ঢাকা ০২:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
দৌলতপুরে জমি নিয়ে বিরোধে বড় ভাইয়ের হাসুয়ার কোপে ছোট ভাই নিহত নাগরপুর শহীদ ক্যাডেট স্কুলে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি-২০২৬ পালিত ভেড়ামারায়  ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার কুষ্টিয়ায় নৌকা ভ্রমণে গিয়ে নিখোঁজ ছাত্রদল নেতা ভেড়ামারায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের শুভ উদ্বোধন ডেঙ্গু ঠেকাতে কুষ্টিয়ায় স্কাউটসের পরিচ্ছন্নতা অভিযান গাজীপুরে হেযবুত তওহীদের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত: জাতীয় ঐক্যের আহ্বান। দৌলতপুরে বাস-আলগামন সংঘর্ষে চালক নিহত,আহত একাধিক ভেড়ামারায় ডাঃ শামসুদ্দিন আহমেদের ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ফ্রি হেলথ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে রেজা আহমেদ বাচ্চু

খোলা আকাশের নিচে তিন ধরে বসবাস এক সংখ্যালঘু পরিবারের

রেজা মাহমুদ, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি: আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকা সত্তে¡ও সহকারি কমিশনারের (ভ‚মি) কর্তৃক বাড়িতে তালা দেয়ায় নীলফামারীর সৈয়দপুরে গত তিন দিন ধরে খোলা আকাশের নিচে বাস করছেন দরিদ্র এক সংখ্যালঘু পরিবার। পৌর ভ‚মি অফিসের উপ-সহকারী ভ‚মি কর্মকর্তা (তহশীলদার) আজিজুল ইসলামের যোগসাজসে ওই পরিবারকে ভিটে ছাড়ার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ অভিযোগ করেন শহরের নতুন বাবুপাড়ার বাসিন্দা শ্রী জহরলাল শীল। সংবাদ সম্মেলনে জহরলাল শীল বলেন, গত ১ নভেম্বর সহকারি কমিশনার (ভ‚মি) রমিজ আলম খাস জমির অবৈধ দখলদার উল্লেখ করে আমার পরিবারকে ভিটেছাড়া করতে ঘরে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এর আগে বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয় বিদ্যুৎ সংযোগও। এ অবস্থায় আমরা দিকহারা হয়ে পড়েছি। তিন পুরুষ ধরে নিঃস্কর প্রজা হিসাবে বংশ পরম্পরায় এ বাড়িতে বসবাস করে আসছি।

ওই জমির মালিক ছিলেন জমিদার পুরণচাদ নওহাটা ও জ্ঞানচাঁদ নওহাটা। খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে ওই খতিয়ান ও দাগভুক্ত অবশিষ্ট ৪০ শতক জমিতে জমিদার কাচারি ঘর এবং কর্মচারিদের কাজের ফাঁকে বিশ্রাম নেয়ার ঘর নির্মাণ করেছিল। আমার দাদা নারায়ণ চন্দ্র শীল ক্ষৌরকার্য করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। সেই সুবাদে জমিদার ও তাদের কর্মচারীরা যখন খাজনা আদায়ের জন্য কাচারীতে আসতো, তখন তাদেরও ক্ষৌরকার্য সম্পাদন করতেন নারায়ণ চন্দ্র শীল।

কাজের বিনিময় স্বরুপ ওই জমিতে নারায়ণ চন্দ্রশীলকে বাড়ি তৈরী করে বসবাস করতে মৌখিকভাবে অনুমতি দেন জমিদার। কিন্তু খাস জমির কথা বলে সেখানে ভুমি অফিস নির্মান করা হবে বলে সেখান থেকে অন্যত্র চলে যেতে বলেন ওই তহশিলদার। এ ব্যাপারে আমি আদালতে একটি মামলা দায়ের করি যা বিচারাধীন। আদালতে যে রায় দেয়া হবে তা মাথা পেতে নেব। কিন্তু হঠাৎ করে ওই দিন কোন রকম আগাম নোটিশ ছাড়াই আমাদের বাড়ীতে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। তাই পরিবারের ৮ জন সদস্য নিয়ে খোলা আকাশের নিচে তিন ধরে বসবাস করে আসছি। এ ঘটনার সৃষ্ঠ বিচার ও বসতবাড়িতে বেঁচে থাকার অধিকার চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর সদয় দৃষ্টি কামনা করা হয় ওই সংবাদ সম্মেলন থেকে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

দৌলতপুরে জমি নিয়ে বিরোধে বড় ভাইয়ের হাসুয়ার কোপে ছোট ভাই নিহত

খোলা আকাশের নিচে তিন ধরে বসবাস এক সংখ্যালঘু পরিবারের

আপডেট টাইম : ০৫:৩১:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২০

রেজা মাহমুদ, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি: আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকা সত্তে¡ও সহকারি কমিশনারের (ভ‚মি) কর্তৃক বাড়িতে তালা দেয়ায় নীলফামারীর সৈয়দপুরে গত তিন দিন ধরে খোলা আকাশের নিচে বাস করছেন দরিদ্র এক সংখ্যালঘু পরিবার। পৌর ভ‚মি অফিসের উপ-সহকারী ভ‚মি কর্মকর্তা (তহশীলদার) আজিজুল ইসলামের যোগসাজসে ওই পরিবারকে ভিটে ছাড়ার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ অভিযোগ করেন শহরের নতুন বাবুপাড়ার বাসিন্দা শ্রী জহরলাল শীল। সংবাদ সম্মেলনে জহরলাল শীল বলেন, গত ১ নভেম্বর সহকারি কমিশনার (ভ‚মি) রমিজ আলম খাস জমির অবৈধ দখলদার উল্লেখ করে আমার পরিবারকে ভিটেছাড়া করতে ঘরে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এর আগে বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয় বিদ্যুৎ সংযোগও। এ অবস্থায় আমরা দিকহারা হয়ে পড়েছি। তিন পুরুষ ধরে নিঃস্কর প্রজা হিসাবে বংশ পরম্পরায় এ বাড়িতে বসবাস করে আসছি।

ওই জমির মালিক ছিলেন জমিদার পুরণচাদ নওহাটা ও জ্ঞানচাঁদ নওহাটা। খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে ওই খতিয়ান ও দাগভুক্ত অবশিষ্ট ৪০ শতক জমিতে জমিদার কাচারি ঘর এবং কর্মচারিদের কাজের ফাঁকে বিশ্রাম নেয়ার ঘর নির্মাণ করেছিল। আমার দাদা নারায়ণ চন্দ্র শীল ক্ষৌরকার্য করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। সেই সুবাদে জমিদার ও তাদের কর্মচারীরা যখন খাজনা আদায়ের জন্য কাচারীতে আসতো, তখন তাদেরও ক্ষৌরকার্য সম্পাদন করতেন নারায়ণ চন্দ্র শীল।

কাজের বিনিময় স্বরুপ ওই জমিতে নারায়ণ চন্দ্রশীলকে বাড়ি তৈরী করে বসবাস করতে মৌখিকভাবে অনুমতি দেন জমিদার। কিন্তু খাস জমির কথা বলে সেখানে ভুমি অফিস নির্মান করা হবে বলে সেখান থেকে অন্যত্র চলে যেতে বলেন ওই তহশিলদার। এ ব্যাপারে আমি আদালতে একটি মামলা দায়ের করি যা বিচারাধীন। আদালতে যে রায় দেয়া হবে তা মাথা পেতে নেব। কিন্তু হঠাৎ করে ওই দিন কোন রকম আগাম নোটিশ ছাড়াই আমাদের বাড়ীতে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। তাই পরিবারের ৮ জন সদস্য নিয়ে খোলা আকাশের নিচে তিন ধরে বসবাস করে আসছি। এ ঘটনার সৃষ্ঠ বিচার ও বসতবাড়িতে বেঁচে থাকার অধিকার চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর সদয় দৃষ্টি কামনা করা হয় ওই সংবাদ সম্মেলন থেকে।