বাঘায় উদ্যোক্তা ফোরামের যাত্রা শুরু- লক্ষ্য বেকারত্ব ও সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ
বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি:
বেকারত্ব ও মাদক প্রতিরোধ, সাইবার অপরাধ থেকে তরুণদের দূরে রাখা এবং স্থানীয় পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে রাজশাহীর বাঘায় যাত্রা শুরু করেছে ‘বাঘা উপজেলা উদ্যোক্তা ফোরাম’। ই-কমার্স, ডিজিটাল মার্কেটিং ও প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানের মাধ্যমে তরুণদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলার পাশাপাশি স্থানীয় উৎপাদক ও অনলাইন উদ্যোক্তাদের মধ্যে সংযোগ স্থাপনে কাজ করবে সংগঠনটি।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টায় বাঘা উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আয়োজিত ‘বাঘা উপজেলা উদ্যোক্তা সম্মেলন-২০২৬’-এর মাধ্যমে ফোরামটির আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ঘটে। এতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভা থেকে নির্বাচিত ৫০ জন অনলাইন উদ্যোক্তা, গাছি, কৃষক এবং পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ী অংশ নেন।
সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বিশ্বমানের আম ও ঐতিহ্যবাহী খেজুরের গুড়ের জন্য বাঘার বিশেষ পরিচিতি রয়েছে। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর ভেজাল কার্যক্রম এবং তরুণদের একটি অংশের সাইবার অপরাধে জড়িয়ে পড়া উপজেলার ভাবমূর্তির জন্য উদ্বেগজনক। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় তরুণদের প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো জরুরি।
বক্তারা আরও বলেন, স্মার্টফোনকে অপরাধের মাধ্যম না বানিয়ে ই-কমার্স, ডিজিটাল মার্কেটিং, কনটেন্ট তৈরি ও ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজে ব্যবহার করা সম্ভব। এর মাধ্যমে তরুণেরা বৈধ আয়ের পথ খুঁজে পাবেন। পাশাপাশি বাঘার আম, খেজুরের গুড়সহ স্থানীয় পণ্য দেশব্যাপী বাজারজাত করার সুযোগও বাড়বে।
ফোরামের ঘোষিত চারটি প্রধান লক্ষ্য হলো—অনলাইন ও অফলাইন উদ্যোক্তাদের বিকাশ, বেকার তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে সাইবার অপরাধ ও মাদক থেকে দূরে রাখা, স্থানীয় উৎপাদকদের সঙ্গে অনলাইন বিক্রেতাদের সরাসরি সংযোগ স্থাপনে ডিজিটাল উদ্যোক্তা ডিরেক্টরি তৈরি এবং বাঘাকে সৎ ও দক্ষ উদ্যোক্তাদের মডেল উপজেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রশাসক তকি ফয়সাল তালুকদার। বিশেষ অতিথি ও আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিবন্ধীবিষয়ক কর্মকর্তা মনসুর রহমান, বাঘা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মহিদুল ইসলাম, বাঘা পৌর বিএনপির সভাপতি কামাল হোসেন এবং সহকারী প্রোগ্রামার আসাদুল ইসলাম। এ ছাড়া স্থানীয় রাজনৈতিক, সাংবাদিক ও সামাজিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সম্মেলনে ফোরামের পক্ষ থেকে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে পাঁচ দফা লিখিত প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়। প্রস্তাবনাগুলোর মধ্যে রয়েছে—ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও সৎ উদ্যোক্তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা; বেকার তরুণদের ই-কমার্স, ফ্রিল্যান্সিং ও ব্যবসা পরিচালনায় প্রশিক্ষণ এবং সহজ শর্তে ক্ষুদ্রঋণের ব্যবস্থা; সাইবার অপরাধ, মাদক ও অনলাইন পেমেন্ট প্রতারণা প্রতিরোধে উদ্যোক্তা হেল্প ডেস্ক গঠন; নিরাপদ পণ্য উৎপাদন, স্বাস্থ্যসম্মত প্যাকেজিং ও সাশ্রয়ী কুরিয়ারসেবা নিশ্চিত করা; এবং বাজারকে চাঁদাবাজিমুক্ত রেখে গণমাধ্যমে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সাফল্য তুলে ধরা।
সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বে উদ্যোক্তাদের পাঁচটি দলে ভাগ করে পণ্যের মূল্য নির্ধারণে স্বচ্ছতা, স্বাস্থ্যসম্মত প্যাকেজিং ও কুরিয়ার ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ব্যবহারিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
ফোরামের কার্যক্রম বছরব্যাপী পরিচালনার জন্য একটি কেন্দ্রীয় সমন্বয় পর্ষদ এবং চারটি স্থায়ী কার্যদল গঠন করা হয়েছে। কার্যদলগুলো হলো—বাজার ও মান, লজিস্টিকস ও কুরিয়ার, ডিজিটাল ডিরেক্টরি এবং প্রশিক্ষণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা দল।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে অংশগ্রহণকারীরা স্মার্টফোনকে কর্মসংস্থানের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার, খাঁটি পণ্য বাজারজাতকরণ এবং সৎ ব্যবসার মাধ্যমে বাঘার ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরার অঙ্গীকার করেন।
ফোরামসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন, স্থানীয় উৎপাদক, ব্যবসায়ী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে উঠলে বাঘার ঐতিহ্যবাহী পণ্যের বাজার সম্প্রসারিত হবে। একই সঙ্গে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তরুণদের সাইবার অপরাধ ও মাদক থেকে দূরে রাখার উদ্যোগ আরও গতিশীল হবে।
ডেইলী নিউজ বাংলা ডেস্ক 






















