ঢাকা ১০:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
নওগাঁ সীমান্তে নারী পুরুষ শিশুসহ ১৭জনকে পুশইনের চেষ্টা কঠোর অবস্থানে বিজিবি তানোরে বিদ্যুৎস্পস্ট হয়ে ৯ প্রাণের মৃত্যু,দায় নিবে কে ভেড়ামারা হাসপাতালে সিভিল সার্জনের আকস্মিক পরিদর্শন, বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট নিয়ে ক্ষোভ তানোরে গ্রাম আদালত বিষয়ক র‍্যালি, ভিডিও চিত্র প্রদর্শন ও  সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন নওগাঁ ডিসি এসপি সেজে প্রতারণার অভিযোগে এক প্রতারক গ্রেফতার  ভোক্তা অধিকারের অভিযান দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা নওগাঁয় ভরা মৌসুমে নষ্ট হয় ৩০০ কোটি টাকার আম,চাষিদের শিল্পায়নের দাবি  তানোরে যুবককে হাতুড়িপেটা করে নালায় নিক্ষেপ অবৈধভাবে মাটি কাটায় ৪ জন আটক ও ২টি ট্র‍াক্টর জব্দ-২ তানোরে ভুল চিকিৎসায় গরুর মৃত্যু দায় নিবে কে

শুরু হলো বাঙালি জাতির শোকের মাস

নিউজ বাংলা ডেস্কঃ শোকাবহ আগস্টের প্রথম দিন আজ সোমবার (১ আগস্ট)। ১৯৭৫ সালের এ মাসেই বাঙালি জাতি হারিয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।

পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট যেন মানব সভ্যতার ইতিহাসে ঘৃণ্য ও নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডের কালিমালিপ্ত বেদনাবিধুর শোকের দিন। সে কালরাতে ঘাতকরা শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি, তাদের হাতে একে একে প্রাণ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, জ্যেষ্ঠ পুত্র মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন শেখ কামাল, দ্বিতীয় পুত্র মুক্তিযোদ্ধা লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল, কনিষ্ঠ পুত্র শিশু শেখ রাসেল, সদ্য বিবাহিত পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, বঙ্গবন্ধুর একমাত্র ভাই শেখ আবু নাসের, ভাগ্নে শেখ ফজলুল হক মণি ও তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী বেগম আরজু মণি, ভগ্নিপতি আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, তাঁর ছোট মেয়ে বেবী সেরনিয়াবাত, কনিষ্ঠ পুত্র আরিফ সেরনিয়াবাত, দৌহিত্র সুকান্ত আব্দুল্লাহ বাবু, ভাইয়ের ছেলে শহীদ সেরনিয়াবাত, আব্দুল নঈম খান রিন্টু, বঙ্গবন্ধুর প্রধান নিরাপত্তা অফিসার কর্নেল জামিল উদ্দিন আহমেদ ও কর্তব্যরত অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী।

সেনাবাহিনীর কিছুসংখ্যক বিপথগামী সদস্য সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর গোটা দেশেই নেমে আসে তীব্র শোকের ছায়া। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও এই শোক ছড়িয়ে পড়ে।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর পশ্চিম জার্মানির নেতা নোবেল জয়ী উইলি ব্রানডিট বলেন, ‘মুজিবকে হত্যার পর বাঙালিদের আর বিশ্বাস করা যায় না। যে বাঙালি শেখ মুজিবকে হত্যা করতে পারে তারা যেকোনো জঘন্য কাজ করতে পারে।’

বিশিষ্ট সাহিত্যিক নীরদ শ্রী চৌধুরী বাঙালিদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, ‘বাঙালি জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা শেখ মুজিবকে হত্যার মধ্য দিয়ে বিশ্বের মানুষের কাছে নিজেদের আত্মঘাতী চরিত্রই তুলে ধরেছে।’

টাইমস অব লন্ডনের ১৯৭৫ সালের ১৬ আগস্টের সংখ্যায় বলা হয় ‘সবকিছু সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধুকে সবসময় স্মরণ করা হবে। কারণ তাঁকে ছাড়া বাংলাদেশের বাস্তব কোনো অস্তিত্ব নেই।’

একইদিন লন্ডন থেকে প্রকাশিত ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় বলা হয়, ‘বাংলাদেশের লাখ লাখ মানুষ শেখ মুজিবের জঘন্য হত্যাকাণ্ডকে অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বিবেচনা করবে।’

শুধু তাই নয় ২০০৪ সালের এ মাসেই তথা ২১ আগস্ট গ্রেনেড ছুড়ে হত্যার অপচেষ্টা হয়েছিল বঙ্গবন্ধু কন্যা, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। ভাগ্যক্রমে সেদিন তিনি বেঁচে গেলেও এই ঘটনায় সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের সহধর্মিণী, আওয়ামী লীগের তৎকালীন মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত এবং ৫ শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হন।

শোকাবহ আগস্ট মাসের তাৎপর্য বিশ্লেষণ করতে গিয়ে এটা বলা যায় যে, ‘বাঙালির মহান নেতা বঙ্গবন্ধু চিরঞ্জীবী, তার চেতনা অবিনশ্বর। বাঙালি জাতির অস্থিমজ্জায় মিশে আছেন তিনি। মুজিবাদর্শে শাণিত বাংলার আকাশ-বাতাস জল-সমতল। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের কাছে শেখ মুজিবুর রহমানের অবিনাশী চেতনা ও আদর্শ চির প্রবহমান থাকবে। জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ এগিয়ে যাবে।’

আগস্ট মাস এলেই বাঙালি তাই কাঁদে। পিতা হারানোর বেদনা বুকে নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মাসব্যাপী কর্মসূচি পালন করে। শোকাবহ আগস্টে সমগ্র জাতির সঙ্গে একাত্ম হয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী, ভ্রাতৃপ্রতিম ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক- রাজনৈতিক সংগঠনসমূহ যথাযোগ্য মর্যাদা, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও ভাব গম্ভীর আর বেদনাবিধুর পরিবেশে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয় শোক দিবস পালন করবে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

নওগাঁ সীমান্তে নারী পুরুষ শিশুসহ ১৭জনকে পুশইনের চেষ্টা কঠোর অবস্থানে বিজিবি

শুরু হলো বাঙালি জাতির শোকের মাস

আপডেট টাইম : ০৪:২২:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ অগাস্ট ২০২২

নিউজ বাংলা ডেস্কঃ শোকাবহ আগস্টের প্রথম দিন আজ সোমবার (১ আগস্ট)। ১৯৭৫ সালের এ মাসেই বাঙালি জাতি হারিয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।

পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট যেন মানব সভ্যতার ইতিহাসে ঘৃণ্য ও নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডের কালিমালিপ্ত বেদনাবিধুর শোকের দিন। সে কালরাতে ঘাতকরা শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি, তাদের হাতে একে একে প্রাণ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, জ্যেষ্ঠ পুত্র মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন শেখ কামাল, দ্বিতীয় পুত্র মুক্তিযোদ্ধা লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল, কনিষ্ঠ পুত্র শিশু শেখ রাসেল, সদ্য বিবাহিত পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, বঙ্গবন্ধুর একমাত্র ভাই শেখ আবু নাসের, ভাগ্নে শেখ ফজলুল হক মণি ও তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী বেগম আরজু মণি, ভগ্নিপতি আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, তাঁর ছোট মেয়ে বেবী সেরনিয়াবাত, কনিষ্ঠ পুত্র আরিফ সেরনিয়াবাত, দৌহিত্র সুকান্ত আব্দুল্লাহ বাবু, ভাইয়ের ছেলে শহীদ সেরনিয়াবাত, আব্দুল নঈম খান রিন্টু, বঙ্গবন্ধুর প্রধান নিরাপত্তা অফিসার কর্নেল জামিল উদ্দিন আহমেদ ও কর্তব্যরত অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী।

সেনাবাহিনীর কিছুসংখ্যক বিপথগামী সদস্য সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর গোটা দেশেই নেমে আসে তীব্র শোকের ছায়া। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও এই শোক ছড়িয়ে পড়ে।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর পশ্চিম জার্মানির নেতা নোবেল জয়ী উইলি ব্রানডিট বলেন, ‘মুজিবকে হত্যার পর বাঙালিদের আর বিশ্বাস করা যায় না। যে বাঙালি শেখ মুজিবকে হত্যা করতে পারে তারা যেকোনো জঘন্য কাজ করতে পারে।’

বিশিষ্ট সাহিত্যিক নীরদ শ্রী চৌধুরী বাঙালিদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, ‘বাঙালি জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা শেখ মুজিবকে হত্যার মধ্য দিয়ে বিশ্বের মানুষের কাছে নিজেদের আত্মঘাতী চরিত্রই তুলে ধরেছে।’

টাইমস অব লন্ডনের ১৯৭৫ সালের ১৬ আগস্টের সংখ্যায় বলা হয় ‘সবকিছু সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধুকে সবসময় স্মরণ করা হবে। কারণ তাঁকে ছাড়া বাংলাদেশের বাস্তব কোনো অস্তিত্ব নেই।’

একইদিন লন্ডন থেকে প্রকাশিত ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় বলা হয়, ‘বাংলাদেশের লাখ লাখ মানুষ শেখ মুজিবের জঘন্য হত্যাকাণ্ডকে অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বিবেচনা করবে।’

শুধু তাই নয় ২০০৪ সালের এ মাসেই তথা ২১ আগস্ট গ্রেনেড ছুড়ে হত্যার অপচেষ্টা হয়েছিল বঙ্গবন্ধু কন্যা, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। ভাগ্যক্রমে সেদিন তিনি বেঁচে গেলেও এই ঘটনায় সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের সহধর্মিণী, আওয়ামী লীগের তৎকালীন মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত এবং ৫ শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হন।

শোকাবহ আগস্ট মাসের তাৎপর্য বিশ্লেষণ করতে গিয়ে এটা বলা যায় যে, ‘বাঙালির মহান নেতা বঙ্গবন্ধু চিরঞ্জীবী, তার চেতনা অবিনশ্বর। বাঙালি জাতির অস্থিমজ্জায় মিশে আছেন তিনি। মুজিবাদর্শে শাণিত বাংলার আকাশ-বাতাস জল-সমতল। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের কাছে শেখ মুজিবুর রহমানের অবিনাশী চেতনা ও আদর্শ চির প্রবহমান থাকবে। জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ এগিয়ে যাবে।’

আগস্ট মাস এলেই বাঙালি তাই কাঁদে। পিতা হারানোর বেদনা বুকে নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মাসব্যাপী কর্মসূচি পালন করে। শোকাবহ আগস্টে সমগ্র জাতির সঙ্গে একাত্ম হয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী, ভ্রাতৃপ্রতিম ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক- রাজনৈতিক সংগঠনসমূহ যথাযোগ্য মর্যাদা, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও ভাব গম্ভীর আর বেদনাবিধুর পরিবেশে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয় শোক দিবস পালন করবে।