ঢাকা ১১:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
দৌলতপুরে জমি নিয়ে বিরোধে বড় ভাইয়ের হাসুয়ার কোপে ছোট ভাই নিহত নাগরপুর শহীদ ক্যাডেট স্কুলে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি-২০২৬ পালিত ভেড়ামারায়  ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার কুষ্টিয়ায় নৌকা ভ্রমণে গিয়ে নিখোঁজ ছাত্রদল নেতা ভেড়ামারায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের শুভ উদ্বোধন ডেঙ্গু ঠেকাতে কুষ্টিয়ায় স্কাউটসের পরিচ্ছন্নতা অভিযান গাজীপুরে হেযবুত তওহীদের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত: জাতীয় ঐক্যের আহ্বান। দৌলতপুরে বাস-আলগামন সংঘর্ষে চালক নিহত,আহত একাধিক ভেড়ামারায় ডাঃ শামসুদ্দিন আহমেদের ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ফ্রি হেলথ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে রেজা আহমেদ বাচ্চু

দৌলতপুরে গণহত্যার স্বীকার শহীদরা ৫০বছরেও স্বীকৃতি পাননি

দৌলতপুর(কুষ্টিয়া)প্রতিনিধিঃ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের গোয়ালগ্রাম গণহত্যা দিবসের ৫০ বছর আজ। ১৯৭১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজাকারদের সহযোগিতায় পাকহানাদার বাহিনী অতর্কিত হামলা চালিয়ে মুক্তিযোদ্ধাসহ ১৭ জন নিরীহ গ্রামবাসীকে গুলি করে হত্যা করে। আহত হন দুই মুক্তিযোদ্ধাসহ অসংখ্য নারী-পুরুষ।

জ্বালিয়ে দেয়া হয় গ্রামের অসংখ্য ঘর-বাড়ি। তবে দু:খের বিষয় স্বাধীনতার দীর্ঘ ৫০ বছরেও এ গণহত্যার শিকার হওয়া শহীদরা পাননি কোনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। ১৯৭১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাতে একদল মুক্তিযোদ্ধা দৌলতপুর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের গোয়ালগ্রাম ফরাজী বাড়িতে অবস্থান নেয়।

মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থানের খবর পেয়ে রাত ২টার দিকে স্থানীয় রাজাকারদের সহযোগিতায় পাকহানাদার বাহিনী ওই বাড়ি ঘিরে ফেলে অতর্কিত গুলি চালায়। মুক্তিযোদ্ধাদের কেউ কেউ তখন পালিয়ে আত্মরক্ষা করেন। আবার কেউ পাল্টা গুলি করে। তবে পাকহানাদার বাহিনীর পরিকল্পিত গুলি বর্ষণে ফরাজী বাড়িতে অবস্থান নেয়া মুক্তিযোদ্ধাসহ ওই পরিবারে ১৭ জন শহীদ হয়।

নিহতদের গণকরব দেয়া হয় ওই বাড়ির পিছনের বাগানে। পাকবাহিনীর দেয়া আগুনে পুড়ে যায় ওই গ্রামের অনেক বাড়ি।সেদিনের স্মৃতি বর্নণা করতে দিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন যুদ্ধে অংশ নেয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু আফফান।

পাকহানাদার বাহিনীর নির্মম হত্যাযজ্ঞ ও দুঃসহ স্মৃতি আজও ভুলতে পারেননি ওই সময়ের ৮ বছর বয়সী গুলিবিদ্ধ জয়তুন নেছা। বাম বাহুতে গুলি লাগা সেদিনের শিশু জয়তুন নেছা প্রানে বাঁচলেও পরিবারের সবাইকে হারিয়ে আজও তিনি বয়ে বেড়াচ্ছেন দুঃসহ যন্ত্রনা। পরিবারের সকল শহীদদের স্বীকৃতি দেয়া হোক এমনটাই দাবি তার।

কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গণকবরস্থলের শহীদদের স্মরণে স্মৃতিফলক নির্মান করা হয়েছে। এই দিনটি উপলক্ষে সেখানে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান শহীদ পরিবরের সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

দৌলতপুরে জমি নিয়ে বিরোধে বড় ভাইয়ের হাসুয়ার কোপে ছোট ভাই নিহত

দৌলতপুরে গণহত্যার স্বীকার শহীদরা ৫০বছরেও স্বীকৃতি পাননি

আপডেট টাইম : ০৭:০৮:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২১

দৌলতপুর(কুষ্টিয়া)প্রতিনিধিঃ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের গোয়ালগ্রাম গণহত্যা দিবসের ৫০ বছর আজ। ১৯৭১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজাকারদের সহযোগিতায় পাকহানাদার বাহিনী অতর্কিত হামলা চালিয়ে মুক্তিযোদ্ধাসহ ১৭ জন নিরীহ গ্রামবাসীকে গুলি করে হত্যা করে। আহত হন দুই মুক্তিযোদ্ধাসহ অসংখ্য নারী-পুরুষ।

জ্বালিয়ে দেয়া হয় গ্রামের অসংখ্য ঘর-বাড়ি। তবে দু:খের বিষয় স্বাধীনতার দীর্ঘ ৫০ বছরেও এ গণহত্যার শিকার হওয়া শহীদরা পাননি কোনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। ১৯৭১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাতে একদল মুক্তিযোদ্ধা দৌলতপুর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের গোয়ালগ্রাম ফরাজী বাড়িতে অবস্থান নেয়।

মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থানের খবর পেয়ে রাত ২টার দিকে স্থানীয় রাজাকারদের সহযোগিতায় পাকহানাদার বাহিনী ওই বাড়ি ঘিরে ফেলে অতর্কিত গুলি চালায়। মুক্তিযোদ্ধাদের কেউ কেউ তখন পালিয়ে আত্মরক্ষা করেন। আবার কেউ পাল্টা গুলি করে। তবে পাকহানাদার বাহিনীর পরিকল্পিত গুলি বর্ষণে ফরাজী বাড়িতে অবস্থান নেয়া মুক্তিযোদ্ধাসহ ওই পরিবারে ১৭ জন শহীদ হয়।

নিহতদের গণকরব দেয়া হয় ওই বাড়ির পিছনের বাগানে। পাকবাহিনীর দেয়া আগুনে পুড়ে যায় ওই গ্রামের অনেক বাড়ি।সেদিনের স্মৃতি বর্নণা করতে দিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন যুদ্ধে অংশ নেয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু আফফান।

পাকহানাদার বাহিনীর নির্মম হত্যাযজ্ঞ ও দুঃসহ স্মৃতি আজও ভুলতে পারেননি ওই সময়ের ৮ বছর বয়সী গুলিবিদ্ধ জয়তুন নেছা। বাম বাহুতে গুলি লাগা সেদিনের শিশু জয়তুন নেছা প্রানে বাঁচলেও পরিবারের সবাইকে হারিয়ে আজও তিনি বয়ে বেড়াচ্ছেন দুঃসহ যন্ত্রনা। পরিবারের সকল শহীদদের স্বীকৃতি দেয়া হোক এমনটাই দাবি তার।

কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গণকবরস্থলের শহীদদের স্মরণে স্মৃতিফলক নির্মান করা হয়েছে। এই দিনটি উপলক্ষে সেখানে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান শহীদ পরিবরের সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ।