ডেইলি নিউজ বাংলা ডেস্ক: সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে আবাসিক মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের যৌন নিপীড়নের অভিযোগ সামনে আসায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও প্রাতিষ্ঠানিক তদারকি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি কোনো একটি নির্দিষ্ট পেশা বা গোষ্ঠীর সমস্যা নয়, বরং আবাসিক প্রতিষ্ঠানের কাঠামোগত দুর্বলতার সমস্যা। যেখানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে ক্ষমতার বড় ব্যবধান থাকে, আবাসিকভাবে শিশুরা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকে এবং স্বাধীন মনিটরিং ব্যবস্থা দুর্বল থাকে, সেখানেই এ ধরনের ঘটনার ঝুঁকি বেশি থাকে।
কেন অভিযোগ বাড়ছে?
১. *সচেতনতা ও রিপোর্টিং বৃদ্ধি:* আগে সামাজিক লজ্জা বা ভয়ে অনেক পরিবার অভিযোগ করত না। এখন ৯৯৯, গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সচেতনতা বাড়ায় অভিযোগ করার সাহস বেড়েছে।
২. *মিডিয়ার মনোযোগ:* ধর্মীয় শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ স্বাভাবিকভাবেই বেশি আলোচিত হয়, ফলে সংখ্যাটা বেশি মনে হয়। বাংলাদেশ পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তদের বড় অংশই ভুক্তভোগীর পরিচিত, প্রতিবেশী বা আত্মীয়।
৩. *তদারকির ঘাটতি:* দেশের অনেক ছোট কওমি মাদ্রাসা ও হেফজখানায় এখনো সিসিটিভি, অভিযোগ বাক্স বা কার্যকর পরিচালনা পর্ষদ নেই।
*সমাধানে কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?*
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের একজন অধ্যাপক বলেন, “দোষারোপের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রতিটি আবাসিক প্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক সিসিটিভি, শিশুদের জন্য আলাদা কাউন্সেলর, এবং অভিভাবকদের নিয়মিত যাতায়াত নিশ্চিত করতে হবে।”
অন্যদিকে, কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, “আমরা ইতিমধ্যেই সকল মাদ্রাসায় শিশু সুরক্ষা নীতিমালা প্রণয়ন এবং শিক্ষক নিয়োগে পুলিশ ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নিয়েছি। বিচ্ছিন্ন ঘটনার জন্য পুরো আলেম সমাজকে দায়ী করা ঠিক নয়।”
সচেতন মহলের মতে, মিথ্যা মামলা দিয়েও যেন কাউকে হয়রানি করা না হয় এবং প্রকৃত ঘটনাও যেন ধামাচাপা না পড়ে, সেজন্য দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার – দুটোই জরুরি।
ডেইলী নিউজ বাংলা ডেস্ক 
























