ঢাকা ১০:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
ভেড়ামারায় পদ্মা নদীতে সন্ত্রাসীদের ছোড়া  গুলিতে ১ জন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রাজশাহীর পবায় ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে জামায়াত কর্মী আটক নাসীরুদ্দীনকে বাদ দিয়ে কর্মসূচি করুন, বিএনপি সহযোগিতা করবে : রাশেদ খান জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে তিনটি মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান সম্পূর্ণ ধ্বংস আমি যদি আমার ভাইয়ের সঙ্গেও ছবি দিই, সেখানেও গালি খাই: পরিমনি দৌলতপুরে ভিক্ষুকদের স্বাবলম্বী করতে ছাগল বিতরণ তালা উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত। দৌলতপুরে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত বোয়ালমারীতে ধর্ষণে  প্রতিবন্ধী অন্তস্বত্বা ২২ ধারার পর গ্রেপ্তার আরো দুই  নাগরপুর শহীদ ক্যাডেট স্কুল বনাম ডা. এম.এ. রেজা উচ্চ বিদ্যালয় প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত

রাজশাহীর পবায় ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে জামায়াত কর্মী আটক

রাজশাহীর পবায় ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে জামায়াত কর্মী আটক

রাজশাহী ব্যুরো: রাজশাহীর পবা উপজেলার বড়গাছি (পাকার মাথা)এলাকায় তৃতীয় শ্রেনীর এক শিশুকে(৯) প্রাইভেট পড়ানোর সুযোগে ধর্ষণ চেষ্টা অভিযোগ তুলে জামায়াত ইসলামী বাংলাদেশ এর এক কর্মীকে গ্রেফতার করেছে আরএমপি পবা থানা পুলিশ। এঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গ্রেফতারকৃত ঐ অভিযুক্তের নাম আবু বক্কর ওমর ফারুক। সে এলাকার ক্বারি মো: মজিবর রহমানের ছেলে। ওমর ফারুক এলাকায় ডাক্তারির পাশাপাশি মক্তবে কোরআন শিক্ষা দেন বলে তিনি স্বীকার করেন।

শুক্রবার (৩১জুলাই) বিকালে নিজ বাড়ি থেকে অভিযুক্ত ওমর ফারুককে গ্রেফতার করা হয়। এসময় স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারসহ এলাকার সর্বস্তরের মানুষ অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

​ভুক্তভোগী ৯ বছর বয়সী শিশুর পিতা আব্দুস সালাম পেশায় একজন কৃষক। অভিযুক্ত ওমর ফারুক দীর্ঘ ৬-৭ বছর ধরে এলাকায় গ্রাম্য ডাক্তারি করছেন এবং নিজ বাড়ির সাথে যুক্ত ফার্মেসি পরিচালনা করেন। পাশাপাশি তিনি ও তার স্ত্রী নিজেদের বাড়িতেই এলাকার ছোট ছোট শিশুদের প্রাইভেট পড়ান। ওমরের পরিবার এলাকায় ধর্মীয় চর্চার সাথে যুক্ত এবং তার বাবা মজিবুর রহমান ক্বারী হিসেবে বিভিন্ন বাড়িতে কোরআন শিক্ষা দেন।

প্রায় এক মাস পূর্বে প্রতিদিনের মতোই শিশুটি ওমর ফারুক ও তার স্ত্রীর কাছে প্রাইভেট পড়তে যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, পড়ালেখার এক পর্যায়ে অন্য শিশুদের কৌশল করে বিদায় করে দেন ওমর। উল্ল্যেখ, সেদিন পুরো বাড়ি ফাঁকা ছিল। পরে শিশুটিকে একা পেয়ে তার শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে স্পর্শ করেন এবং যৌন কামনা মেটানোর চেষ্টা করেন। ​

ঘটনার বিবরণ দিয়ে ভুক্তভোগী শিশুর বোন জানান, শিক্ষকতার মতো বিশ্বস্ত জায়গায় বসে ওমর এমন কুরুচিপূর্ণ কাজ করবে তা তারা কখনো ভাবেননি। শিশুটি বাসায় ফিরে কান্নাকাটি করে পুরো ঘটনা জানানোর পর তার মা বিষয়টি ওমরের বাবা মজিবুর রহমানকে জানাতে যান। কিন্তু মজিবুর রহমান এ নিয়ে কোনো বাড়াবাড়ি না করার জন্য নির্দেশ দেন। যেহেতু ঐ এলাকার প্রায় ৭০% জামায়ত অধ্যাসিত তাই তার পরিবার মুখ খুলতে ভয় পান। পরিবারটি এখন এই অপরাধের কঠোর বিচার দাবি করছে, যাতে আর কোনো শিশুর সাথে এমন ঘটনা না ঘটে। ​

ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বড়গাছি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রহিদুল জানান, শিক্ষক বা চিকিৎসকের মতো দুটি পেশার আড়ালে এমন অনৈতিক কাজ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তারা সামাজিক ও স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং দোষী ওমরের উপযুক্ত বিচার চান।

তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ওমর ফারুক ও তার পরিবার। ওমরের বাবা ক্বারী মজিবুর রহমান জানান, তার ছেলের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে। মেয়ের মা কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি বলেই তাকে বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে মানা করা হয়েছিল। অন্যদিকে অভিযুক্ত ওমর ফারুক দাবি করেন, শিশুটি মূলত তার স্ত্রীর কাছেই পড়তে আসে। সেদিন তার স্ত্রী না থাকায় তিনি পড়াচ্ছিলেন, তবে তিনি কোনো খারাপ কাজ করেননি। পরে গণমাধ্যমকর্মীরা থানা পুলিশকে অবগত করলে ঘটনাস্থলে পবা থানার অফিসার ইনচার্জসহ পুলিশের একটি টিম উপস্থিত হয়। পুলিশ উভয়কে জিজ্ঞেসাবাদ করে ঘটনার প্রাথমিকভাবে সত্য রয়েছে বলে গণমাধ্যমকে জানান। এরপর থানা পুলিশ ফারুককে গ্রেফতার করে পুলিশি হেফাজতে নেন।

​বর্তমানে পুরো এলাকায় এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। এলাকার সাধারণ মানুষ ধর্মীয় পরিচয় ও চিকিৎসার আড়ালে এমন অনৈতিক ঘটনার জন্য অবিলম্বে অভিযুক্ত ওমরের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাকে উপযুক্ত শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

ভেড়ামারায় পদ্মা নদীতে সন্ত্রাসীদের ছোড়া  গুলিতে ১ জন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি

রাজশাহীর পবায় ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে জামায়াত কর্মী আটক

আপডেট টাইম : ০৭:৪৫:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

রাজশাহীর পবায় ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে জামায়াত কর্মী আটক

রাজশাহী ব্যুরো: রাজশাহীর পবা উপজেলার বড়গাছি (পাকার মাথা)এলাকায় তৃতীয় শ্রেনীর এক শিশুকে(৯) প্রাইভেট পড়ানোর সুযোগে ধর্ষণ চেষ্টা অভিযোগ তুলে জামায়াত ইসলামী বাংলাদেশ এর এক কর্মীকে গ্রেফতার করেছে আরএমপি পবা থানা পুলিশ। এঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গ্রেফতারকৃত ঐ অভিযুক্তের নাম আবু বক্কর ওমর ফারুক। সে এলাকার ক্বারি মো: মজিবর রহমানের ছেলে। ওমর ফারুক এলাকায় ডাক্তারির পাশাপাশি মক্তবে কোরআন শিক্ষা দেন বলে তিনি স্বীকার করেন।

শুক্রবার (৩১জুলাই) বিকালে নিজ বাড়ি থেকে অভিযুক্ত ওমর ফারুককে গ্রেফতার করা হয়। এসময় স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারসহ এলাকার সর্বস্তরের মানুষ অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

​ভুক্তভোগী ৯ বছর বয়সী শিশুর পিতা আব্দুস সালাম পেশায় একজন কৃষক। অভিযুক্ত ওমর ফারুক দীর্ঘ ৬-৭ বছর ধরে এলাকায় গ্রাম্য ডাক্তারি করছেন এবং নিজ বাড়ির সাথে যুক্ত ফার্মেসি পরিচালনা করেন। পাশাপাশি তিনি ও তার স্ত্রী নিজেদের বাড়িতেই এলাকার ছোট ছোট শিশুদের প্রাইভেট পড়ান। ওমরের পরিবার এলাকায় ধর্মীয় চর্চার সাথে যুক্ত এবং তার বাবা মজিবুর রহমান ক্বারী হিসেবে বিভিন্ন বাড়িতে কোরআন শিক্ষা দেন।

প্রায় এক মাস পূর্বে প্রতিদিনের মতোই শিশুটি ওমর ফারুক ও তার স্ত্রীর কাছে প্রাইভেট পড়তে যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, পড়ালেখার এক পর্যায়ে অন্য শিশুদের কৌশল করে বিদায় করে দেন ওমর। উল্ল্যেখ, সেদিন পুরো বাড়ি ফাঁকা ছিল। পরে শিশুটিকে একা পেয়ে তার শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে স্পর্শ করেন এবং যৌন কামনা মেটানোর চেষ্টা করেন। ​

ঘটনার বিবরণ দিয়ে ভুক্তভোগী শিশুর বোন জানান, শিক্ষকতার মতো বিশ্বস্ত জায়গায় বসে ওমর এমন কুরুচিপূর্ণ কাজ করবে তা তারা কখনো ভাবেননি। শিশুটি বাসায় ফিরে কান্নাকাটি করে পুরো ঘটনা জানানোর পর তার মা বিষয়টি ওমরের বাবা মজিবুর রহমানকে জানাতে যান। কিন্তু মজিবুর রহমান এ নিয়ে কোনো বাড়াবাড়ি না করার জন্য নির্দেশ দেন। যেহেতু ঐ এলাকার প্রায় ৭০% জামায়ত অধ্যাসিত তাই তার পরিবার মুখ খুলতে ভয় পান। পরিবারটি এখন এই অপরাধের কঠোর বিচার দাবি করছে, যাতে আর কোনো শিশুর সাথে এমন ঘটনা না ঘটে। ​

ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বড়গাছি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রহিদুল জানান, শিক্ষক বা চিকিৎসকের মতো দুটি পেশার আড়ালে এমন অনৈতিক কাজ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তারা সামাজিক ও স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং দোষী ওমরের উপযুক্ত বিচার চান।

তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ওমর ফারুক ও তার পরিবার। ওমরের বাবা ক্বারী মজিবুর রহমান জানান, তার ছেলের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে। মেয়ের মা কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি বলেই তাকে বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে মানা করা হয়েছিল। অন্যদিকে অভিযুক্ত ওমর ফারুক দাবি করেন, শিশুটি মূলত তার স্ত্রীর কাছেই পড়তে আসে। সেদিন তার স্ত্রী না থাকায় তিনি পড়াচ্ছিলেন, তবে তিনি কোনো খারাপ কাজ করেননি। পরে গণমাধ্যমকর্মীরা থানা পুলিশকে অবগত করলে ঘটনাস্থলে পবা থানার অফিসার ইনচার্জসহ পুলিশের একটি টিম উপস্থিত হয়। পুলিশ উভয়কে জিজ্ঞেসাবাদ করে ঘটনার প্রাথমিকভাবে সত্য রয়েছে বলে গণমাধ্যমকে জানান। এরপর থানা পুলিশ ফারুককে গ্রেফতার করে পুলিশি হেফাজতে নেন।

​বর্তমানে পুরো এলাকায় এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। এলাকার সাধারণ মানুষ ধর্মীয় পরিচয় ও চিকিৎসার আড়ালে এমন অনৈতিক ঘটনার জন্য অবিলম্বে অভিযুক্ত ওমরের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাকে উপযুক্ত শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।