রাজশাহীতে চাঁদা না দেওয়ায় হামলাসহ বাড়ি ভাঙচুর ও লুটের অভিযোগ
রাজশাহী ব্যুরো: রাজশাহী মহানগরীর কাটাখালী থানার মোহনপুর (বুধপাড়া) এলাকায় ৫ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় গত ২৭ সেপ্টেম্বর এক যুবককে মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম এবং পরে তাঁর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজশাহীর তালাইমারি এলাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন মোয়াজ্জেম হোসেন। তিনি মোহনপুরের বুধপাড়া, কাটাখালী এলাকার বাসিন্দা।
লিখিত বক্তব্যে মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, গত ২৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় তাঁর ছেলে সিহাব শাহরিয়ারকে মোহনপুর নরনী মাদ্রাসার সামনে কয়েকজন ব্যক্তি ঘিরে ধরেন। এ সময় দোতলা বাড়ি নির্মাণের বিষয় উল্লেখ করে তাঁর ছেলের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র, লোহার রড ও পাইপ দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করা হয়।
ঘটনার সময় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের সহযোগিতা চাওয়া হয় বলে জানান মোয়াজ্জেম। আহত ছেলেকে হাসপাতালে নেওয়ার সময়ও অভিযুক্তরা পথরোধ করে হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ওই রাতেই অভিযুক্তরা আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর বাড়িতে হামলা চালান। এ সময় বাড়ির গেট ও দরজা ভাঙচুর, ঘরের আসবাবপত্র তছনছ এবং স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় মামলা করলে বাড়িতে আগুন দিয়ে পরিবারের সবাইকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন মোয়াজ্জেম।
একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি দাবি জানান তিনি।
এ সময় সাংবাদিকরা মোয়াজ্জেম হোসেনকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেন। থানায় মামলা না করে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা অত্যন্ত ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছি। তাদের পেছনে দলীয় শক্তি কাজ করছে। তাই আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি।
এ বিষয়ে কাটাখালী থানার অফিসার ইনচার্জ নুরুজ্জামানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এই ঘটনা মূলত আওয়ামী লীগ-বিএনপির। যে ব্যক্তি আজ সংবাদ সম্মেলন করেছেন, তাঁরা আওয়ামী লীগের লোকজন। এদের দ্বারাই যুবদলের ছেলেপেলে আহত হয়ে মেডিকেলে ভর্তি হয়েছে। তারপরও আইন সবার জন্য সমান। তাঁর যদি সমস্যা হয়, তাহলে অবশ্যই আইনের সহায়তা পাবেন।
ডেইলী নিউজ বাংলা ডেস্ক 

















