ঢাকা ০২:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
৬ ছেলের ঘরেও আশ্রয় হলো না ৮৫ বছর বয়সী জয়নব ভানুর রাজশাহীসহ উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে বড় প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহীতে ৩৮,৯৭০ আঁখ চাষীকে আর্থিক প্রনোদনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশকে শান্তির দেশে পরিণত করতে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনার আহ্বান শ্রমমন্ত্রীর সৌদিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার যুবক নজরুলের মৃ’ত্যু’দ’ণ্ড কার্যকর, বাড়িতে শোকের মাতম প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী আগমন উপলক্ষে ছাত্রদলের স্বাগত মিছিল সাংবাদিক জহিরুলের মামলা প্রত্যাহার ও আলিফ ফকির হত্যার বিচারের দাবিতে শ্রীপুরে মানববন্ধন মো: আব্দুল বাতেন বাচ্চু, সিলেটের সম্প্রীতির ঐতিহ্য ভবিষ্যতেও ধরে রাখতে হবে – সিসিক প্রশাসক প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী আগমন উপলক্ষে ছাত্রদলের স্বাগত মিছিল কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ‘বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট’ উদ্বোধন

নাইওরি আনতেগেলে বরের ‘গেটে সেলামি’ নিয়ে সংঘর্ষ, উভয় পক্ষের আহত ৪

মো.জাকির হোসেন হাওলাদার, দশমিনা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: দশমিনা উপজেলায় ফেরতি নাইওরি আনতে গেলে ‘গেটের সেলামি ’কে কেন্দ্র করে বর ও কনে পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫ঘটিকার সময় উপজেলার ৬ নম্বর বাঁশবাড়ী ইউনিয়নের ঢনঢনিয়া গ্রামের মল্লিক বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। রাকিব মল্লিক(বর) বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের ঢনঢনিয়া গ্রামের আফতার মল্লিকের ছেলে।মিম (কনে) একই ইউনিয়নের ঢনঢনিয়া গ্রামের সাগর মিয়ার মেয়ে।

আহতরা হলেন,বর রাকিব মল্লিকের ছোট ভাই রাসেল মল্লিক (২৫), মামা শফিক হাওলাদার (২৬), মামাতো ভাই শাকিল হোসেন (১৬) এবং কনের মামা জামাল হাওলাদার (৪০)।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, কয়েক মাস আগে উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের বাশঁবাড়িয়া গ্রামের সাগর মিয়ার মেয়ের সাথে একই ইউনিয়নের ঢনঢনিয়া গ্রামের আলতাফ মল্লিকের সাথে ইসলামিয়া সরা সিরিয়ত মোতাবেক বিবাহ হয়। গত বৃহস্পতিবার কনে পক্ষ বর পক্ষের বড়িতে কনেকে ফিরতি নাইওরি আনতে যায়। গ্রামের চিরাচরিত নিয়ম মোতাবেক কনে পক্ষের বাড়িরে প্রবেশের সময় গেটে বর পক্ষ থেকে গেটে দাড়ায়। কনে পক্ষ গেটেদিয়ে প্রবেশের সময় গেটের সম্মানিনিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।

পরে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এক পর্যায়ে নারী সদস্যের গায়ে লাঠি আঘাতকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এতে করে গেটের সামনে কয়েকজন আহত হন এবং ভাংচুর করে। আহতদের মধ্যে তিনজনকে দশমিনা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং একজনকে বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

কনের বাবা সাগর মিয়া জানান, পাঁচ মাস আগে পারিবারিকভাবে রাকিব ও আমার একমাত্র মেয়ে মিমের বিয়ে সম্পন্ন হয়। নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী বৃহস্পতিবার বিকেলে ফিরতি নাইওরি আনতে আমরা যাই। গেটের টাকা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়, যা পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়। তবে তারা দাবি করেন, কনেপক্ষ থেকে কাউকে মারধর করা হয়নি। অন্যদিকে, বরের বড় ভাই হারুনা রশিদ মল্লিক অভিযোগ করে বলেন, গেটের টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে কনে পক্ষের লোকজন আমাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়।

এতে বাড়ির আসবাবপত্র ভাঙচুর এবং অনুষ্ঠানের নগদ প্রায় দুই লাখ টাকা লুট করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে উভয় পক্ষই বিষয়টি পারিবারিকভাবে মীমাংসার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সময়ে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তারা।

দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাহাদাৎ মোঃ হাচনাইন পারভেজ জানান, এ বিষয় শুনে বৃহস্পতিবার রাতেই হাপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। যেহেতু এটা পারিবারি ভুলবোঝাবুঝি তারাই মিমাংসা করবে বলে উভয় পক্ষ জানান। আমি শুক্রবা তাদের খোঁজখবর নিয়েছি।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

৬ ছেলের ঘরেও আশ্রয় হলো না ৮৫ বছর বয়সী জয়নব ভানুর

নাইওরি আনতেগেলে বরের ‘গেটে সেলামি’ নিয়ে সংঘর্ষ, উভয় পক্ষের আহত ৪

আপডেট টাইম : ০৯:৫৮:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

মো.জাকির হোসেন হাওলাদার, দশমিনা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: দশমিনা উপজেলায় ফেরতি নাইওরি আনতে গেলে ‘গেটের সেলামি ’কে কেন্দ্র করে বর ও কনে পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫ঘটিকার সময় উপজেলার ৬ নম্বর বাঁশবাড়ী ইউনিয়নের ঢনঢনিয়া গ্রামের মল্লিক বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। রাকিব মল্লিক(বর) বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের ঢনঢনিয়া গ্রামের আফতার মল্লিকের ছেলে।মিম (কনে) একই ইউনিয়নের ঢনঢনিয়া গ্রামের সাগর মিয়ার মেয়ে।

আহতরা হলেন,বর রাকিব মল্লিকের ছোট ভাই রাসেল মল্লিক (২৫), মামা শফিক হাওলাদার (২৬), মামাতো ভাই শাকিল হোসেন (১৬) এবং কনের মামা জামাল হাওলাদার (৪০)।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, কয়েক মাস আগে উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের বাশঁবাড়িয়া গ্রামের সাগর মিয়ার মেয়ের সাথে একই ইউনিয়নের ঢনঢনিয়া গ্রামের আলতাফ মল্লিকের সাথে ইসলামিয়া সরা সিরিয়ত মোতাবেক বিবাহ হয়। গত বৃহস্পতিবার কনে পক্ষ বর পক্ষের বড়িতে কনেকে ফিরতি নাইওরি আনতে যায়। গ্রামের চিরাচরিত নিয়ম মোতাবেক কনে পক্ষের বাড়িরে প্রবেশের সময় গেটে বর পক্ষ থেকে গেটে দাড়ায়। কনে পক্ষ গেটেদিয়ে প্রবেশের সময় গেটের সম্মানিনিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।

পরে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এক পর্যায়ে নারী সদস্যের গায়ে লাঠি আঘাতকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এতে করে গেটের সামনে কয়েকজন আহত হন এবং ভাংচুর করে। আহতদের মধ্যে তিনজনকে দশমিনা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং একজনকে বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

কনের বাবা সাগর মিয়া জানান, পাঁচ মাস আগে পারিবারিকভাবে রাকিব ও আমার একমাত্র মেয়ে মিমের বিয়ে সম্পন্ন হয়। নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী বৃহস্পতিবার বিকেলে ফিরতি নাইওরি আনতে আমরা যাই। গেটের টাকা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়, যা পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়। তবে তারা দাবি করেন, কনেপক্ষ থেকে কাউকে মারধর করা হয়নি। অন্যদিকে, বরের বড় ভাই হারুনা রশিদ মল্লিক অভিযোগ করে বলেন, গেটের টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে কনে পক্ষের লোকজন আমাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়।

এতে বাড়ির আসবাবপত্র ভাঙচুর এবং অনুষ্ঠানের নগদ প্রায় দুই লাখ টাকা লুট করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে উভয় পক্ষই বিষয়টি পারিবারিকভাবে মীমাংসার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সময়ে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তারা।

দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাহাদাৎ মোঃ হাচনাইন পারভেজ জানান, এ বিষয় শুনে বৃহস্পতিবার রাতেই হাপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। যেহেতু এটা পারিবারি ভুলবোঝাবুঝি তারাই মিমাংসা করবে বলে উভয় পক্ষ জানান। আমি শুক্রবা তাদের খোঁজখবর নিয়েছি।