ঢাকা ০৫:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
মাগুরায় সারের মূল্যবৃদ্ধির দায়ে ডিলারের লাখ টাকা জরিমানা গাজীপুরে ট্রাকের চাপায় অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত আহত তিন পবা থানায় মামলার পরিবর্তে অভিযোগের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগী আসামিকে চেনেন না অথচ সাংবাদিক রাসেল খুনের মামলার আসামি সিলেটে টানা ২ দিন ধরে প্রচন্ড গরম, তাপমাত্রা ৩৭.৭ ডিগ্রি কমলগঞ্জে ক্লাসে শিক্ষিকার ঘুম, শিক্ষক উপস্থিতি নিয়েও অভিযোগ নাগরপুরে যুবদলের সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত  ভেড়ামারায় খাল থেকে অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধার দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. শরীফ উদ্দিন রিমনকে আটক করেছে পুলিশ রাজশাহী প্রেসক্লাবের সভাপতি প্রবীণ সাংবাদিক সাইদুর রহমান আর নেই

মেডিকেলে চান্স পেয়েও ভর্তি অনিশ্চিত তিন শিক্ষার্থীর

অর্থাভাবে ভর্তি হতে পারছে না অদম্য মেধাবী রাব্বী হোসেন, অতুল চন্দ্র বর্ম্মন ও রিফাত আহমেদ।

রেজা মাহমুদ, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি: মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় স্থান হলেও অর্থাভাবে ভর্তি হতে পারছে না অদম্য মেধাবী রাব্বী হোসেন, অতুল চন্দ্র বর্ম্মন ও রিফাত আহমেদ। এ তিনজন শিক্ষার্থীই নীলফামারীর সৈয়দপুর বিজ্ঞান কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে।

ভর্তির অর্থ যোগাতে এখনও তারা ঘুরছে অন্যের দ্বারে দ্বারে। রাব্বী হোসেন শহরের নতুন বাবুপাড়ার আব্দুর রশিদ ও ফাহমিনা আক্তার লাইলী তৃতীয় সন্তান। বাবা একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী। মা গৃহিনী। পেনসনের টাকায় জোড়াতালি দিয়ে চলে সংসার। এসএসসি ও এইচএসসি তে গোল্ডেন এ প্লাস পাওয়া শিক্ষার্থী ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস’এ ভর্তি পরীক্ষায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।

কিন্তু অর্থাভাবে এখনো ভর্তি হওয়া হয়নি তার। অতুল চন্দ্র বর্মন পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার সাকোঁয়া ইউপির ছত্র শিকারপুর গ্রামের নব কুমার বর্মন ও বাতাসি রানীর দ্বিতীয় সন্তান। বাবা কাঠ মিস্ত্রির কাজ করে যে অর্থ উপার্জন তা দিয়ে কোন রকমে চলে সংসার। বাবা-মা দু’জনই নিরক্ষর হলেও একমাত্র ছেলে অতুল মেধায় পরিপূর্ণ।

এসএসসি ও এইচএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে পাস করে ব্যাপক সাড়া ফেলে দেন এলাকায়। বগুড়া শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পাওয়ায় তার লালিত স্বপ্ন পূরন হয়েছে। কিন্তু ভর্তির টাকা যোগান দিতে না পারায় হয়ে গেছে স্লান সে স্বপ্ন। দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার আদর্শপাড়া গ্রামের আলতাফ হোসেন ও রুবিনা বেগমের ছোট সন্তান রিফাত আহম্মেদ।

বাবা দিনমজুর। কোনো মতে সংসার চলে। দুই ছেলের মধ্যে ছোট এ ছেলে এসএসসি ও এইচএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে পাস করে। এবারে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় রংপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পাওয়ায় খুব খুশি। তবে স্বল্প আয়ের দরিদ্র এই শ্রমিক ভর্তির টাকা যোগান দিতে আজ দিশেহারা। ভর্তি হওয়ার টাকা জোগাড় করতে না পারলে রিফাতের স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে।

সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম আহম্মেদ ফারুক জানান, এবার এ কলেজ থেকে শতভাগ পাসসহ ৪০ জন দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। এদের মধ্যে কয়েকজন হতদরিদ্র পরিবারের সন্তানও রয়েছে যারা অত্যন্ত মেধাবী এবং অসম্ভব পরিশ্রমী।

কলেজে পড়ার সময় আমরা তাদের বিভিন্নভাবে সাহায্য করেছি। এসব প্রতিভাকে বিকশিত করতে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

মাগুরায় সারের মূল্যবৃদ্ধির দায়ে ডিলারের লাখ টাকা জরিমানা

মেডিকেলে চান্স পেয়েও ভর্তি অনিশ্চিত তিন শিক্ষার্থীর

আপডেট টাইম : ০৬:১১:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১

রেজা মাহমুদ, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি: মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় স্থান হলেও অর্থাভাবে ভর্তি হতে পারছে না অদম্য মেধাবী রাব্বী হোসেন, অতুল চন্দ্র বর্ম্মন ও রিফাত আহমেদ। এ তিনজন শিক্ষার্থীই নীলফামারীর সৈয়দপুর বিজ্ঞান কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে।

ভর্তির অর্থ যোগাতে এখনও তারা ঘুরছে অন্যের দ্বারে দ্বারে। রাব্বী হোসেন শহরের নতুন বাবুপাড়ার আব্দুর রশিদ ও ফাহমিনা আক্তার লাইলী তৃতীয় সন্তান। বাবা একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী। মা গৃহিনী। পেনসনের টাকায় জোড়াতালি দিয়ে চলে সংসার। এসএসসি ও এইচএসসি তে গোল্ডেন এ প্লাস পাওয়া শিক্ষার্থী ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস’এ ভর্তি পরীক্ষায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।

কিন্তু অর্থাভাবে এখনো ভর্তি হওয়া হয়নি তার। অতুল চন্দ্র বর্মন পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার সাকোঁয়া ইউপির ছত্র শিকারপুর গ্রামের নব কুমার বর্মন ও বাতাসি রানীর দ্বিতীয় সন্তান। বাবা কাঠ মিস্ত্রির কাজ করে যে অর্থ উপার্জন তা দিয়ে কোন রকমে চলে সংসার। বাবা-মা দু’জনই নিরক্ষর হলেও একমাত্র ছেলে অতুল মেধায় পরিপূর্ণ।

এসএসসি ও এইচএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে পাস করে ব্যাপক সাড়া ফেলে দেন এলাকায়। বগুড়া শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পাওয়ায় তার লালিত স্বপ্ন পূরন হয়েছে। কিন্তু ভর্তির টাকা যোগান দিতে না পারায় হয়ে গেছে স্লান সে স্বপ্ন। দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার আদর্শপাড়া গ্রামের আলতাফ হোসেন ও রুবিনা বেগমের ছোট সন্তান রিফাত আহম্মেদ।

বাবা দিনমজুর। কোনো মতে সংসার চলে। দুই ছেলের মধ্যে ছোট এ ছেলে এসএসসি ও এইচএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে পাস করে। এবারে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় রংপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পাওয়ায় খুব খুশি। তবে স্বল্প আয়ের দরিদ্র এই শ্রমিক ভর্তির টাকা যোগান দিতে আজ দিশেহারা। ভর্তি হওয়ার টাকা জোগাড় করতে না পারলে রিফাতের স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে।

সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম আহম্মেদ ফারুক জানান, এবার এ কলেজ থেকে শতভাগ পাসসহ ৪০ জন দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। এদের মধ্যে কয়েকজন হতদরিদ্র পরিবারের সন্তানও রয়েছে যারা অত্যন্ত মেধাবী এবং অসম্ভব পরিশ্রমী।

কলেজে পড়ার সময় আমরা তাদের বিভিন্নভাবে সাহায্য করেছি। এসব প্রতিভাকে বিকশিত করতে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।