ঢাকা ০৫:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
নতুন ধান কাটা ও মাড়াইয়ে ব্যস্ত তিস্তা চরাঞ্চলের কৃষক সাভার-আশুলিয়ায় ডিবির পৃথক অভিযানে দুই মাদক কারবারি ও ডাকাতি মামলার আসামি গ্রেপ্তার ভেড়ামারায় আবু হাজী জহির উদ্দিন স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণী ‎ রানীনগরে ইসলামী ব্যাংকের টাকা ছিনতাই নাটকের রহস্য উন্মোচন গ্রেফতার ৬ সিলেটস্থ তাহিরপুর সমিতির কমিটি গঠন ভেড়ামারায় জমি নিয়ে বিরোধে হামলা, ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ ‎ ভেড়ামারায় অনুমোদনহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির দায়ে ফার্মেসীকে জরিমানা দৌলতপুরে মাদ্রাসাছাত্রকে বলাৎকারের চেষ্টার অভিযোগ, সংঘর্ষে ওসিসহ আহত সিলেটের ট্রেনের টিকেট অনলাইনে আসা মাত্র হাওয়া, কালোবাজারীদের সনাক্ত করতে মামলা পেটে গজ রেখে সেলাইয়ে প্রসূতির মৃত্যু চিকিৎসকসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে পরোয়ানা

নতুন ধান কাটা ও মাড়াইয়ে ব্যস্ত তিস্তা চরাঞ্চলের কৃষক

মোঃ মশিয়ার রহমান, নীলফামারী: উত্তরের জেলা নীলফামারীর তিস্তার চরগুলোতে ‘মঙ্গা তাড়ানো আগাম জাতের ধান’ কাটা- মাড়াই শুরু হয়েছে। কিষান কৃষাণিরা তাই ব্যস্ত সময় পার করছেন ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজে। আগাম নতুন ফসল ঘরে তুলতে সীমাহীন আনন্দে চরের চাষিরা। অনেকে বাড়িতে করছে নবান্ন উৎসব। চলতি বছর কয়েকবার আকস্মিক স্বল্প মেয়াদি বন্যায় সেচ ছাড়াই চরাঞ্চলে আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে।

কৃষকরা জানায়, তিস্তার চরে প্রতিবছর বন্যায় আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি হলেও এ বছর তেমন কোনো ক্ষতি করতে পারেনি সর্বনাশী তিস্তা। চলতি মৌসুমে গত বছরের তুলনায় ফসল কম হলেও ধানের বর্তমান বাজার দরে সন্তুষ্ট চাষিরা। চলতি বছর বিঘা (৩০ শতক) প্রতি ১২ থেকে ১৪ মণ করে আমন ধান পেয়েছেন। এ বছর সার, কীটনাশক, ডিজেলসহ কৃষি উপকরণের দাম বৃদ্ধি তাই আমন ধান উৎপাদনে খরচ বেশি। তবে বর্তমান ধানের বাজার মূল্য বেশি হওয়ায় লাভের আশা চাষিদের।

ডিমলা উপজেলার ঝুনাগাছচাপানী ইউনিয়ন দক্ষিণ সোনাখুলী কুঠিপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, প্রচণ্ড রোদে তিস্তার চরে কৃষকেরা আমন ধান কাটছেন। অনেকে কাটা ধান ঘরে তুলতে নৌকা দিয়ে পার করছেন। আবার কেউ কেউ বালু চরের মধ্যেই ধান মাড়াই করে বস্তায় ভরছেন। তবে বেশিরভাগ কৃষকের বাড়ি নদীর তীরবর্তী এলাকায় হওয়ায় নৌকা দিয়ে নদী পার করছেন। চরাঞ্চলে আগাম আমন ধান কাটা মানেই কৃষকের মনে উৎসবের আমেজ বিরাজ করে।

উত্তরাঞ্চল জেলা নীলফামারীতে প্রতিবারই বছর শেষে কৃষক ও দিনমজুর পরিবারে খাদ্য সংকট দেখা দিত। সেই সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য এই প্রচেষ্টা, আগাম জাতের ধানের চাষাবাদ। এই ধানচাষ শুরু হওয়ার পর এখন আর সেই সংকট নেই। অধিকাংশ কৃষক পরিবারের ওঠোনই এখন নতুন ধান ও খড়ে পরিপূর্ণ।

উপজেলার ঝুনাগাছচাপানী ইউনিয়নের দক্ষিণ সোনাখুলী কুঠিপাড়া এলাকায় আগাম জাতের ধান মাড়াইয়ের কাজ করছিলেন সামসুল হক ও রবিউল ইসলাম সহ কয়েকজন কৃষক। তারা জানান, একসময় এ অঞ্চলে খুবই মঙ্গা ছিল। মানুষ কাউন ও গমের ভাত খেত। কিন্তু ১০-১২ বছর ধরে এ অঞ্চলে আগাম জাতের ধান চাষাবাদ হওয়ায় মঙ্গা দূর হয়েছে। অন্য ধানের চেয়ে এক মাস আগেই আগাম জাতের ধান পাকে। তাই এই ধান্যক মঙ্গা তাড়ানো ধান হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

তিস্তার চরের কৃষক ছাইয়াকুল ইসলাম বলেন, এই মঙ্গা তাড়ানো ধানের চেয়ে খড়ের চাহিদা ও মুনাফা বেশি। প্রতি বছরই ছোট-বড় খামারিদের মাঝে গরুর খাদ্য হিসেবে খড় সংকট দেখা দেয়। সেই সংকট পূরণে আগাম জাতের ধান কেটে মাড়াই করে দিচ্ছেন স্থানীয় কৃষি শ্রমিকরা। বিঘাপ্রতি ১০-১২ মণ ধান হলেও প্রতি আঁটি খড় পাঁচ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা গো-খাদ্য হিসেবে বেশ চাহিদা এ অঞ্চলে।

আরেক কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, এ বছর খরার কারণে আগের তুলনায় ধান কম হয়েছে। তারপরেওবিঘা(দোন) প্রতি ১২/১৪ মণ করে ধান হবে। এখন বাজারে ধানের দাম বেশি তাই লোকসান হওয়ার শঙ্কা নেই।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

নতুন ধান কাটা ও মাড়াইয়ে ব্যস্ত তিস্তা চরাঞ্চলের কৃষক

নতুন ধান কাটা ও মাড়াইয়ে ব্যস্ত তিস্তা চরাঞ্চলের কৃষক

আপডেট টাইম : ০৫:১০:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

মোঃ মশিয়ার রহমান, নীলফামারী: উত্তরের জেলা নীলফামারীর তিস্তার চরগুলোতে ‘মঙ্গা তাড়ানো আগাম জাতের ধান’ কাটা- মাড়াই শুরু হয়েছে। কিষান কৃষাণিরা তাই ব্যস্ত সময় পার করছেন ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজে। আগাম নতুন ফসল ঘরে তুলতে সীমাহীন আনন্দে চরের চাষিরা। অনেকে বাড়িতে করছে নবান্ন উৎসব। চলতি বছর কয়েকবার আকস্মিক স্বল্প মেয়াদি বন্যায় সেচ ছাড়াই চরাঞ্চলে আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে।

কৃষকরা জানায়, তিস্তার চরে প্রতিবছর বন্যায় আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি হলেও এ বছর তেমন কোনো ক্ষতি করতে পারেনি সর্বনাশী তিস্তা। চলতি মৌসুমে গত বছরের তুলনায় ফসল কম হলেও ধানের বর্তমান বাজার দরে সন্তুষ্ট চাষিরা। চলতি বছর বিঘা (৩০ শতক) প্রতি ১২ থেকে ১৪ মণ করে আমন ধান পেয়েছেন। এ বছর সার, কীটনাশক, ডিজেলসহ কৃষি উপকরণের দাম বৃদ্ধি তাই আমন ধান উৎপাদনে খরচ বেশি। তবে বর্তমান ধানের বাজার মূল্য বেশি হওয়ায় লাভের আশা চাষিদের।

ডিমলা উপজেলার ঝুনাগাছচাপানী ইউনিয়ন দক্ষিণ সোনাখুলী কুঠিপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, প্রচণ্ড রোদে তিস্তার চরে কৃষকেরা আমন ধান কাটছেন। অনেকে কাটা ধান ঘরে তুলতে নৌকা দিয়ে পার করছেন। আবার কেউ কেউ বালু চরের মধ্যেই ধান মাড়াই করে বস্তায় ভরছেন। তবে বেশিরভাগ কৃষকের বাড়ি নদীর তীরবর্তী এলাকায় হওয়ায় নৌকা দিয়ে নদী পার করছেন। চরাঞ্চলে আগাম আমন ধান কাটা মানেই কৃষকের মনে উৎসবের আমেজ বিরাজ করে।

উত্তরাঞ্চল জেলা নীলফামারীতে প্রতিবারই বছর শেষে কৃষক ও দিনমজুর পরিবারে খাদ্য সংকট দেখা দিত। সেই সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য এই প্রচেষ্টা, আগাম জাতের ধানের চাষাবাদ। এই ধানচাষ শুরু হওয়ার পর এখন আর সেই সংকট নেই। অধিকাংশ কৃষক পরিবারের ওঠোনই এখন নতুন ধান ও খড়ে পরিপূর্ণ।

উপজেলার ঝুনাগাছচাপানী ইউনিয়নের দক্ষিণ সোনাখুলী কুঠিপাড়া এলাকায় আগাম জাতের ধান মাড়াইয়ের কাজ করছিলেন সামসুল হক ও রবিউল ইসলাম সহ কয়েকজন কৃষক। তারা জানান, একসময় এ অঞ্চলে খুবই মঙ্গা ছিল। মানুষ কাউন ও গমের ভাত খেত। কিন্তু ১০-১২ বছর ধরে এ অঞ্চলে আগাম জাতের ধান চাষাবাদ হওয়ায় মঙ্গা দূর হয়েছে। অন্য ধানের চেয়ে এক মাস আগেই আগাম জাতের ধান পাকে। তাই এই ধান্যক মঙ্গা তাড়ানো ধান হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

তিস্তার চরের কৃষক ছাইয়াকুল ইসলাম বলেন, এই মঙ্গা তাড়ানো ধানের চেয়ে খড়ের চাহিদা ও মুনাফা বেশি। প্রতি বছরই ছোট-বড় খামারিদের মাঝে গরুর খাদ্য হিসেবে খড় সংকট দেখা দেয়। সেই সংকট পূরণে আগাম জাতের ধান কেটে মাড়াই করে দিচ্ছেন স্থানীয় কৃষি শ্রমিকরা। বিঘাপ্রতি ১০-১২ মণ ধান হলেও প্রতি আঁটি খড় পাঁচ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা গো-খাদ্য হিসেবে বেশ চাহিদা এ অঞ্চলে।

আরেক কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, এ বছর খরার কারণে আগের তুলনায় ধান কম হয়েছে। তারপরেওবিঘা(দোন) প্রতি ১২/১৪ মণ করে ধান হবে। এখন বাজারে ধানের দাম বেশি তাই লোকসান হওয়ার শঙ্কা নেই।