাশ নির্মানের বাঁকী রয়েছে। বাগসারা এলাকার প্রায় এক কিলোমিটার সড়কজুড়ে বড় বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাগসারা মোড় থেকে প্রায় এক কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন অংশ ভাঙাচোরা ও খানাখন্দে ভরা। কোথাও কোথাও সৃষ্টি হয়েছে বড় গর্ত। এরই মধ্যে সড়কের এক পাশে কংক্রিটের ঢালাই দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই সেই ঢালাইয়ের ব্লকগুলোতে চৌচির ফাটল দেখা দিয়েছে। সড়কের অপর পাশের কাজ এখনও বাকি রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের কাজ যে মান ও নির্ধারিত পদ্ধতিতে হওয়ার কথা ছিল, তা অনুসরণ করা হয়নি। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং কাজের ক্ষেত্রে নয়-ছয়ের কারণেই অল্প সময়ের মধ্যে নতুন সড়কে ফাটল দেখা দিয়েছে বলে তাদের দাবি করছেন।
স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, সড়কটিতে যেভাবে কংক্রিটের ঢালাই দেওয়ার কথা বাস্তবে সেটি করা হয়নি। একই সঙ্গে দুই স্তরে রডের নেট দেওয়ার পরিবর্তে এক স্তরের নেট ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, সড়কটি নির্মাণের আগে নিচে যথাযথভাবে ডব্লিউবিএম (WBM) করার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সেটি না করে পুরোনো ভাঙাচোরা সড়কের ওপর সরাসরি কংক্রিট ঢালাই করা হয়েছে। ফলে ভারী ট্রাক ও বাস চলাচলের সময় সড়কটি ঢেউ খেলানো অবস্থার সৃষ্টি করছে এবং নতুন ঢালাইয়ে দ্রুত ফাটল ধরছে।
আরেক স্থানীয় বাসিন্দাকে কাজের মান সঠিকভাবে বুঝে না নেওয়া বা অনিয়মের প্রতিবাদ না করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, স্থানীয়রা প্রতিবাদ করতে গেলে দলের লোকজন এসে তাদের ভয়ভীতি দেখিয়েছে। ফলে অনেকেই প্রতিবাদ করার সাহস পাননি বলে দাবি করেন তিনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের কাজে অনিয়ম ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন। কারণ, জনগণের দুর্ভোগ কমানোর জন্য যে প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, সেটিই যদি নিম্নমানের কাজের কারণে অল্প সময়ের মধ্যে নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে সরকারি অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি জনদুর্ভোগও থেকে যাবে।
এদিকে শুধু নতুন কংক্রিটের অংশেই ফাটল নয়, সড়কের বাকি অংশের অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। বড় বড় খানাখন্দে ভরা সড়ক দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। বর্ষার পানিতে গর্তগুলো আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করায় পথচারী ও যানবাহনের চালকদের জন্য তা হয়ে উঠেছে মৃত্যুফাঁদ।
সড়কের এমন বেহাল অবস্থা এবং নতুন কংক্রিট ঢালাইয়ে অল্প সময়ের মধ্যে ফাটলের বিষয়টি এলজিইডি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এরপর চলমান প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে প্রকল্পের কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের স্টিমেট, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম এবং কাজের নির্ধারিত বিবরণ জানতে পবা উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে কথা বলেন প্রতিবেদক।
প্রকল্পের স্টিমেট ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের তথ্য জানতে চাইলে প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী সরাসরি তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি এসব তথ্য জানতে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করার পরামর্শ দেন। এ নিয়ে প্রতিবেদকের সঙ্গে প্রকৌশলীর কথোপকথনের একপর্যায়ে তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি হয়। সংবাদ সংগ্রহের স্বার্থে সরকারি একটি চলমান প্রকল্পের স্টিমেট, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও কাজের বিবরণ জানতে চাওয়ার পরও তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য না দিয়ে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করতে বলা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি অর্থে বাস্তবায়িত উন্নয়ন প্রকল্পে কত টাকা বরাদ্দ, কোন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে, কী ধরনের নির্মাণসামগ্রী ও কী পদ্ধতিতে কাজ করার কথা এসব তথ্য প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। বিশেষ করে প্রকল্পের কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর এসব তথ্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
অন্যদিকে, প্রকল্পের কাজে অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা এবং প্রকৌশলীর বক্তব্যের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবস্থান জানাই ছিল প্রতিবেদকের তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্য। কিন্তু তথ্য পেতে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করার পরামর্শ দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে আরও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সড়কটির সংস্কার ও প্রকল্পের কাজের মান যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে নতুন কংক্রিট অংশে কেন মাত্র দেড় মাসের মধ্যেই ফাটল দেখা দিয়েছে, নির্ধারিত নকশা ও স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী কাজ হয়েছে কি না এবং সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হয়েছে কি না তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
জনদুর্ভোগ কমাতে নেওয়া প্রকল্পই যদি নিম্নমানের কাজের কারণে আবারও দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে সেই প্রক
ডেইলী নিউজ বাংলা ডেস্ক 




















