ঢাকা ০৩:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
রাজশাহীতে ভুয়া আইডি খুলে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারকারি কাঁচু গ্রেপ্তার নাগরপুরে শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত ঘোড়াঘাটে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ বিষয়ক অবহিতকরণ প্রেস কনফারেন্স নওগাঁয় পালিত হলো জাতীয় কন্যাশিশু দিবস ‎ভেড়ামারায় দুই গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি মামুন গ্রেপ্তার ‎ ভেড়ামারায় ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম নিয়ে প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত ‎ ‎ ভেড়ামারায় পদ্মা নদীতে অভিযান, ২ লাখ ২৪ হাজার টাকার নিষিদ্ধ জাল জব্দ রাজশাহীতে অনুমোদনহীন MLM কোম্পানির পণ্য বিক্রির দায়ে ৫ হাজার টাকা জরিমানা হাটশ হরিপুরে শিক্ষার্থীদের সাফল্যের স্বীকৃতি, সংবর্ধনা পেল ২৪ এসএসসি উত্তীর্ণ ভেড়ামারায় পদ্মা নদীতে অভিযান, ৩ লাখ ৬৪ হাজার টাকার নিষিদ্ধ জাল জব্দ

প্রতিবন্ধীর কষ্ট দেখে বাড়ালেন সাহায্যের হাত: হুইলচেয়ার উপহার দিলেন ছাত্রদল আহ্বায়ক

হেলাল উদ্দিন,দৌলতপুর(কুষ্টিয়া): একটি সড়ক দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছিল ১০ বছর বয়সী শাকিবের স্বাভাবিক জীবন। শারীরিক ও বাক প্রতিবন্ধকতার কারণে এরপর থেকে ঘরের বাইরে বের হলেই মায়ের কোলে ছিল তার একমাত্র ভরসা। তবে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শাকিবের পাশে দাঁড়িয়েছেন একজন মানবিক মানুষ। উপহার দিয়েছেন নতুন হুইলচেয়ার। আর সেই হুইলচেয়ার পেয়ে ১৩ বছরের শাকিবের চোখে-মুখে এখন বিশ্বজয়ের আনন্দ।

কখনো মায়ের কোলে, কখনো ঘরের চার দেয়ালের মধ্যে—এভাবেই কেটে যাচ্ছিল ১৩ বছরের শাকিবের জীবন।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার বড়গাংদিয়া পশ্চিমপাড়ার সাইদুল ও ইসমতারা দম্পতির ছেলে শাকিব। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় ভালো ছিল সে। নিয়মিত স্কুলেও যেত।

কিন্তু তিন বছর আগে একটি সড়ক দুর্ঘটনা নিমিষেই বদলে দেয় তার জীবন। মাত্র ১০ বছর বয়সেই শারীরিক ও বাক প্রতিবন্ধকতার শিকার হয় শাকিব।

১৩ বছরের একটি ছেলেকে প্রতিনিয়ত মায়ের কোলে করে চলাফেরা করতে দেখে বিষয়টি নজরে আসে স্থানীয় এক গণমাধ্যমকর্মীর। তিনি শাকিবের একটি ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন এবং তার জন্য একটি হুইলচেয়ারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

সেই ভিডিও নজরে আসে দৌলতপুর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদুজ্জামান রুবেলের। শাকিবের চলাফেরার কষ্টের কথা জানতে পেরে আর দেরি করেননি তিনি।

অবশেষে বুধবার দুপুরে শাকিবের বাড়িতে গিয়ে তার হাতে নতুন হুইলচেয়ার তুলে দেন মাসুদুজ্জামান রুবেল।

হুইলচেয়ার পেয়ে যেন বদলে যায় শাকিবের পুরো পৃথিবী। নিজের নতুন বাহনে বসে তার চোখে-মুখে ফুটে ওঠে আনন্দ। পরিবারের কাছেও এটি যেন শুধু একটি হুইলচেয়ার নয়—শাকিবের স্বাভাবিকভাবে চলাফেরার নতুন সুযোগ।

শাকিবের নতুন এই পথচলায় আনন্দিত প্রতিবেশীরাও।

তাদের প্রত্যাশা, সমাজের সামর্থ্যবান ও মানবিক মানুষগুলো যদি এভাবে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান, তাহলে শাকিবের মতো অনেক প্রতিবন্ধী শিশুর জীবন আরও সহজ ও সুন্দর হয়ে উঠবে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

রাজশাহীতে ভুয়া আইডি খুলে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারকারি কাঁচু গ্রেপ্তার

প্রতিবন্ধীর কষ্ট দেখে বাড়ালেন সাহায্যের হাত: হুইলচেয়ার উপহার দিলেন ছাত্রদল আহ্বায়ক

আপডেট টাইম : ০৮:২৯:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হেলাল উদ্দিন,দৌলতপুর(কুষ্টিয়া): একটি সড়ক দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছিল ১০ বছর বয়সী শাকিবের স্বাভাবিক জীবন। শারীরিক ও বাক প্রতিবন্ধকতার কারণে এরপর থেকে ঘরের বাইরে বের হলেই মায়ের কোলে ছিল তার একমাত্র ভরসা। তবে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শাকিবের পাশে দাঁড়িয়েছেন একজন মানবিক মানুষ। উপহার দিয়েছেন নতুন হুইলচেয়ার। আর সেই হুইলচেয়ার পেয়ে ১৩ বছরের শাকিবের চোখে-মুখে এখন বিশ্বজয়ের আনন্দ।

কখনো মায়ের কোলে, কখনো ঘরের চার দেয়ালের মধ্যে—এভাবেই কেটে যাচ্ছিল ১৩ বছরের শাকিবের জীবন।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার বড়গাংদিয়া পশ্চিমপাড়ার সাইদুল ও ইসমতারা দম্পতির ছেলে শাকিব। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় ভালো ছিল সে। নিয়মিত স্কুলেও যেত।

কিন্তু তিন বছর আগে একটি সড়ক দুর্ঘটনা নিমিষেই বদলে দেয় তার জীবন। মাত্র ১০ বছর বয়সেই শারীরিক ও বাক প্রতিবন্ধকতার শিকার হয় শাকিব।

১৩ বছরের একটি ছেলেকে প্রতিনিয়ত মায়ের কোলে করে চলাফেরা করতে দেখে বিষয়টি নজরে আসে স্থানীয় এক গণমাধ্যমকর্মীর। তিনি শাকিবের একটি ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন এবং তার জন্য একটি হুইলচেয়ারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

সেই ভিডিও নজরে আসে দৌলতপুর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদুজ্জামান রুবেলের। শাকিবের চলাফেরার কষ্টের কথা জানতে পেরে আর দেরি করেননি তিনি।

অবশেষে বুধবার দুপুরে শাকিবের বাড়িতে গিয়ে তার হাতে নতুন হুইলচেয়ার তুলে দেন মাসুদুজ্জামান রুবেল।

হুইলচেয়ার পেয়ে যেন বদলে যায় শাকিবের পুরো পৃথিবী। নিজের নতুন বাহনে বসে তার চোখে-মুখে ফুটে ওঠে আনন্দ। পরিবারের কাছেও এটি যেন শুধু একটি হুইলচেয়ার নয়—শাকিবের স্বাভাবিকভাবে চলাফেরার নতুন সুযোগ।

শাকিবের নতুন এই পথচলায় আনন্দিত প্রতিবেশীরাও।

তাদের প্রত্যাশা, সমাজের সামর্থ্যবান ও মানবিক মানুষগুলো যদি এভাবে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান, তাহলে শাকিবের মতো অনেক প্রতিবন্ধী শিশুর জীবন আরও সহজ ও সুন্দর হয়ে উঠবে।