কুমিল্লার বাঙ্গরা বাজারে মাসুদ মিয়া (৪৫) হত্যাকাণ্ডের ১৬ ঘণ্টার মধ্যে রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অভিযুক্ত তার ভাগিনা শিপন মিয়াকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে কসবা থানার কুটি ভাঙ্গানগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মিডিয়া বিভাগের মুখপাত্র মো. লুৎফর রহমান।
পুলিশের ভাষ্য, এক নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে মামা-ভাগিনার মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জেরে মাসুদ মিয়াকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছেন শিপন।
কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান জানান, শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে বাঙ্গুরা বাজার থানার আকুবপুর ইউনিয়নের কোড়েরপাড় মধ্যপাড়া গ্রামের ইসরাইলের বাড়ির পূর্ব পাশের কাঁচা রাস্তায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মাসুদ মিয়া নিহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, এক নারীর সঙ্গে মাসুদ মিয়ার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরবর্তী সময়ে ওই নারীর সঙ্গে তার ভাগিনা শিপনের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। গত ২০ অক্টোবর ওই নারীকে সঙ্গে নিয়ে মাসুদ মিয়ার বোনের বাড়িতে গেলে শিপনের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়।
এ সময় শিপন তাকে হত্যার হুমকি দেন বলে পুলিশের তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার রাতে মাসুদ মিয়াকে ডেকে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন শিপন। আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অস্ত্র দেখিয়ে হুমকি দিয়ে পালিয়ে যান তিনি। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই মাসুদের মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর কুমিল্লার পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় বাঙ্গরা বাজার থানা-পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্ত শুরু করে। গোপন তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে শিপনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
ডেইলী নিউজ বাংলা ডেস্ক 





















