ঢাকা ১১:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
সরকারি দামে সিলিন্ডার মেলা ভার: ভেড়ামারায় এলপিজি নিয়ে নৈরাজ্য, ক্ষুব্ধ ভোক্তা আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই শতভাগ যুবকদেরকে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করে স্বাবলম্বী হিসেবে গড়তে চাইঃ-  যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল হক বদলির আদেশের পরও বহাল তবিয়তে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারের ৭ কারারক্ষী।। ভুয়া ফেসবুক আইডি সনাক্ত ও আইনী ব্যবস্থা গ্রহনে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম রাজশাহী প্রেসক্লাবের কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে একটি মাঠ থেকে হাত বাঁধা অবস্থায় অজ্ঞাত এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ একে বাঁচাতে গিয়ে দুজনেরই নিথর দেহ, ভালুকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই ভাইয়ের মৃত্যু কুষ্টিয়া সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৯ লক্ষাধিক টাকার ভারতীয় মাদকদ্রব্য উদ্ধার মুন্সিপাড়া যুব কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে মশক নিধন অভিযান চালানো সম্পন্ন নাগরপুরে শুকরিয়া দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত  নাসিরনগরে অস্বাস্থ্যকর ভেজাল ও নকল শিশু খাদ্যে ছয়লাব, বিক্রি হচ্ছে দেদারসে 

সরকারি দামে সিলিন্ডার মেলা ভার: ভেড়ামারায় এলপিজি নিয়ে নৈরাজ্য, ক্ষুব্ধ ভোক্তা

সরকারি দামে সিলিন্ডার মেলা ভার: ভেড়ামারায় এলপিজি নিয়ে নৈরাজ্য, ক্ষুব্ধ ভোক্তা

‎হেলাল মজুমদার কুষ্টিয়া
‎ভেড়ামারায় সরকারি নির্দেশনার তোয়াক্কা না করে ইচ্ছেমতো দামে বিক্রি হচ্ছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)। সিলিন্ডারপ্রতি সরকারের বেঁধে দেওয়া দামের চেয়ে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত বেশি গুণতে হচ্ছে সাধারণ ভোক্তাদের। এতে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে স্থানীয় ক্রেতাদের মধ্যে।
‎৩০ সেপ্টেম্বর (বুধবার) বিকেলে ভেড়ামারা উপজেলার স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখা যায়, সরকার নির্ধারিত ১,৫৮৫ টাকার ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডার খোলা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২,০০০ থেকে ২,২০০ টাকায়। বিক্রেতারা সরবরাহ সংকটের দোহাই দিলেও ক্রেতাদের অভিযোগ, এটি কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পকেট কাটার এক কৌশল।
‎
‎বাজারের খুচরা এলপিজি বিক্রেতা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, সরকার দাম ১৫৮৫ টাকা ঠিক করে দিলেও আমরা তো আর এই দামে ডিলারদের কাছ থেকে পাচ্ছি না। আমাদের প্রতিটি সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে ১৯০০ থেকে ১৯৫০ টাকা দিয়ে। পরিবহন খরচ আর দোকান ভাড়া হিসাব করলে ২ হাজার টাকার নিচে বেচলেই লস। ডিলাররা কম দামে দিলে আমরাও সরকার নির্ধারিত দামে বেচতে পারি।
‎
‎দোকানদার আল-আমিন হোসেনের গলায় একই সুর। তিনি বলেন, পাইকারি বাজারেই সরবরাহ কম। ডিলারদের কাছে চাহিদামতো সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। যেসব কোম্পানি থেকে আমরা মালামাল আনি, তারা আমাদের রসিদ ছাড়া বেশি দাম ধরে। আমরা তো বেশি দামে কিনে কম দামে বেচতে পারব না।
‎
‎তবে বিক্রেতাদের এমন অজুহাত মানতে নারাজ সাধারণ ক্রেতারা। বাজার করতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, টিভিতে আর পেপারে দেখি সরকার দাম কমায় বা একটা নির্দিষ্ট দাম বেঁধে দেয়। কিন্তু বাজারে এলে সেই দামের কোনো হদিস পাওয়া যায় না। আজ ১২ কেজির সিলিন্ডার কিনলাম ২,১০০ টাকায়। আমাদের মতো নির্ধারিত আয়ের মানুষের সংসার চালানো এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
‎
‎অন্য এক ক্রেতা গৃহিণী সুলতানা রাজিয়া বলেন, দোকানে গেলেই বলে সিলিন্ডার নেই, সংকট। কিন্তু ২০০-৩০০ টাকা বেশি দিতে রাজি হলেই ভেতর থেকে সিলিন্ডার বের করে দেয়। এটা পুরোপুরি সিন্ডিকেট। প্রশাসনের কেউ বাজারে এসে তদারকি করে না বলেই এসব অসাধু ব্যবসায়ীরা পার পেয়ে যাচ্ছে।
‎
‎এ বিষয়ে স্থানীয় সাধারণ ভোক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত বাজারে কড়া মনিটরিং ও অসাধু ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
‎
‎

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারি দামে সিলিন্ডার মেলা ভার: ভেড়ামারায় এলপিজি নিয়ে নৈরাজ্য, ক্ষুব্ধ ভোক্তা

সরকারি দামে সিলিন্ডার মেলা ভার: ভেড়ামারায় এলপিজি নিয়ে নৈরাজ্য, ক্ষুব্ধ ভোক্তা

আপডেট টাইম : ১১:০২:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সরকারি দামে সিলিন্ডার মেলা ভার: ভেড়ামারায় এলপিজি নিয়ে নৈরাজ্য, ক্ষুব্ধ ভোক্তা

‎হেলাল মজুমদার কুষ্টিয়া
‎ভেড়ামারায় সরকারি নির্দেশনার তোয়াক্কা না করে ইচ্ছেমতো দামে বিক্রি হচ্ছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)। সিলিন্ডারপ্রতি সরকারের বেঁধে দেওয়া দামের চেয়ে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত বেশি গুণতে হচ্ছে সাধারণ ভোক্তাদের। এতে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে স্থানীয় ক্রেতাদের মধ্যে।
‎৩০ সেপ্টেম্বর (বুধবার) বিকেলে ভেড়ামারা উপজেলার স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখা যায়, সরকার নির্ধারিত ১,৫৮৫ টাকার ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডার খোলা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২,০০০ থেকে ২,২০০ টাকায়। বিক্রেতারা সরবরাহ সংকটের দোহাই দিলেও ক্রেতাদের অভিযোগ, এটি কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পকেট কাটার এক কৌশল।
‎
‎বাজারের খুচরা এলপিজি বিক্রেতা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, সরকার দাম ১৫৮৫ টাকা ঠিক করে দিলেও আমরা তো আর এই দামে ডিলারদের কাছ থেকে পাচ্ছি না। আমাদের প্রতিটি সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে ১৯০০ থেকে ১৯৫০ টাকা দিয়ে। পরিবহন খরচ আর দোকান ভাড়া হিসাব করলে ২ হাজার টাকার নিচে বেচলেই লস। ডিলাররা কম দামে দিলে আমরাও সরকার নির্ধারিত দামে বেচতে পারি।
‎
‎দোকানদার আল-আমিন হোসেনের গলায় একই সুর। তিনি বলেন, পাইকারি বাজারেই সরবরাহ কম। ডিলারদের কাছে চাহিদামতো সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। যেসব কোম্পানি থেকে আমরা মালামাল আনি, তারা আমাদের রসিদ ছাড়া বেশি দাম ধরে। আমরা তো বেশি দামে কিনে কম দামে বেচতে পারব না।
‎
‎তবে বিক্রেতাদের এমন অজুহাত মানতে নারাজ সাধারণ ক্রেতারা। বাজার করতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, টিভিতে আর পেপারে দেখি সরকার দাম কমায় বা একটা নির্দিষ্ট দাম বেঁধে দেয়। কিন্তু বাজারে এলে সেই দামের কোনো হদিস পাওয়া যায় না। আজ ১২ কেজির সিলিন্ডার কিনলাম ২,১০০ টাকায়। আমাদের মতো নির্ধারিত আয়ের মানুষের সংসার চালানো এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
‎
‎অন্য এক ক্রেতা গৃহিণী সুলতানা রাজিয়া বলেন, দোকানে গেলেই বলে সিলিন্ডার নেই, সংকট। কিন্তু ২০০-৩০০ টাকা বেশি দিতে রাজি হলেই ভেতর থেকে সিলিন্ডার বের করে দেয়। এটা পুরোপুরি সিন্ডিকেট। প্রশাসনের কেউ বাজারে এসে তদারকি করে না বলেই এসব অসাধু ব্যবসায়ীরা পার পেয়ে যাচ্ছে।
‎
‎এ বিষয়ে স্থানীয় সাধারণ ভোক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত বাজারে কড়া মনিটরিং ও অসাধু ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
‎
‎