বরেন্দ্র অঞ্চলে আউশের ফলনে খুশি হলেও দাম নিয়ে হতাশায় চাষীরা
মোহাম্মদ আককাস আলী :
বরেন্দ্র অঞ্চলে আউশের ফলনে খুশি হলেও দাম নিয়ে হতাশায় রয়েছে চাষীরা। বিঘাপ্রতি ১৪ থেকে ১৫ মণ হারে ফলন পাচ্ছেন চাষিরা। তবে বাজারে মনমতো দাম পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ চাষিদের। তাই তাদের মুখে নেই স্বস্তির হাসি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, এ’অঞ্চলে চলতি মৌসুমে ৫৫ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আউশ ধান আবাদ হয়েছে। কৃষকরা সবচেয়ে বেশ চাষি করেছেন ব্রি-৪৮ জাতের ধান। অন্য জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্রি-২৮, ৫৬, ৬৫, ৮২, ৮৫, বিআর-২১, বিনা-১৯, পারিজা ও জিরাশাইল।
জেলার বিভিন্ন এলাকার মাঠ ঘুরে দেখা যায়, চাষিরা ধান কাটা, মাড়াই ও বিক্রি করতে ব্যস্ত। তবে দাম ভালো না পাওয়ায় হতাশ চাষিরা। ধানের উৎপাদন খরচ ও পরিশ্রমের সঠিক মূল্য না পাওয়ায় ব্যাবসায়িক সিন্ডিকেটকে দায়ী করছেন তারা।
গতকাল বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা হয়েছে
প্রকারভেদে ৮০০, ৮৫০ ও ৯০০ টাকা মণ দরে চাষিদের কাছ থেকে ধান কেনা হচ্ছে। চাষীরা বলছেন,৮০০/৯০০টাকায় ধান বিক্রি করে লোকসান গুনতে হচ্ছে তবে যদি ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকা মণ দরে ধানের দাম পেতাম তাহলে লাভের মুখ দেখতে পেতাম। ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের বাজার ভেঙ্গে
ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে জোর দাবি আউশ চাষীদের।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ফলন ভালো হলেও ধান কিছুটা ভেজা থাকার কারণে দাম কিছুটা কম।
জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নওগাঁ সদর উপজেলায় ৩ হাজার ৬৯৫ হেক্টর, রানীনগরে এক হাজার ১৫০ হেক্টর, আত্রাইয়ে এক হাজার ৭২০ হেক্টর, বদলগাছীতে এক হাজার ৫৬০ হেক্টর, মহাদেবপুরে ১৩ হাজার ১১০ হেক্টর, পত্নীতলায় ৬ হাজার ৮৫০ হেক্টর, ধামইরহাটে ২ হাজার ২৮০ হেক্টর এবং মান্দা উপজেলায় ১৪ হাজার ৩১০ হেক্টর , সাপাহার উপজেলায় ৭৯৫ হেক্টর, পোরশায় ৯১০ হেক্টর এবং নিয়ামতপুরে ৯ হাজার ১২০ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের আবাদ হয়েছে।