দৌলতপুরে মাদ্রাসাছাত্রকে বলাৎকারের চেষ্টার অভিযোগ, সংঘর্ষে ওসিসহ আহত
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ১৩ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রকে বলাৎকারের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল আশিকুল্লাহর বিরুদ্ধে। এ অভিযোগ জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে অভিযুক্ত প্রিন্সিপালকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার সময় পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমানসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার খলিশাকুন্ডি এলাকায়। অভিযোগকারী মাদ্রাসাছাত্র ফরহাদ (১৩) ওই এলাকার মালিথাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা মিঠু।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাতে মাদ্রাসায় ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ ও বলাৎকারের চেষ্টা করা হয়েছে—এমন অভিযোগ ওঠে। পরে শিক্ষার্থী বিষয়টি তার বাবাকে জানালে ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে আজ সকাল ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে স্থানীয়রা অভিযুক্ত প্রিন্সিপালকে ঘিরে রাখেন।
খবর পেয়ে দৌলতপুর থানার ওসি খালেদুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করে। পরে পুলিশ অভিযুক্ত প্রিন্সিপালকে হেফাজতে নেওয়ার উদ্যোগ নিলে কয়েকজন বিক্ষুব্ধ ব্যক্তি বাধা দেন। এ সময় অভিযুক্তকে মারধরের চেষ্টা করা হলে পুলিশ তাঁদের বাধা দেয়। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, সংঘর্ষে ওসি খালেদুর রহমানসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে আহতদের সংখ্যা ও তাঁদের আঘাতের ধরন তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, অভিযুক্ত প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে এর আগেও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের অভিযোগ উঠেছিল। তবে আগের এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শিক্ষার্থীর বাবা মিঠু বলেন, “লোকমুখে জানতে পারি, মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাঝেমধ্যে আমার ছেলের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ করতেন। পরে ছেলেকে জিজ্ঞাসা করলে সে আমাকে বিস্তারিত জানায়। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মাদ্রাসা প্রিন্সিপাল আশিকুল্লাহর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি যশোর জেলার বাসিন্দা। মিরপুর উপজেলার ছাতিয়ান ইউনিয়নের আটি গ্রামে তাঁর শ্বশুরবাড়ি রয়েছে বলেও স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
দৌলতপুর থানার ওসি খালেদুর রহমান বলেন, “বলাৎকারের অভিযোগে এক মাদ্রাসা শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে শিক্ষককে অবরুদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। বর্তমানে তিনি পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।”
ওসি আরও বলেন, ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ডেইলী নিউজ বাংলা ডেস্ক 


















