ঢাকা ০৭:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গত দুই মাসে ২৭ জন পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যকে জেলে পাঠানো হয়েছে: পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ফাইভ স্টার ক্লাবের উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রী গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ৩য় ম্যাচ অনুষ্ঠিত সংবিধান মেনে চললে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল না: ডা. শফিকুর রহমান ডিবি পুলিশের বিশেষ অভিযানে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ তিনজন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার শ্রীপুরে ভাড়া বাসায় ইয়াবা সেবনের সময় পুলিশ সদস্য আটক ৩ গলাচিপায় মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে ৩ জেলের কারাদণ্ড, শিশুকে মুচলেকায় মুক্তি দৌলতপুরে স্বপন গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত ছাতারপাড়াতে প্রধানমন্ত্রী গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ২য় ম্যাচ অনুষ্ঠিত যশোরে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৩ তরুণ নিহত, আহত ২ কুষ্টিয়া-পাবনা মহাসড়কে ডাকাতির চেষ্টাকালে গণধোলাইয়ের শিকার ২ জন, পুলিশের কাছে হস্তান্তর

কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে লাঙল দিয়ে জমি চাষ

কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে কৃষকরা গরু ও কাঁধে লাঙল দিয়ে জমি চাষ


জাহিদুর রহমান তারিক, ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহ জেলায় লাঙ্গল দিয়ে জমি চাষ এখন আর চোখে পড়ে না। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির আগমনে হারিয়ে গেছে এই চিরচেনা দৃশ্যটির। এ দৃশ্য ঝিনাইদহ জেলার সবখানেই। একসময় দেখা যেত সেই কাকডাকা ভোরে কৃষকরা গরু ও কাঁধে লাঙল-জোয়াল নিয়ে বেরিয়ে পড়তো মাঠের জমিতে হালচাষ করার জন্য। বর্তমানে আধুনিকতার স্পর্শে ও বিজ্ঞানের নতুন নতুন আবিষ্কারের ফলে কৃষকদের জীবনে এসেছে নানা পরিবর্তন।

আর সেই পরিবর্তনের ছোঁয়াও লেগেছে কৃষিতে। তাই সকালে কাঁধে লাঙল-জোয়াল নিয়ে মাঠে যেতে আর দেখা যায় না কৃষকদের। কৃষি প্রধান বাংলাদেশের হাজার বছরের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে গরু, লাঙল ও জোয়াল। এই লাঙল-জোয়াল নিয়ে রয়েছে অসংখ্য সাহিত্য-সংস্কৃতি। বাংলা সাহিত্যের বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের একটি পত্রিকার নামই ছিল ‘লাঙ্গল’। আধুনিকতার ছোঁয়ায় হালচাষের পরিবর্তে এখন ট্রাক্টর অথবা পাওয়ার টিলার দিয়ে অল্প সময়ে জমি চাষ করা হয়।

এসছে ধান মাড়াইয়ের অত্যাধুনিক হারভেস্টার। একসময় উপজেলায় বাণিজ্যিক ভাবে কৃষক গরু, মহিষ পালন করত হালচাষ করার জন্য। আবার অনেকে গবাদিপশু দিয়ে হালচাষকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়ে ছিলেন। আবার অনেকে, ধান গম, ভুট্টা, তিল, সরিষা, কলাই, আলু প্রভৃতি চাষের জন্য ব্যবহার করতেন। নিজের সামান্য জমির পাশাপাশি অন্যের জমিতে হালচাষ করে তাদের সংসারের ব্যয়ভার বহন করত।

হালের গরু দিয়ে দরিদ্র মানুষ জমি চাষ করে ফিরে পেত তাদের পরিবারের সচ্ছলতা। আগে দেখা যেত কাকডাকা ভোরে কৃষক গরু, মহিষ, লাঙল, জোয়াল নিয়ে মাঠে বেরিয়ে পড়তো। এখন আর চোখে পড়ে না সে দৃশ্য জমি চাষের প্রয়োজন হলেই অল্প সময়ের মধ্যেই পাওয়ার টিলারসহ আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে চালাচ্ছে জমি চাষাবাদ। তাই কৃষকরা এখন পেশা বদল করে অন্য পেশায় ঝুঁকছেন।

ফলে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে গরু, মহিষ, লাঙল, জোয়াল দিয়ে জমিতে হাল চাষ। কৃষক সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘ছোটবেলায় হালচাষের কাজ করতাম। বাড়িতে হালচাষের বলদ গরু ছিল ২-৩ জোড়া। চাষের জন্য দরকার হতো এক জোড়া বলদ, কাঠের তৈরি লাঙল, বাঁশের তৈরি জোয়াল, মই, লরি (বাঁশের তৈরি গরু তাড়ানোর লাঠি), গরুর মুখে ঠুসি ইত্যাদি। আগে গরু দিয়ে হালচাষ করলে জমিতে ঘাস কম হতো।

অনেক সময় গরুর গোবর জমিতে পড়তো, এতে করে জমিতে অনেক জৈবসার হতো। ক্ষেতে ফলন ভালো হতো।’ শুধু তাই নয় আগেকার দিনে মাঠের বিল এলাকার জমিতে বিশাল গোচারণ ভূমিতে অগণিত গরুর পাল দেখা যেত। এখন নতুন নতুন আধুনিক বিভিন্ন মেশিন এসেছে, সেই মেশিন দিয়ে এখানকার লোকজন জমি চাষাবাদ করে। তাই গরু, মহিষ, লাঙল, জোয়াল নিয়ে জমিতে হাল চাষ করা এখন হারিয়ে যেতে বসেছে। গরুর লাঙল দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৬৬ শতাংশ জমি চাষ করা সম্ভব।

আধুনিক যন্ত্রপাতির থেকে গরুর লাঙলের চাষ গভীর হয় এবং তা পরিবেশ বান্ধব। জমির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি ও ফসলের চাষাবাদ করতে সার, কীটনাশক কম লাগতো। দিনে দিনে এভাবেই ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য। আর গরুর গাড়ি শুধু দেখা যায় পহেলা বৈশাখ পালন করতে। গরু-মহিষ, লাঙ্গল ও জোয়াল ছিলো আমাদের ঐতিহ্য ও পরিবেশ সম্মত কৃষি পদ্ধতি। সেই সময় কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ার স্পর্শ ছিলো না।

কিন্তু বর্তমান সময়ে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি পুরাতন চাষ পদ্ধতিকে আমূল পরিবর্তন করেছে। কৃষকরা আগে যা স্বপ্নেও ভাবতে পারেননি বর্তমানে কৃষি প্রযুক্তির ছোঁয়াই তার চেয়ে অনেক বেশি পাচ্ছেন। অধিক ফলনশীল জাতের ফসল চাষ করে কম সময়ে-অল্প খরচে অধিক লাভবান হচ্ছেন শুধুমাত্র আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির কল্যাণে।

আগামীতে কৃষিতে আরও পরিবর্তন আসবে যা কৃষকদের ডিজিটাল বানিয়ে দেবে। এভাবে গোটা কৃষি সেক্টর অত্যাধুনিক কৃষি প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে যাবে যা অভিনব কৃষি বিপ্লব ঘটাবে তাতে সন্দেহ নেই। আর সেদিন হয়তো কাঠের লাঙ্গল দেখা যাবে শুধুই যাদু ঘরে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গত দুই মাসে ২৭ জন পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যকে জেলে পাঠানো হয়েছে: পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি)

কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে লাঙল দিয়ে জমি চাষ

আপডেট টাইম : ১২:০৮:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ মার্চ ২০২১

কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে কৃষকরা গরু ও কাঁধে লাঙল দিয়ে জমি চাষ


জাহিদুর রহমান তারিক, ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহ জেলায় লাঙ্গল দিয়ে জমি চাষ এখন আর চোখে পড়ে না। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির আগমনে হারিয়ে গেছে এই চিরচেনা দৃশ্যটির। এ দৃশ্য ঝিনাইদহ জেলার সবখানেই। একসময় দেখা যেত সেই কাকডাকা ভোরে কৃষকরা গরু ও কাঁধে লাঙল-জোয়াল নিয়ে বেরিয়ে পড়তো মাঠের জমিতে হালচাষ করার জন্য। বর্তমানে আধুনিকতার স্পর্শে ও বিজ্ঞানের নতুন নতুন আবিষ্কারের ফলে কৃষকদের জীবনে এসেছে নানা পরিবর্তন।

আর সেই পরিবর্তনের ছোঁয়াও লেগেছে কৃষিতে। তাই সকালে কাঁধে লাঙল-জোয়াল নিয়ে মাঠে যেতে আর দেখা যায় না কৃষকদের। কৃষি প্রধান বাংলাদেশের হাজার বছরের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে গরু, লাঙল ও জোয়াল। এই লাঙল-জোয়াল নিয়ে রয়েছে অসংখ্য সাহিত্য-সংস্কৃতি। বাংলা সাহিত্যের বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের একটি পত্রিকার নামই ছিল ‘লাঙ্গল’। আধুনিকতার ছোঁয়ায় হালচাষের পরিবর্তে এখন ট্রাক্টর অথবা পাওয়ার টিলার দিয়ে অল্প সময়ে জমি চাষ করা হয়।

এসছে ধান মাড়াইয়ের অত্যাধুনিক হারভেস্টার। একসময় উপজেলায় বাণিজ্যিক ভাবে কৃষক গরু, মহিষ পালন করত হালচাষ করার জন্য। আবার অনেকে গবাদিপশু দিয়ে হালচাষকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়ে ছিলেন। আবার অনেকে, ধান গম, ভুট্টা, তিল, সরিষা, কলাই, আলু প্রভৃতি চাষের জন্য ব্যবহার করতেন। নিজের সামান্য জমির পাশাপাশি অন্যের জমিতে হালচাষ করে তাদের সংসারের ব্যয়ভার বহন করত।

হালের গরু দিয়ে দরিদ্র মানুষ জমি চাষ করে ফিরে পেত তাদের পরিবারের সচ্ছলতা। আগে দেখা যেত কাকডাকা ভোরে কৃষক গরু, মহিষ, লাঙল, জোয়াল নিয়ে মাঠে বেরিয়ে পড়তো। এখন আর চোখে পড়ে না সে দৃশ্য জমি চাষের প্রয়োজন হলেই অল্প সময়ের মধ্যেই পাওয়ার টিলারসহ আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে চালাচ্ছে জমি চাষাবাদ। তাই কৃষকরা এখন পেশা বদল করে অন্য পেশায় ঝুঁকছেন।

ফলে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে গরু, মহিষ, লাঙল, জোয়াল দিয়ে জমিতে হাল চাষ। কৃষক সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘ছোটবেলায় হালচাষের কাজ করতাম। বাড়িতে হালচাষের বলদ গরু ছিল ২-৩ জোড়া। চাষের জন্য দরকার হতো এক জোড়া বলদ, কাঠের তৈরি লাঙল, বাঁশের তৈরি জোয়াল, মই, লরি (বাঁশের তৈরি গরু তাড়ানোর লাঠি), গরুর মুখে ঠুসি ইত্যাদি। আগে গরু দিয়ে হালচাষ করলে জমিতে ঘাস কম হতো।

অনেক সময় গরুর গোবর জমিতে পড়তো, এতে করে জমিতে অনেক জৈবসার হতো। ক্ষেতে ফলন ভালো হতো।’ শুধু তাই নয় আগেকার দিনে মাঠের বিল এলাকার জমিতে বিশাল গোচারণ ভূমিতে অগণিত গরুর পাল দেখা যেত। এখন নতুন নতুন আধুনিক বিভিন্ন মেশিন এসেছে, সেই মেশিন দিয়ে এখানকার লোকজন জমি চাষাবাদ করে। তাই গরু, মহিষ, লাঙল, জোয়াল নিয়ে জমিতে হাল চাষ করা এখন হারিয়ে যেতে বসেছে। গরুর লাঙল দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৬৬ শতাংশ জমি চাষ করা সম্ভব।

আধুনিক যন্ত্রপাতির থেকে গরুর লাঙলের চাষ গভীর হয় এবং তা পরিবেশ বান্ধব। জমির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি ও ফসলের চাষাবাদ করতে সার, কীটনাশক কম লাগতো। দিনে দিনে এভাবেই ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য। আর গরুর গাড়ি শুধু দেখা যায় পহেলা বৈশাখ পালন করতে। গরু-মহিষ, লাঙ্গল ও জোয়াল ছিলো আমাদের ঐতিহ্য ও পরিবেশ সম্মত কৃষি পদ্ধতি। সেই সময় কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ার স্পর্শ ছিলো না।

কিন্তু বর্তমান সময়ে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি পুরাতন চাষ পদ্ধতিকে আমূল পরিবর্তন করেছে। কৃষকরা আগে যা স্বপ্নেও ভাবতে পারেননি বর্তমানে কৃষি প্রযুক্তির ছোঁয়াই তার চেয়ে অনেক বেশি পাচ্ছেন। অধিক ফলনশীল জাতের ফসল চাষ করে কম সময়ে-অল্প খরচে অধিক লাভবান হচ্ছেন শুধুমাত্র আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির কল্যাণে।

আগামীতে কৃষিতে আরও পরিবর্তন আসবে যা কৃষকদের ডিজিটাল বানিয়ে দেবে। এভাবে গোটা কৃষি সেক্টর অত্যাধুনিক কৃষি প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে যাবে যা অভিনব কৃষি বিপ্লব ঘটাবে তাতে সন্দেহ নেই। আর সেদিন হয়তো কাঠের লাঙ্গল দেখা যাবে শুধুই যাদু ঘরে।