সাভার আশুলিয়া প্রতিনিধিঃ
ঢাকার সাভারে নিষিদ্ধ ঘোষিত সাভার সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো: মনির হোসেন ওরফে মোবাইল মনির ওরফে সিটি মনিরকে গ্রেপ্তার করেছে সাভার মডেল থানা পুলিশ।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫ টায়
আশুলিয়ার নবীনগর সেনা শপিং কমপ্লেক্স এলাকা থেকে আশুলিয়া থানার সহায়তায় সাভার মডেল থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো: আশরাফুল ইসলাম।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গ্রেপ্তার মো: মনির হোসেন (৪৬) সাভার পৌরসভার উত্তর রাজাসন এলাকার বাসিন্দা মোঃ ইউনুস খানের ছেলে। তিনি সাভার সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পলাতক উপজেলা চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম রাজীবের ঘনিষ্ঠ অনুসারী।
মনিরের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালে আদালতে জাল জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে সি.আর মামলা দায়ের হয়। ঘটনাস্থল রাজধানীর কোতোয়ালী থানা এলাকা হওয়ায় সংশ্লিষ্ট থানার ওসিকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন মেট্রোপলিটন বিশেষ ট্রাইবুনাল আদালত।
এ সময় ওই মামলায় প্রাথমিকভাবে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ। দীর্ঘ ৭ বছর আইনি প্রক্রিয়া শেষে জাল জালিয়াতি ও প্রতারণার সাথে যুক্ত প্রমাণিত হওয়ায় ২০২৫ সালে আদালত মনিরের এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৩০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন।
তিনি আদালতে হাজির না হয়ে পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। এরপর থেকে তাকে ধরতে নজরদারি ও তৎপরতা বাড়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শুক্রবার বিকালে আশুলিয়া থানাধীন নবীনগর সেনা শপিং কমপ্লেক্স এলাকায় তার অবস্থান জানতে পেরে স্থানীয় থানা পুলিশের সহায়তায় সাভার মডেল থানা পুলিশের একটি বিশেষ টিম অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
এছাড়াও স্থানীয় সূত্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার একদফা আন্দোলন চলাকালীন সময় সাভারে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন মো: মনির হোসেন। ঘটনার পর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে তার বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীরা একাধিক হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এতদিন তিনি সাভার থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাভার সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফার শেল্টারে সাভার সদর ইউনিয়নের উত্তর কলমা এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন। বিএনপির এই নেতার ছত্রছায়ায় থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক মনে করে পলাতক সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পলাতক উপজেলা চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম রাজীবের নির্দেশে সাভার থানা এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার জন্য ঝটিকা মিছিলের অর্থায়ন করছিলেন তিনি। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বিষয়টি জানতে পারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এছাড়াও নিষিদ্ধ এই আওয়ামী লীগ নেতার মুঠোফোনে বিএনপি নেতা গোলাম মোস্তফার একাধিকবার কথোপকথনের তথ্য উঠে এসেছে।
এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, “ মনির হোসেনের বিরুদ্ধে সাভারে সংঘটিত ছাত্র হত্যা ও আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার অভিযোগ রয়েছে। তিনি সাভার মডেল থানায় দায়ের হওয়া একাধিক হত্যা মামলাসহ রাজধানীর কোতোয়ালী থানার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি। আজ শনিবার তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।”
প্রসঙ্গত, গত জুলাই মাসসহ ৪ ও ৫ আগস্ট সাভারে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিতে ছাত্র-জনতা জমায়েত হলে তৎকালীন দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক স্বৈরাচার শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ সহযোগী পতিত উপজেলা চেয়ারম্যান ও নিষিদ্ধ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম রাজীব এবং দণ্ডপ্রাপ্ত ঢাকা-১৯ আসনের পতিত সংসদ সদস্য ও আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণ করে। এতে সাভার-আশুলিয়ায় শতাধিক ছাত্র-জনতা শহিদ হন এবং অসংখ্য মানুষ চিরতরে পঙ্গুত্ববরণ করেন।
ডেইলী নিউজ বাংলা ডেস্ক 























