ঢাকা ০৪:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ নিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর প্রতিবাদে নাগরপুর উপজেলা ছাত্রদলের সংবাদ সম্মেলন ভেড়ামারায় এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়ে শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানালেন বিএনপি নেতা মোঃ মাইনুল আলম খান কনক ছাতারপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের বাছাই পর্ব অনুষ্ঠিত  ভেড়ামারায় এক কেজি গাঁজাসহ যুবক গ্রেপ্তার নাগরপুরে এনসিপির আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন: আহ্বায়ক তারিয়াশ পলাশ, সদস্য সচিব সরদার আশরাফ ক্যান্সারের সঙ্গে লড়ছেন রুবেল, বাঁচতে হলে প্রয়োজন ৫০ লাখ টাকা ওয়ালটন প্লাজা ও শঙ্খনীল সার্জিকালের কর্পোরেট চুক্তি স্বাক্ষর: কিস্তি ক্রেতা ও পরিবারের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্য সুবিধা দৌলতপুরে ৩২ কোটি টাকার রাস্তা-ড্রেন নির্মাণকাজের উদ্বোধন

লাশ গুমের পাঁচবছর পর জীবিত উদ্ধার মামলার ভিকটিম রিপন

গুম হওয়ার পাঁচবছর পর জীবিত উদ্ধার ভিকটিম মোঃ রকিবুজ্জামান রিপন।

মেহেরপুর জেলার সদর থানাধীন গোভীপুর (দত্তপাড়া) সাকিনস্থ বাদী মোঃ মনিরুল ইসলাম এর পুত্র ভিকটিম মোঃ রকিবুজ্জামান রিপন (৩০) এর সাথে মামলার ১নং বিবাদী মোছাঃ শ্যামলী খাতুনের বিবাহ হয়। বিবাহের প্রায় ছয়মাস পর হতে ভিকটিম তার শশুর বাড়িতে ঘর জামাই হিসাবে বসবাস শুরু করে এবং তাদের সংসারে একটি পুত্র সন্তান জন্ম গ্রহন করে।

কিছুদিন পর রিপন এর সংসারে দাম্পত্য কলহ শুরু হলে বাদী তার ছেলে রিপনের কোন খোজ খবর না পাওয়ায় তার ছেলেকে হত্যা পূর্বক লাশ গুম করে ফেলার ধারনার বশবর্তী হয়ে রিপনের স্ত্রী, শশুর, শাশুড়ি এবং চাচা শশুরের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করেন। থানা পুলিশ দীর্ঘ দিন তদন্ত করে রিপনকে জীবিত অথবা মৃত কোন ভাবেই উদ্ধার করতে না পেরে বিজ্ঞ আদালতে চুড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করেন।

পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালত থানা পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহন না করে পুলিশ সুপার, পিবিআই, কুষ্টিয়াকে তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করে। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) প্রধান জনাব বনজ কুমার মজুমদার বিপিএম (বার), পিপিএম, অ্যাডিশনাল আইজিপি, বাংলাদেশ পুলিশ এর প্রত্যক্ষ তত্ত্ববধান ও দিক নির্দেশনায় পিবিআই, কুষ্টিয়া জেলার পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মোঃ মনিরুজ্জামানসহ একটি আভিযানিক দল গত ২০/০২/২০২২ খ্রিঃ
তারিখ বিকাল ১৭.৩৫ ঘটিকায় গাজীপুর জেলার শ্রীপুর থানাধীন রাজেন্দ্রপুর এলাকায় ডার্ড কম্পোজিট টেক্সটাইল লিমিটেড এর সামনে রাস্তার উপর থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভিকটিম রিপনকে উদ্ধার পূর্বক তার জবানবন্দী গ্রহণের জন্য বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করেন। পরবর্তী আইন গত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ভিকটিম রকিবুজ্জামান রিপন (৩০) ২০১৭ সালের জুলাই মাসের ০৮ তারিখে অভিমান করে পিতা-মাতা, ভাই -বোন, স্ত্রী, পুত্র আত্মীয়স্বজন ফেলে বাড়ী থেকে নিরুদ্দেশ হয়। ভিকটিম
মোঃ রকিবুজ্জামান রিপন, মোঃ শরিফুল ইসলাম (জন্ম তারিখ- ২৩/০৬/১৯৯৪ খ্রিঃ), পিং- শহিদুল ইসলাম, মাতা – বেদানা বেগম, সাং- গোভিপুর, থানা ও জেলা- মেহেরপুর পরিচয় ধারণ করে আত্মগোপনে ছিল।

তাকে উদ্ধারপূর্বক জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সে তার সঠিক নাম পরিচয় প্রকাশ করে। ভিকটিম রিপন কৌশলে মোঃ শরিফুল ইসলাম ছদ্ম নাম ধারন করে গত ১০/০৩/২০২০ খ্রিঃ তারিখ জনৈকা মোছাঃ শিমলা আক্তার (২০), পিং- মোঃ সিরাজুল ইসলাম, মাতা- মোছাঃ রোশনা বেগম (সাথী), সাং- মনমথ কুঠিপাড়া, থানা- সুন্দরগঞ্জ, জেলা- গাইবান্ধা এর সাথে জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী থানার পৌরসভা কাজী অফিসে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। তাদের ০৬ মাস বয়সের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।

এছাড়া উক্ত ভিকটিম মোঃ শরিফুল ইসলাম ছদ্ম নাম ব্যবহার করে টেকনিশিয়ান (ইলেকট্রিক্যাল) পদে ডার্ড কম্পোজিট টেক্সটাইল লিমিটেড এ চাকুরী করতো মর্মে জানা যায়।

দীর্ঘ পাঁচ বছর পর ভিকটিম রিপনকে জীবিত ও সূস্থ্য উদ্ধারের এই ঘটনায় তার ও আসামীদের পরিবারে স্বস্তির নিশ্বাস বইতে শুরু করেছে। আসামীরা মিথ্যা খুন মামলা ও লাশ গুমের মামলা থেকে হাফ ছেড়ে বেঁচেছে এবং বাদী তার কোলে পুত্রকে ফিরে পেয়ে খুশি হয়েছেন।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ নিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর প্রতিবাদে নাগরপুর উপজেলা ছাত্রদলের সংবাদ সম্মেলন

লাশ গুমের পাঁচবছর পর জীবিত উদ্ধার মামলার ভিকটিম রিপন

আপডেট টাইম : ০৫:৪২:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২২

মেহেরপুর জেলার সদর থানাধীন গোভীপুর (দত্তপাড়া) সাকিনস্থ বাদী মোঃ মনিরুল ইসলাম এর পুত্র ভিকটিম মোঃ রকিবুজ্জামান রিপন (৩০) এর সাথে মামলার ১নং বিবাদী মোছাঃ শ্যামলী খাতুনের বিবাহ হয়। বিবাহের প্রায় ছয়মাস পর হতে ভিকটিম তার শশুর বাড়িতে ঘর জামাই হিসাবে বসবাস শুরু করে এবং তাদের সংসারে একটি পুত্র সন্তান জন্ম গ্রহন করে।

কিছুদিন পর রিপন এর সংসারে দাম্পত্য কলহ শুরু হলে বাদী তার ছেলে রিপনের কোন খোজ খবর না পাওয়ায় তার ছেলেকে হত্যা পূর্বক লাশ গুম করে ফেলার ধারনার বশবর্তী হয়ে রিপনের স্ত্রী, শশুর, শাশুড়ি এবং চাচা শশুরের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করেন। থানা পুলিশ দীর্ঘ দিন তদন্ত করে রিপনকে জীবিত অথবা মৃত কোন ভাবেই উদ্ধার করতে না পেরে বিজ্ঞ আদালতে চুড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করেন।

পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালত থানা পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহন না করে পুলিশ সুপার, পিবিআই, কুষ্টিয়াকে তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করে। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) প্রধান জনাব বনজ কুমার মজুমদার বিপিএম (বার), পিপিএম, অ্যাডিশনাল আইজিপি, বাংলাদেশ পুলিশ এর প্রত্যক্ষ তত্ত্ববধান ও দিক নির্দেশনায় পিবিআই, কুষ্টিয়া জেলার পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মোঃ মনিরুজ্জামানসহ একটি আভিযানিক দল গত ২০/০২/২০২২ খ্রিঃ
তারিখ বিকাল ১৭.৩৫ ঘটিকায় গাজীপুর জেলার শ্রীপুর থানাধীন রাজেন্দ্রপুর এলাকায় ডার্ড কম্পোজিট টেক্সটাইল লিমিটেড এর সামনে রাস্তার উপর থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভিকটিম রিপনকে উদ্ধার পূর্বক তার জবানবন্দী গ্রহণের জন্য বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করেন। পরবর্তী আইন গত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ভিকটিম রকিবুজ্জামান রিপন (৩০) ২০১৭ সালের জুলাই মাসের ০৮ তারিখে অভিমান করে পিতা-মাতা, ভাই -বোন, স্ত্রী, পুত্র আত্মীয়স্বজন ফেলে বাড়ী থেকে নিরুদ্দেশ হয়। ভিকটিম
মোঃ রকিবুজ্জামান রিপন, মোঃ শরিফুল ইসলাম (জন্ম তারিখ- ২৩/০৬/১৯৯৪ খ্রিঃ), পিং- শহিদুল ইসলাম, মাতা – বেদানা বেগম, সাং- গোভিপুর, থানা ও জেলা- মেহেরপুর পরিচয় ধারণ করে আত্মগোপনে ছিল।

তাকে উদ্ধারপূর্বক জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সে তার সঠিক নাম পরিচয় প্রকাশ করে। ভিকটিম রিপন কৌশলে মোঃ শরিফুল ইসলাম ছদ্ম নাম ধারন করে গত ১০/০৩/২০২০ খ্রিঃ তারিখ জনৈকা মোছাঃ শিমলা আক্তার (২০), পিং- মোঃ সিরাজুল ইসলাম, মাতা- মোছাঃ রোশনা বেগম (সাথী), সাং- মনমথ কুঠিপাড়া, থানা- সুন্দরগঞ্জ, জেলা- গাইবান্ধা এর সাথে জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী থানার পৌরসভা কাজী অফিসে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। তাদের ০৬ মাস বয়সের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।

এছাড়া উক্ত ভিকটিম মোঃ শরিফুল ইসলাম ছদ্ম নাম ব্যবহার করে টেকনিশিয়ান (ইলেকট্রিক্যাল) পদে ডার্ড কম্পোজিট টেক্সটাইল লিমিটেড এ চাকুরী করতো মর্মে জানা যায়।

দীর্ঘ পাঁচ বছর পর ভিকটিম রিপনকে জীবিত ও সূস্থ্য উদ্ধারের এই ঘটনায় তার ও আসামীদের পরিবারে স্বস্তির নিশ্বাস বইতে শুরু করেছে। আসামীরা মিথ্যা খুন মামলা ও লাশ গুমের মামলা থেকে হাফ ছেড়ে বেঁচেছে এবং বাদী তার কোলে পুত্রকে ফিরে পেয়ে খুশি হয়েছেন।