এম এ ওয়াহিদ রুলু,কমলগঞ্জঃ মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের বনগাঁও -১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালে এক শিক্ষিকার ঘুমিয়ে থাকার অভিযোগ উঠেছে। গত ২০ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয় পরিদর্শনের সময় সংবাদকর্মী শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করে সহকারী শিক্ষিকা নবনীতা সিনহাকে চেয়ারে বসে টেবিলের ওপর মাথা রেখে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
প্রায় ৫ থেকে ৭ মিনিট শ্রেণিকক্ষে অবস্থানকালে শিক্ষার্থীদের চেঁচামেচির শব্দে ওই শিক্ষিকার ঘুম ভাঙে বলে জানা গেছে।
এদিকে, ঘটনার সময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিতেন্দ্র কুমার সিংহ বিদ্যালয়ে ছিলেন না। মুভমেন্ট খাতায় তিনি বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের জন্য আদমপুর বাজারের পূবালী ব্যাংকে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। তবে ফোনে প্রধান শিক্ষক জানান, জরুরি প্রয়োজনে তিনি ভানুগাছ বাজারে অবস্থান করছেন। বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষিকা জানান, তিনি অফিসের কাজে উপজেলা সদরে গেছেন।
স্থানীয় এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ইচ্ছামতো আসা-যাওয়া করেন এবং অনেক সময় শিক্ষার্থীরা চেঁচামেচি করলেও শিক্ষকরা গল্পে ব্যস্ত থাকেন। স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতাও শিক্ষক উপস্থিতি ও নিয়মিত দায়িত্ব পালনে অনিয়মের অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, বিদ্যালয়টি প্রত্যন্ত এলাকায় হওয়ায় উপজেলা পর্যায় থেকে নিয়মিত তদারকি হয় না।
তবে স্থানীয়দের এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দীপ তালুকদার বলেন, শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে সরেজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এনামুর রহিম বাবর বলেন, স্কুলে ঘুমানোর কোনো সুযোগ নেই। অসুস্থ থাকলে ছুটি নিতে পারবেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তদন্তের পরই ক্লাস চলাকালে শিক্ষিকার ঘুমিয়ে থাকার ঘটনা এবং শিক্ষক উপস্থিতি নিয়ে ওঠা অভিযোগের প্রকৃত চিত্র জানা যাবে।
ডেইলী নিউজ বাংলা ডেস্ক 























