ঢাকা ০৯:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
দৌলতপুরে জমি নিয়ে বিরোধে বড় ভাইয়ের হাসুয়ার কোপে ছোট ভাই নিহত নাগরপুর শহীদ ক্যাডেট স্কুলে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি-২০২৬ পালিত ভেড়ামারায়  ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার কুষ্টিয়ায় নৌকা ভ্রমণে গিয়ে নিখোঁজ ছাত্রদল নেতা ভেড়ামারায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের শুভ উদ্বোধন ডেঙ্গু ঠেকাতে কুষ্টিয়ায় স্কাউটসের পরিচ্ছন্নতা অভিযান গাজীপুরে হেযবুত তওহীদের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত: জাতীয় ঐক্যের আহ্বান। দৌলতপুরে বাস-আলগামন সংঘর্ষে চালক নিহত,আহত একাধিক ভেড়ামারায় ডাঃ শামসুদ্দিন আহমেদের ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ফ্রি হেলথ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে রেজা আহমেদ বাচ্চু

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় শীমের বাম্পার ফলন !! সরকারী সুবিধা বঞ্চিত চাষীরা

সিলেট ব্যুরো : এ বছর আবহাওয়া অনূকুলে থাকায় সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় মৌসুমী সবজি শীমের বাম্পার ফলন হয়েছে। ফলে কৃষকদের মুখে ফুটে উঠেছে সোনালী হাসি। এখনো শীম ক্ষেতের পরিচর্যায় কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। ডিসেম্বরের প্রথম দিকে ফলন উটতে শুরু করবে বলে মনে করছেন চাষীরা। তবে অক্টোবর মাসের টানা কয়েক দিনের বৃষ্টির কারনে কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবছর জৈস্তাপুর উপজেলায় প্রায় ৩৫০ হেক্টর জমিতে বরবটি ও শীমের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেযোগ্য শীম চাষ হয়েছে উপজেলার নিজপাট ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামে।

চলতি বছরে অতিবৃষ্টি না থাকায় শীম ক্ষেতে তেমন একটা পোকামাকড়ের আক্রমন ছিল না, ফলে এবারের ফলন অন্য বছরের ন্যায় অধিক পরিমানে ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু অতি উৎসাহী কৃষকরা অধিক ফলনের আশায় অপরিকল্পিত  ভাবে সার ও কীটনাশক ব্যবহারে শীমের উৎপাদন হ্রাস পাওয়ার আশংকাও রয়েছে। সরেজমিন চাষীদের সাথে আলাপকালে তারা জানায়, বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে শীমের চাষ হচ্ছে, অথচ সরকারী ভাবে আমাদেরকে কোন রকম সুযোগ সুবিধা প্রদান করা হয় না। সার এবং কীটনাশক বাজার থেকে ক্রয় করলেও তার ব্যবহার সম্পর্কে আমাদের অনেক চাষীদের  নেই কোন ধারণা।

কৃষি অফিসের প্রতিনিধিরা মাঝে মধ্যে এসে ছবি তুলে চলে যান। অথচ একজন ক্লক সুপারভাইজার নিয়মিত শীমের বাগান পরিদর্শণ, পর্যবেক্ষণ এবং পরামর্শ দেওয়ার কথা। এব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার হুমায়ুন দিলদার’র সাথে আলাপকালে তিনি বলেন আমি জৈন্তাপুর উপজেলায় মাত্র কয়েক দিন হলো পদায়ন করেছি। এই উপজেলা সম্পর্কে আমার এখনো কোন ধারনা নেই। তবে শুনেছি এই উপজেলায় যতেষ্ট পরিমানে শীমের চাষ হয়। এখন পর্যন্ত শীম চাষ বা চাষীদের সাথে আমার  কোন যোগাযোগ হয়নি।

জৈন্তাপুর উপজেলার ১নং নিজপাট ইউনিয়নের কামরাঙ্গীখেল, পাখিবিল, আড়ছাউলী, হর্ণি, বাইরাখেল, নয়াগ্রাম, রূপচেং, লালাখাল,  গৌরী, দিগারাইল লক্ষী প্রসাদসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রতি বছর শীম চাষ হয়। উৎপাদিত শীম স্থানীয় চাহিদা পূরনের পাশাপাশি সিলেট শহর সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় রপ্তানী হয়ে থাকে। বাণিজ্যিক ভাবে শীম চাষ করে এই অঞ্চলের বহু মানুষের ভাগ্য বদল হয়েছে। স্বল্প পুজি বিনিয়োগ হলেও অধিক পরিশ্রমের মাধ্যমে সফল হতে হয় চাষীদেরকে। শীম চাষী মাহমুদ আলী বলেছেন, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শীম বাগানই আমাদের সবচেয়ে আপন। পোকামাকর দূর করতে ব্যবহৃত কীটনাশক আমাদের শারীরিক অনেক ক্ষতির কারনও হয়ে দাঁড়ায়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি কোন দিন সরকারীভাবে  ১ কেজি সারও পাই নি। আমার আসপাশে সরকারী কোন প্রতিনিধি শীম বাগান দেখতেও আসেনি।

দেশের কৃষি এবং কৃষকের জীবন-মান উন্নয়নের মাধ্যমেই কৃষি শিল্পকে উন্নত করা সম্ভব। তাই জৈন্তাপুর উপজেলার শীম চাষীদের সুবিধা-অসুবিধা দেখার দায়িত্ব কৃষি বিভাগের। তাদের সমস্যাগুলোর সমাধানে দৃষ্টি দেবে উপজেলা প্রশাসন, তবেই সম্ভাবনাময় হয়ে উঠবে জৈন্তাপুরের কৃষি।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

দৌলতপুরে জমি নিয়ে বিরোধে বড় ভাইয়ের হাসুয়ার কোপে ছোট ভাই নিহত

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় শীমের বাম্পার ফলন !! সরকারী সুবিধা বঞ্চিত চাষীরা

আপডেট টাইম : ১২:৪৬:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫

সিলেট ব্যুরো : এ বছর আবহাওয়া অনূকুলে থাকায় সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় মৌসুমী সবজি শীমের বাম্পার ফলন হয়েছে। ফলে কৃষকদের মুখে ফুটে উঠেছে সোনালী হাসি। এখনো শীম ক্ষেতের পরিচর্যায় কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। ডিসেম্বরের প্রথম দিকে ফলন উটতে শুরু করবে বলে মনে করছেন চাষীরা। তবে অক্টোবর মাসের টানা কয়েক দিনের বৃষ্টির কারনে কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবছর জৈস্তাপুর উপজেলায় প্রায় ৩৫০ হেক্টর জমিতে বরবটি ও শীমের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেযোগ্য শীম চাষ হয়েছে উপজেলার নিজপাট ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামে।

চলতি বছরে অতিবৃষ্টি না থাকায় শীম ক্ষেতে তেমন একটা পোকামাকড়ের আক্রমন ছিল না, ফলে এবারের ফলন অন্য বছরের ন্যায় অধিক পরিমানে ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু অতি উৎসাহী কৃষকরা অধিক ফলনের আশায় অপরিকল্পিত  ভাবে সার ও কীটনাশক ব্যবহারে শীমের উৎপাদন হ্রাস পাওয়ার আশংকাও রয়েছে। সরেজমিন চাষীদের সাথে আলাপকালে তারা জানায়, বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে শীমের চাষ হচ্ছে, অথচ সরকারী ভাবে আমাদেরকে কোন রকম সুযোগ সুবিধা প্রদান করা হয় না। সার এবং কীটনাশক বাজার থেকে ক্রয় করলেও তার ব্যবহার সম্পর্কে আমাদের অনেক চাষীদের  নেই কোন ধারণা।

কৃষি অফিসের প্রতিনিধিরা মাঝে মধ্যে এসে ছবি তুলে চলে যান। অথচ একজন ক্লক সুপারভাইজার নিয়মিত শীমের বাগান পরিদর্শণ, পর্যবেক্ষণ এবং পরামর্শ দেওয়ার কথা। এব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার হুমায়ুন দিলদার’র সাথে আলাপকালে তিনি বলেন আমি জৈন্তাপুর উপজেলায় মাত্র কয়েক দিন হলো পদায়ন করেছি। এই উপজেলা সম্পর্কে আমার এখনো কোন ধারনা নেই। তবে শুনেছি এই উপজেলায় যতেষ্ট পরিমানে শীমের চাষ হয়। এখন পর্যন্ত শীম চাষ বা চাষীদের সাথে আমার  কোন যোগাযোগ হয়নি।

জৈন্তাপুর উপজেলার ১নং নিজপাট ইউনিয়নের কামরাঙ্গীখেল, পাখিবিল, আড়ছাউলী, হর্ণি, বাইরাখেল, নয়াগ্রাম, রূপচেং, লালাখাল,  গৌরী, দিগারাইল লক্ষী প্রসাদসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রতি বছর শীম চাষ হয়। উৎপাদিত শীম স্থানীয় চাহিদা পূরনের পাশাপাশি সিলেট শহর সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় রপ্তানী হয়ে থাকে। বাণিজ্যিক ভাবে শীম চাষ করে এই অঞ্চলের বহু মানুষের ভাগ্য বদল হয়েছে। স্বল্প পুজি বিনিয়োগ হলেও অধিক পরিশ্রমের মাধ্যমে সফল হতে হয় চাষীদেরকে। শীম চাষী মাহমুদ আলী বলেছেন, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শীম বাগানই আমাদের সবচেয়ে আপন। পোকামাকর দূর করতে ব্যবহৃত কীটনাশক আমাদের শারীরিক অনেক ক্ষতির কারনও হয়ে দাঁড়ায়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি কোন দিন সরকারীভাবে  ১ কেজি সারও পাই নি। আমার আসপাশে সরকারী কোন প্রতিনিধি শীম বাগান দেখতেও আসেনি।

দেশের কৃষি এবং কৃষকের জীবন-মান উন্নয়নের মাধ্যমেই কৃষি শিল্পকে উন্নত করা সম্ভব। তাই জৈন্তাপুর উপজেলার শীম চাষীদের সুবিধা-অসুবিধা দেখার দায়িত্ব কৃষি বিভাগের। তাদের সমস্যাগুলোর সমাধানে দৃষ্টি দেবে উপজেলা প্রশাসন, তবেই সম্ভাবনাময় হয়ে উঠবে জৈন্তাপুরের কৃষি।